গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনে পঙ্গুত বরণকারী যুবদল নেতা বদরুল আলমকে দেখার কেউ নেই ! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনে পঙ্গুত বরণকারী যুবদল নেতা বদরুল আলমকে দেখার কেউ নেই !

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৬

গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনে পঙ্গুত বরণকারী যুবদল নেতা বদরুল আলমকে দেখার কেউ নেই !

13962529_1174403425934803_3909561761214914721_nবিগত ৫ জানুয়ারী বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গিরে রেখেছে পুলিশ। বাসার সামনে বালুবরতি ট্রাক। বাসার বিদুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা পর্যন্ত যখন দেশের গণতন্ত্র ঠিক সেই মুহুতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে দেশব্যাপী চলছে গণতন্ত্রী মুক্তি আন্দোলন। সেই মুক্তি আন্দোলন শহীদ হন শত শত নেতাকর্মী পঙ্গুত বরণ করেন কয়েক হাজার নেতা কর্মী। তাদের একজন সিলেট যুবদলের ত্যাগী পরিশ্রমি নেতা সবার শ্রদ্ধে বদরুল আলম। প্রিয় নেত্রী প্রতি এহেন ন্যাক্ষারজনক আচরনের প্রতিবাধে রাজপথে ছুটে আসেন দক্ষিণ সুরমার বদরুল আলম ।

আন্দোলনের মাঠ থেকে গ্রেফতার হন বদরুল আলম। গ্রেফতারের পর আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নির্যাতন নিপীড়ন চালায় তার উপর। পরবর্তীতে দীর্ঘ ৮/৯ মাস পর জামিনে মুক্তি পান বদরুল আলম। মুক্তি পেয়ে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় পঙ্গুত বরণের দিকে।

রাজপথই অবশেষে কাল হয়ে দাড়ায় বদরুলের জীবনে, যৌথবাহীনি গ্রেফতার করে বদরুলকে এবং গ্রেফতার পরবর্তি সময়ে নির্যাতনের ষ্টীমরোলার চালানো হয় তার উপর । ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয় দুটি পা, নির্যাতনের কারনে ক্ষতিগ্রস্হ হয় শরিরের বিভিন্ন অঙ্গ, প্রত্যঙ্গ। অসুস্হ শরীর নিয়ে আট মাস পর জামিনে বেরিয়ে আসেন বদরুল। পিতা-মাতার শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে চিকিৎসকের সরনাপন্ন হয়ে চেষ্টা করেন শারিরিক সুস্হতার, কিন্তুু অভাবের সংসারে যা ছিল সবই শেষ, এখন কি করবে বদরুল? বদরুল কি অবশেষে পঙ্গুত্ববরন করবে? বদরুলের মতো দলে একটি নিবেদিত কর্মি , তাকে কি কেউ বাঁচাতে আসবে না? দলের বিত্তবানদের কাছ থেকে কি কোন সহানুভূতি পাবে না বদরুল ? নাকি ধুকে ধুকে মরতে বসবে সে ?

যুবদল নেতা বদরুল কে নিয়ে কামাল হাসান জুয়েল ফেইসবুক পোষ্ট:  

দক্ষিন সুরমা ছাত্রদলের পরিচিত মুখ স্নেহাশীষ ছোট ভাই বদরুল আলমের জন্য ছাত্রনেতা আশরাফুল আলম আহাদের একটি হৃদয় বিদারক পোষ্ট নতুন করে মনের মাঝে তীব্র নাড়া দিল. ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন পূর্ব আন্দোলনে পুলিশী অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয় আমার পার্শ্ববর্তী এলাকার এই ছোট ভাইটি.তার চিকিৎসার্থে যাদের কে এগিয়ে আসার কথা কেউ আসেনি.জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে বসবাসকারী বদরুলের এই করুন দুর্দশার কথা যুবনেতা শামসুল ইসলাম টিটুর মুখে শুনে তাহার সমস্ত ডকুমেন্ট যুক্তরাজ্য হেল্প সেলের কাছে পাঠাই কিছু দিন আগে যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক কামাল উদ্দিনের মাধ্যমে.তার কাছ থেকে আশ্বাস পাই সবার সাথে আলোচনা করে যতটুকু পারা যায় বদরুলের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করা হবে.আজ হঠাৎ করে আশরাফুল আলম আহাদের ফেসবুক স্টাটাস পড়ে ফোন দেন সিলেটের তৃনমূল বিএনপির প্রান,কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক শুদ্বাভাজন শামসুজ্জামান জামান ভাই,আমাকে বলেন বদরুলের ডিটেলস জানানোর জন্য.সরকারের রোষানলে পড়ে অসংখ্য মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে সুদূর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেও যদি দলীয় নির্যাতনের শিকার কর্মীদের জন্য জামান ভাইয়ের মন কাদেঁ,তাহলে যারা দেশে ও বিদেশে স্বচ্ছল দলীয় নেতা তারা কি পারিনা এই অসহায় পঙ্গুত্ব বরনকারী বদরুলের সাহাষ্যে এগিয়ে আসতে???

