গণিতে ক্যালকুলেটর নিতে না দেয়ায় বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৫০ পরীক্ষার্থী আহত – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গণিতে ক্যালকুলেটর নিতে না দেয়ায় বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৫০ পরীক্ষার্থী আহত

প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০

গণিতে ক্যালকুলেটর নিতে না দেয়ায় বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৫০ পরীক্ষার্থী আহত

অনলাইন ডেস্ক:
এসএসসির গণিত পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে না দেয়ার প্রতিবাদে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দুই কেন্দ্রে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে পরীক্ষার্থীরা। এ সময় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার সকালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা শেষে শিবচর নন্দকুমার মডেল ইনস্টিটিউশন ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালানো হয়।

জানা যায়, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এসএসসির গণিত পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে না দেয়ায় বুধবার আইসিটি পরীক্ষা শেষ করে সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই প্রথমে নন্দকুমার ইনস্টিটিউশন ভেন্যুর পরীক্ষার্থীরা ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব শুরু করে। শিবচর নন্দকুমারের শিক্ষার্থীরা খবর পেয়ে পরীক্ষা শেষ করে শেখ ফজিলাতুন্নেছা পাইলট সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ভবনে দরজা-জানালা ভাঙচুর শুরু করে। প্রায় একই সঙ্গে দুটি স্কুলে ভাঙচুর চলতে থাকে।

শিবচর নন্দকুমার ভেন্যুতে প্রায় ৩০টি কক্ষ এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা ভেন্যুর প্রায় ১০টি কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে তারা। ভাঙচুর ও তাণ্ডব চলাকালীন সাধারণ শিক্ষার্থীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি ভাঙচুর ও তাণ্ডবের কারণে ছোটাছুটি করতে গিয়ে প্রায় ৫০ জন সাধারণ পরীক্ষার্থী আহত হয়।

এ সময় পুলিশকে অনেকটা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর প্রশাসন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানায়, এসএসসি পরীক্ষায় সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর পরীক্ষায় ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও মঙ্গলবার গণিত পরীক্ষায় শিবচর নন্দকুমার ভেন্যুতে ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয়। যে কারণে আমাদের গণিত পরীক্ষা খারাপ হয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শেখ ফজিলাতুন্নেছা বিদ্যালয় ও নন্দকুমার ইনস্টিটিউশনের দুই প্রধান শিক্ষক প্রায় প্রতিবছরই অবৈধ সুযোগ নিয়ে তাদের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভালো ফল দেখানোর জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা করেন। এমনকি বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূত কাজ করে পরীক্ষার ফল ভালো করাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সচেষ্ট থাকেন। ওই দুই শিক্ষকের স্নায়ুযুদ্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে না পেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যালকুলেটর ছাড়া পরীক্ষার হলে ঢুকে অনেক শিক্ষার্থী প্রায় আধা ঘণ্টা পর্যন্ত কান্নাকাটি করেছে।

এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নন্দকুমার ইনস্টিটিউশনের ভেন্যুতে ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। এরপর প্রতিবাদে আজ বুধবার প্রথম নন্দকুমার ভেন্যুতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর চালায়। পরে দ্রুত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় ভেন্যুতেও ভাঙচুর চালায়। আজ শেখ ফজিলাতুন্নেছা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে ১১০২ শিক্ষার্থী ও নন্দকুমার ভেন্যুতে ৯৮০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশে বাধা দেয়ায় গণিত পরীক্ষা বিঘ্নিত হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে। গতকালের ওই ঘটনা কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা বুধবার আইসিটি পরীক্ষা শেষে উত্তেজিত হয়ে এসএসসি পরীক্ষার দুই কেন্দ্রে ভাঙচুর করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল