গত কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢলে শিশুসহ নয়জন আহত ! ১৬ গ্রাম প্লাবিত – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গত কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢলে শিশুসহ নয়জন আহত ! ১৬ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিত: ১:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৬

গত কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢলে শিশুসহ নয়জন আহত ! ১৬ গ্রাম প্লাবিত

cf96592fddfc1d7c21bb25eb076535d8-5পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল, গোয়ালবাড়ী ও ফুলতলা ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। আড়াই শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দুটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জুড়ী ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় টিলা ধসে শিশুসহ নয়জন আহত হয়েছে।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
জুড়ী (মৌলভীবাজার): জুড়ীতে পাহাড়ি ঢলে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে সাগরনাল, গোয়ালবাড়ী ও ফুলতলা ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল ও গুচ্ছগ্রাম এলাকায় টিলা ধসে ৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জুড়ী নদী, রাঘনাছড়া ও ধলাইছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এতে সাগরনাল ইউনিয়নের উত্তর সাগরনাল, উত্তর বড়ডহর, দক্ষিণ বড়ডহর, বরইতলি, কাশিনগর, হোসেনাবাদ, কাপনা পাহাড় চা-বাগান ও জাঙ্গালিয়া, গোয়ালবাড়ীর মন্ত্রীগাঁও, পূর্ব শিলুয়া, যোগীমোড়া ও পশ্চিম শিলুয়া এবং ফুলতলার কোনাগাঁও, ফুলতলা বস্তি, বটুলি ও ধলাইর হাওর এলাকা প্লাবিত হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, সাগরনালের বরইতলি গ্রামে জুড়ী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্থানের ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। দক্ষিণ সাগরনাল গ্রামের বাসিন্দা তানজির আহমদ বলেন, ঢলের পানিতে তাঁর পোলট্রি খামার তলিয়ে যাওয়ায় চার হাজার মুরগির বাচ্চা মরে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার রাতে জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল ও গুচ্ছগ্রামে টিলা ধসে কয়েকটি কাঁচা ঘর ভেঙে পড়ে। এতে মনতৈল গ্রামের আক্কেল আলী (৫৫), তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০), ছেলে আল ইসলাম (১২) ও মেয়ে সাহিদা বেগম (১০), সিরাজ মিয়া (৬০), তাঁর ছেলে মন্নান মিয়া (১২) আহত হয়। জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাছুম রেজা বলেন, গুচ্ছগ্রাম ও মনতৈল গ্রামে টিলা ধসে ৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাগরনাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তাঁর এলাকার কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী। বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অন্তত শতাধিক খামারের মাছ ভেসে গেছে। ফুলতলা ইউপির চেয়ারম্যান ফয়াজ আলী বলেন, ঢলের কারণে তাঁর এলাকার দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী। ১১টি কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
গোয়ালবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত এক হাজার মানুষ পানিবন্দী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী চাওয়া হবে।
মৌলভীবাজার: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কয়েক দফা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বড়লেখা পৌরসভার উত্তর চৌমোহনা এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে এলাকার দুই শতাধিক দোকানে পানি উঠেছে। এ ছাড়া বড়লেখা-শাহবাজপুর সড়কের উত্তর চৌমোহনা এবং বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ এলাকা কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কাঁঠালতলি বাজার এলাকায় অর্ধশতাধিক দোকানে পানি উঠেছে। একইভাবে পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদিত্বের মহল এবং বড়লেখা সদর ইউনিয়নের গঙ্গারজল এলাকাতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে পৌরসভার পানিধার এলাকার ৩০টি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
সিলেট: সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণে মঙ্গলবার মধ্যরাতে টিলা ধসে তিনজন আহত হয়েছেন। এঁরা হলেন ভটেরপাড়া গ্রামের ইকন মিয়া (৭৫), তাঁর ছেলে আবদুল হামিদ (৪২) ও নাতি মাহদী (৫)। এলাকাবাসী জানান, ইকন মিয়ার বাড়ির একদিকে টিলা। রাত দুইটার দিকে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে টিলার একাংশ ধসে ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় ইকন মিয়ার পরিবারের ১০ সদস্য ঘরের মধ্যে অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, ধসে পড়া টিলার মাটি স্থানীয় লোকজন সরিয়ে ফেলেছেন।