ছাত্রদলের আশরাফুল আলম আহাদ ফেইসবুক পোষ্ট:

পঙ্গুত্ববরনের পথে বদরুল………!!
দক্ষিন সুরমার বদরুল ভাই।।

পরিচয়টা সিলেট কেন্দ্রিয় কারাগারে, দুজনের বাসস্হান ছিল মেডিকেল ০৪নং ওয়ার্ডে।
একি ওয়ার্ডে থাকার সুবাধে পাশাপাশি বেডে থাকতাম,দল পাগল ভাইটি সিনিয়র জুনিয়র সমন্বয় করে চলতে পছন্দ করতো,পছন্দ করতো দলের মধ্যে নির্যাতিত নীপিড়িত কর্মিদের।

পরিচয়ে প্রথম থেকে কেমন জানি অসুস্হ অসুস্হ মনে হত, পরিচয়কালিন সময় প্রশ্ন করলাম আসলে অসুস্হ কিনা?

ভাইটি উত্তর দিলো অসুস্হ ছিলাম না..
রক্ষীবাহীনির নিষ্টুর নির্যাতনে অসুস্হ হয়েছি বিগত কয়েকদিন আগে…

তিনি জানালেন…
নেত্রী যখন বালুরট্রাকে অবরুদ্ধ, নেত্রীর বাসার যখন বিদ্যুৎ লাইন অবৈধ সরকার কতৃক কেটে দেওয়া হয়, নেত্রীকে যখন খাবার দিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, সর্বোপরি গনমাণুষের নেত্রীকে যখন জনগন থেকে বিছিন্ন করে দেওয়া হয় তখন ক্ষুভে, দুঃখে, অভিমানে কিছু বন্ধুবান্ধব ও জুনিয়রদের নিয়ে রাজপথে নেমে এর প্রতিবাদ জানান, প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টার করেন।

দক্ষিণ সুরমার রাজপথে প্রতিবাদ /প্রতিরোধের সময় যৌতবাহীনি ঘিরে ফেলে এবং এক পর্যায়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতার পরবর্তি সময়ে পুলিশলীগ কতৃক রাজপথেই নির্যাতন চালানো হয়, যেই নির্যাতনে প্রথমেই দুই পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

রক্ষীবাহীনির সদস্যরা পা ভাঙ্গা অবস্হায় গাড়ির চাকার সাথে পিষ্ট করার পায়তারা করে কিন্তু আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের অশেষ দয়ায় কিছু সাংবাদিক ব্যাপারটি দেখে ফেলায় নিশ্চিত মৃত্যুর পথ থেকে বেচে যান প্রিয় বদরুল ভাই।

পরের দিন একটি বিষ্কোরক মার্ডার মামলা দিয়ে আদালতে তুলে আবারো রিমান্ড চাওয়া হয়, আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে থানায় নিয়ে দফায় দফায় চালানো হয় নিষ্টুর নির্যাতন।
যেই নির্যাতন মধ্য যুগের বর্বরতাকেও হার মানাবে….

রিমান্ড নির্যাতন শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়, কারাগারে থাকতে হয় প্রায় আট মাস,

এই আট মাসেই বিনা চিকিৎসায় দেহের মূল্যবান যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যায়।

বিকল দেহ নিয়ে জামিনে বেরিয়ে মায়ের অতি যত্নের গহনা বাবার কষ্টাজিত হালের বলদ বিক্রি করে চিকিৎসার উদ্ধোগ নেন।

ডাক্তাররা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্হ দু-পায়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকার,ভবিষ্যতে হয়ত এর চরম মূল্য দিতে হবে।

একটাই পথ দেশের বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা কিন্তুু টাকা কই?মা-বাবার কষ্টাজিত টাকাতো সবই শেষ,জনদরদী নেতারা কি আসবে বদরুল নামের কর্মিকে বাঁচাতে??

এই বদরুল ভাইয়ের মত দু চার কর্মির পিছনে দু-চার লক্ষ টাকা খরচ করার মত লোকের অবাব অন্তত বিএনপিতে নেই কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি….!!

সুবিধাবাদী নেতারা খোয়াব দেখে বদরুলদের মত কর্মিদের রক্তের সিঁড়িঁ বেয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে আর তারা ভাইয়া গ্রুপ ঘটন করে অবৈধ পন্তায় কোটি কোটি টাকা উপার্জন করবে?

শালাদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে কেননা তারা বদরুলদের চোখে দেখে ও না দেখার ভান করে..
এই দল আজ হাজারো বদরুলদের অভিশাপে অভিশপ্ত।
যতদিন এই দল নির্যাতিত, নীপিড়িত কর্মিদের মূল্যায়ন করবে না ততদিন হয়ত মাজা ভাংগা কোমর নিয়ে বিএনপি আর ঘুরে দাড়াতে পারবেনা।

পরিশেষে বদরুল ভাইয়ের ব্যাপারে কিছুই বলার নেই, টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করতে না পারলেও অন্তত নির্যাতিত বদরুলের একটু খোজ খবর নিন।
পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করেন।

বদরুল ভাইয়ের সুস্হতা ও দীঘ্রায়ু কামনা করি।।

 

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল