গুলজারের কর্মকান্ডে অতিষ্ট কুচাই এলাকাবাসী, সে আওয়ামীলীগের কেউ না: সভাপতি সাইফুল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গুলজারের কর্মকান্ডে অতিষ্ট কুচাই এলাকাবাসী, সে আওয়ামীলীগের কেউ না: সভাপতি সাইফুল

প্রকাশিত: ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৬

গুলজারের কর্মকান্ডে অতিষ্ট কুচাই এলাকাবাসী, সে আওয়ামীলীগের কেউ না: সভাপতি সাইফুল

14798753_1073757809407897_131094935_nস্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতার শক্তি দেখাতে ব্যস্ত দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়নের দুই নেতা। সম্প্রতি তাদের কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন এলাকাবাসী। তাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যকে হাসিল করতে একের পর এক কোন্দল ছড়িয়ে এলাকার উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন। যে কোন সময় এই কোন্দলের বিস্ফোরন ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এমনই আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

আওয়ামীলীগ একটি সুসংগঠিত দল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে এই দল। যেখানে কোন কুলাঙ্গার, বদমাস, নরপিশাচের স্থান নেই। অথচ এই আওয়ামীলীগ সাইনবোর্ড লাগিয়ে দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়নের প্রভাবশালী হাজী গুলজার আহমদ শুরু করছেন এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা আর কোন্দল। অশ্লীল ভাষায় কথা বলছেন সাধারণ নেতাদের সাথে। যা কোন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরে বৈশিষ্ট নয়।

এ দুই নেতার হীন কার্যকলাপের কারণে কুচাই ইউনিয়নে বর্তমান সরকার দল আওয়ামী লীগে গ্রুপ উপ-গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি বিদ্যমান। কুচাই ইউনিয়নের দক্ষিণ সুলতানপুর গ্রামের মৃত হাজী আইয়ুব আলী দ্বারা মিয়ার ছেলে হাজী গুলজার আহমদ ও কুচাই গ্রামের মৃত আলতাব উদ্দিনের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন মিঠুর মধ্যে চলছে এ বিরোধ।

দু-জনের মধ্যকার এ বিরোধ শুধু এলাকায় নয়, সোস্যাল মিডিয়ায় সমানতালে চলছে পক্ষে বিপক্ষে প্রচার প্রচারণা, নিন্দা ও প্রতিবাদ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনের পূর্বে কুচাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে গুলজার আহমদ নিজের ছবি ও আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে এলাকায় ব্যানার ফেস্টুন পোস্টার লাগিয়ে প্রচারণা শুরু করেন, পরে আওয়ামী লীগের উপর মহলের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে আসেন। তখন দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয় তরুন সমাজসেবী ও যুবলীগ নেতা জাকিরুল আলম জাকিরকে।

এ নির্বাচনে প্রথমে এক ঘরের দুই ভাই চেয়ারম্যান হিসেবে প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় সেই সময়ে মিশ্র-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, গুলজার আহমদ ও তার আপন চাচাতো ভাই বিএনপি নেতা পরপর চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কালামের প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে প্রার্থী হন তিনি।

চলতি বছরের ৭ জুনের নির্বাচনে আবুল কালাম বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। জাকিরুল আলম জাকিরের ভরাডুবির পেছনে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং রাজনীতিকেই দায়ি করেন অনেকে। গুলজার আহমদের মতো ঐ নির্বাচনের পূর্বে কুচাই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন মিঠু চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষনা করে চারিদিকে ছবি সম্ভলিত পোস্টার লাগিয়েছিলেন, পরে দলীয় নির্দেশে তিনি ও নির্বাচন থেকে সরে আসেন।

তখন খোদ ইউনিয়ন যুবলীগের মধ্যে দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়, বর্তমানে একটির নেতৃত্বে রয়েছেন মিঠু, আর আড়ালে থেকে অপরটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন গুলজার আহমদ।

অপরদিকে কুচাই আওয়ামী লীগের মধ্যেও দুটি গ্রুপের সৃষ্ঠি হয়েছে। বর্তমান কুচাই আওয়ামী লীগের সভাপতি আনা মিয়া ইউনিয়নে নেতৃত্ব প্রদান করলেও গুলজার আহমদ এককভাবে নিজে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। সম্প্রতি গুলজার আহমদ ও ইকবাল হোসেন মিঠুর মধ্যে দেখা দেয় বিরোধ।

গত ১৮ অক্টোবর মঙ্গলবার গুলজার আহমদ মোগলাবাজার থানায় নিজের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে ইকবাল হোসেন মিঠুর নাম উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং- ৭১১।

অন্যদিকে থানায় গুলজার আহমদের সাধারণ ডায়েরীর সূত্রধরে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও স্থানীয় দৈনিকে মিঠুর বিরুদ্ধে একের পর এক সংবাদ প্রতিবেদন আসতে থাকে। গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় মিঠুর ছবিসহ সংবাদ প্রচার হওয়াতে পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে রূপ নেয়। এলাকার স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘিœত হওয়ার কথা উল্লেখ করে কুচাই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন মিঠুর উপর দায়ের করা সাধারণ ডায়েরী ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় ৪নং কুচাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন।

এব্যাপারে কুচাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমান আনা মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন জানান, আওয়ামীলীগ নামধারী হাজী গুলজার আহমদ কোন আওয়ামীলীগ নেতা নয়। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য সে আওয়ামীলীগের সাইনবোর্ড লাগিয়ে সে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে আসছে। যুবলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন মিঠুর উপর আওয়ামী লীগ নামদারী গুলজার মিথ্যা সাধারণ ডায়েরী করে এলাকার সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। তারা জানান, কুচাই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কোন স্থায়ী বা অস্থায়ী কার্যালয় নাই। সে কুচাই গ্রামের পশ্চিম পার্শ্বের একটি কলনীতে জুয়া খেলার আসর ও মদ-হিরোইনের আস্তানায় অস্থায়ী কার্যালয় নাম লাগিয়ে ফায়দা লুটছে। তারা আরো যুবলীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন মিটু সৎ ও আদর্শবান একজন নেতা। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য ছিল ইকবাল হোসেন মিঠুু সেই লক্ষে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কুচাই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনকে সুসংগঠিত করে রেখেছেন। এমন নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাধারণ ডায়েরী ও অপপ্রচার করে যারা নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে পরিচয় দিচ্ছে তাদের এমন হীন অপচেষ্টা সফল হতে দেবেনা কুচাই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। তারা অবিলম্বে মিথ্যা সাধারণ ডায়েরী প্রত্যাহার ও বিশৃঙ্খরা সৃষ্টির জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।

গুলজার আহমদ ও মিঠুর বিরোধের বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, এ ধরণের কর্মকান্ডে দলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে, গুলজার আহমদ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই, তিনি পত্র-পত্রিকায় যেভাবে নিজেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিচ্ছেন, তা মিথ্যা, গুলজার আহমদ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির কোনো সদস্য পদে ও নেই, আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে এ বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সভা করে বিহীত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক বরইকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রইছ আলী বলেন, গুলজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কেউ না, বর্তমানে কুচাইয়ে যে বিরোধ চলছে, তা সম্মেলনের পরপরই সবাই বসে এ বিরোধ নিস্পত্তি করবেন বলে জানান তিনি।

কুচাই ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি ছাদেক আলী বলেন, মিঠু যুবলীগের সভাপতি, সে চুর ছিনতাইকারী নয়, থানায় গুলজার আহমদ কর্তৃক প্রদান করা সাধারণ ডায়েরীতে যা লিখা হয়েছে, তা নোংরামি ছাড়া আর কিছু নয়। কুচাই ইউপি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল লয়েছ বলেন, পদ-পদবিহীন নেতা গুলজার নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে যেসব কর্মকান্ড করছেন, তাতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, গুলজার আহমেদের দায়ের করা সাধারণ ডায়েরীর সঠিক তদন্ত করলে তা মিথ্যা প্রমাণিত হবে, গুলজার আহমদ নব্য শিল্পপতি হয়ে টাকার অপ-ব্যবহার করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০১৬, রবিবার

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল