গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিল, যা বললেন আজহারী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিল, যা বললেন আজহারী

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিল, যা বললেন আজহারী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘ওয়াজ’ শব্দটি হলো একটি আরবি শব্দ। সহজ বাংলায় ওয়াজ অর্থ হলো ধর্মীয় উপদেশ, নসিহত, ধর্মীয় বক্তব্য বা ভাষণ, ধর্মসভা ইত্যাদি। যেহেতু ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা ফরজে আইন এবং দ্বীনি মাহফিলের দ্বারা আসল উদ্দেশ্য ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা। তাই প্রতিটি এলাকায় ইসলামের সুমহান বাণীকে সাধারণ মানুষের নিকট পৌঁছানোর লক্ষ্যে সম্পূর্ণ অনাড়ম্বরভাবে বছরে একাধিকবার দ্বীনি মাহফিল করা হয়ে থাকে। আর এ দ্বীনি মাহফিলের সংক্ষিপ্ত নামই হলো ‘ওয়াজ’।

আর বর্তমানে ওয়াজ মাহফিলে মাইকের ব্যবহার অত্যাবশ্যকীয়। তবে ওয়াজ মাহফিলে প্রয়োজনীয় মাইক ব্যবহার সবার কাম্য। দূর-দূরান্তে ও বাজার-ঘাটে অপ্রয়োজনীয় মাইক ব্যবহারে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। এতে শরিয়তবিরোধী অনেক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়, যেমন—নামাজির নামাজে ও ঘুমন্ত ব্যক্তির ঘুমে ব্যাঘাত হয়, অসুস্থ ব্যক্তির কষ্ট হয়। বিভিন্ন বৈধ কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের কাজে ও মনোযোগে ব্যাঘাত হয়। মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হয়, এমন জোরে কোরআন তেলাওয়াতকেও ফিকাহবিদরা অবৈধ বলেছেন। (ফাতহুল কদির ১/২৯৮, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৩/৫৫২, জিকর ও ফিকির, পৃষ্ঠা ২৬)

উমর (রা.)-এর যুগে জনৈক ব্যক্তি মসজিদে-নববীতে এসে প্রতিদিন বিকট আওয়াজে ওয়াজ শুরু করে, এতে পাশেই হুজরায় অবস্থানরত হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাজে ব্যাঘাত হতো, তাই তিনি উমর (রা.)-কে বিষয়টি অবহিত করলে ওমর (রা.) ওই লোককে নিষেধ করে দেন। লোকটি কিছুদিন পর আবার ওয়াজ শুরু করলে ওমর (রা.) এসে তাকে শাস্তি দেন।’ (আখবারু মাদিনা : ১/১৫)

এ ব্যাপারে দেশের শীর্ষ আলেমদের প্রায় সবাই ‘সারারাত মাহফিল’ ও ‘অতিরিক্ত মাইক’ নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মসজিদ, হেফজখানা, মাদরাসা, স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা বিবেচনা না করে গায়ের জোরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান-বাজনা, বিভিন্ন দিবস পালন করা এদেশে রেওয়াজ আছে বটে—তবে ধর্মের ব্যাপারে যেন এমন অসাবধানতা কেউ না করতে পারে, এ ব্যাপারে সমাজের সচেতন ব্যক্তি, ওলামায়ে কেরাম, ইমাম-খতিবদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ করেন।’

এব্যাপারে সময়ের আলোচিত বক্তা ড. মিজানুর রাহমান আজহারী এক মাহফিলে বলেন, বেশ কয়েক বছর যাবত, গভীর রাত পর্যন্ত মাহফিলের কুফল নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামে কথা বলে আসছিলাম। প্রথম প্রথম যারা শুনত তারা বলতো দিনের বেলা কি লোকজন আসবে?

আলহামদুলিল্লাহ, পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এখন দিনের মাহফিলেও দ্বীনি ভাইবোনরা স্বত:স্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। পরিবর্তনের ছোয়া লাগুক সর্বত্র, ধীরে ধীরে, আত্মোপলব্ধি থেকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •