গায়েবী শ্রমিকের রোজ ৬ হাজার টাকা কানাইঘাট হাসপাতালে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ( পর্ব-২) – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গায়েবী শ্রমিকের রোজ ৬ হাজার টাকা কানাইঘাট হাসপাতালে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ( পর্ব-২)

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

গায়েবী শ্রমিকের রোজ ৬ হাজার টাকা কানাইঘাট হাসপাতালে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ( পর্ব-২)

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রায় কোটি টাকার বিল উত্তোলনে নানা অনিয়ম দুর্নীতির মধ্যে এবার গায়েবী লোকজনের নাম ভাঙ্গিয়ে আরো প্রায় ২লক্ষ টাকা উত্তোলন করে সম্পুর্ণ আত্মসাত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালের নানা অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য খুজতে গিয়ে এসবের বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে দেখা যায় গত ১১ জুন হাসপাতালের টিএইচও ডাঃ শেখ শরফ উদ্দিন নাহিদ ও অফিস সহায়ক শামীম আহমদের স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক বিল ভাউচারে হাসপাতালের পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনের ময়লা আর্বজনা পরিষ্কারের কাজ দেখিয়ে ৭১ হাজার এ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু যে শ্রমিকরা কাজ করেছেন তারা যেন গায়েবী শ্রমিক। কারন ভাউচারে যেসব শ্রমিকের নাম ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে সরজমিনে সেসব শ্রমিকের খোজ মিলেনি। এমনকি এসব গায়েবি শ্রমিকের রোজ পড়েছে গড়ে প্রায় ৬ হাজার টাকা করে। এসব ভাউচারে চোখ রেখে দেখা যায় গত ৪ আগস্ট পৌরসভার বায়মপুর গ্রামের কলিমুল্লাহর পুত্র বেলালকে ৪ দিনের মজুরী দেওয়া হয়েছে ২৪ হাজার ৫’শত টাকা, গত ২০ জুন রায়গড় গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের পুত্র বশির আহমদকে ৪ দিনের মজুরী দেয়া হয়েছে ২২ হাজার টাকা ও মহেষপুর গ্রামের সালিক আহমদের পুত্র বুলবুলকে ৪দিনের মজুরী দেওয়া হয়েছে ২৪ হাজার ৫শত টাকা। অথচ সরেজমিনে এসব কাজের কোন হদিস মিলেনি এমনকি নিজ নিজ এলাকায় এসব শ্রমিকের খোজ নিয়ে দেখা যায় তারা যেন গায়েবী শ্রমিক। এ ছাড়াও পৃথক আরেকটি ভাউচারে দেখা যায় টিএইচও ডাঃ শেখ শরফ উদ্দিন নাহিদ ও অফিস সহায়ক শামীম আহমদ হাসপাতালের বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র ও স্টেশনারী মালমাল ক্রয় দেখিয়ে কাদির ভেরাটিজ ষ্টোরের মেমো দিয়ে গত ১১জুন ১ লক্ষ ২২ হাজার ৮৬৪ টাকা উত্তোলন করেছেন। খোজ নিয়ে যায় কানাইঘাট হাসপাতালের সামনে কাদির ভেরাটিজ ষ্টোরের সত্বাধিকারী পৌরসভার রায়গড় গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে আব্দুল কাদির গত ৩ বছর থেকে মধ্যপ্রচ্যের সৌদীআরবে রয়েছেন। অথচ তার ব্যবসা প্রতিষ্টানের মেমো তৈরী করে সীল, স্বাক্ষর জালিয়াতি করে হোটেলের খাবার বিলের ভুয়া মেমো’র মত আসবাবপত্র ও ষ্টেশনারী মালামাল ক্রয়ের মেমো জাল করে তৈরী করা হয়েছে। এ ভাবে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রায় কোটি টাকা উত্তোলনে নানা অনিয়ম-র্দুনীতির ফিরিস্তি ধীরে ধীরে উঠে আসছে। এসব ফিরিস্তি যেন বালিশ কান্ডের মত যেন না হয় এমন প্রত্যাশা কানাইঘাটবাসীর………….পরবর্তী পর্বে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল