গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে বচসা, বেখেয়াল স্বাস্থ্যবিধি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে বচসা, বেখেয়াল স্বাস্থ্যবিধি

প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০

গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে বচসা, বেখেয়াল স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট শহর থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদর পর্যন্ত এক সময় ভাড়া ছিল ৯ টাকা। এরপর তা বেড়ে হয় ২৫ টাকা।

করোনাকালে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির পর ওই সড়কে ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। এভাবে সিলেটের সবক’টি আঞ্চলিক সড়কে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের বাদানুবাদ এখন নিত্যদিনের ঘটনা।

বেশি দিন আগের কথা নয়, সিলেট-তামাবিল আঞ্চলিক সড়কে ১ টাকা ৯৩ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাসে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছিলেন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১৭ পরগনার মানুষ। এবার সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া ৪৫ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা দিয়ে যাতায়াত করছেন তারা। সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় আপত্তি না করলেও পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন যাত্রীরা।

করোনাকালে সীমিত আকারে চলা গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে স্বল্প যাত্রী নিয়ে ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নিয়ম করে দিয়েছে সরকার। এই নিয়ম প্রথম কিছুদিন মানা হলেও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সেই নিয়ম এখন মানছেন না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

পরিবহন মালিকরা সরকার নির্ধারিত ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলেও স্বাস্থ্যবিধি শর্তের প্রতি অনেকটাই বেখেয়াল। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে তার চেয়েও কম বাড়া নিচ্ছি আমরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়তি ৬০ শতাংশ ভাড়া আদায় করলেও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মানছেন না পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রীরা আপত্তি করলেও তাদের অভিযোগকে পাত্তা দিচ্ছেন না তারা। তাই সরকারের প্রতি অতিরিক্ত ভাড়া কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

আন্তঃজেলা গণপরিবহনের সঙ্গে মিল রেখে আঞ্চলিক সড়কগুলোর গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও সেখানে স্বাস্থ্যবিধি সিকি আনাও মানা হচ্ছে না।

সিলেট থেকে ইউনিক পরিবহনে ঢাকার উদ্দেশে যাওয়া আরমান আহমদ বলেন, সরকারের করা নিয়ম মানলে ভাড়া বৃদ্ধিতে অভিযোগ নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার বিষয়টি নজরে আনা দরকার।

কলেজছাত্র রেজা আহমদ বলেন, সরকার নিয়ম করে দিয়েছে। তাই মানতে হয়। কিন্তু ক্ষতি দেখিয়ে ভাড়া বেশি নেওয়া সত্ত্বেও অনেক বাসে যাতায়াতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে না।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণপরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, করোনাকালে ক্ষতি স্বীকার করেও শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

ইউনিক বাস সার্ভিসের ব্যবস্থাপক সাঈফ রহমান বলেন, করোনা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক রয়েছে। যে কারণে এখন যাত্রী হয় মাত্র ৩০/৩৫ শতা্ংশ। আর ঢাকা-সিলেটের ভাড়া আগে ছিল ৪৭০ টাকা, এখন ৭৫০ টাকা। চট্টগ্রাম ছিল ৭শ’ টাকা। এখন এক হাজার ১শ’ টাকা।

এনা পরিবহনের এসি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান শিপলু বলেন, এখন আগের মতো যাত্রী নেই। ৪০ সিটের বাস ২০ জন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে। সামাজিক দূরত্ব মানতে দুই সিটের বিপরীতে একজন যাত্রী যাতায়াত করেন। যাত্রীর ওপর ভাড়া বেশি হলেও বাস মালিকদেরও লোকসান হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগে এসি বাস সার্ভিসে ঢাকার ভাড়া ছিল ১২০০ টাকা। এখন সরকারি নির্ধারিত ১৮০০ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা রাখা হয়। আর আগে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০টি গাড়ি ছেড়ে যেত। এখন ৭/৮টি গাড়ি ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছেড়ে যায়।

সাইদুর রহমান শিপলু আরও বলেন, নন-এসি গাড়িতে আগে ভাড়া ছিল ৪৭০ টাকা। এখন ৭৫০ টাকা রাখা হয়। এখন দুই সিট ব্যবহার করেও ভাড়া কম আদায় হচ্ছে। অনেক সময় স্বল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও ভাড়া নিয়ে যাত্রীরা আপত্তি তোলেন।

সাগরিকা পরিবহনের মালিক কামরান আহমদ বলেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার তালিকায় সিলেট-বগুড়া ১৩৬৮ টাকা, নওগাঁ ১১২০ টাকা ভাড়া। আগে নেওয়া হতো ৭০০ টাকা। সিলেট-রংপুরে রুটে সরকার নির্ধারিত ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির পর ভাড়া ১৯২০ টাকা। আগে ছিল ৮০০ টাকা। যাত্রী নেই তাই নেওয়া হচ্ছে ১২০০ টাকা। কুমিল্লায় ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির পর ৭৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আগে ভাড়া ছিল ৪০০ টাকা। দুই সিটের হিসেবে এই টাকার পরিমাণ আগের ভাড়ার চেয়েও কম। তারপরও যাত্রী মেলে না। তাই ভাড়ায় ছাড় দিতে হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল