গুলজার বাহিনীকে লালন করছে হাফিজ, ফারুক ও আলা উদ্দিন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গুলজার বাহিনীকে লালন করছে হাফিজ, ফারুক ও আলা উদ্দিন

প্রকাশিত: ১:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৬

গুলজার বাহিনীকে লালন করছে হাফিজ, ফারুক ও আলা উদ্দিন

Hafj & golger২২ আগস্ট ২০১৬, সোমবার: সিলেট নগরীর শেখঘাট খুলিয়াপাড়ায় থেমে থাকেনি লাশের মিছিল। গুলজার বাহিনীর হাতে একের পর এক করে খুন হয়েছে একই পরিবারে চার সদস্য। এ যেন ওই এলাকায় খুনী গুলজার বাহিনীর ত্রাসের রাজত্ব। আর এ বাহিনীকে লালন করছেন স্থানীয় ভূমিখেকো দুই প্রবাসী । তারা হচ্ছেন এলাকার সৈয়দ আফতাবের ছেলে প্রবাসী সৈয়দ হাফিজ ও প্রবাসী ফারুক মাহমুদ চৌধুরী। আর এদের আইনী শেল্টারে রয়েছেন সিলেট জেলা প্রশাসকের (অবঃ) সিও আলা উদ্দিন। ওই তিন ব্যক্তির অর্থায়ন ও শেল্টারে শেখঘাট খুলিয়াপাড়ায় গত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে দুর্ধর্ষ গুলজার বাহিনী। আর এ বাহিনী রোষানলে পড়ে একেএকে খুন হয়েছে একই পরিবারের তিন সহোদর শেখ নজরুল ইসলাম, শেখ ফখরুল ইসলাম, কলেজছাত্র শেখ সোহান ইসলাম ও সর্বশেষ শেখ সোহান ইসলামের পিতা শেখ তাজুল ইসলামসহ মোট চারজন। শনিবার (২০আগস্ট) রাতে শেখ সোহান খুনের স্থানেই খুন করা হয় তার পিতা শেখ তাজুল ইসলামকে।
এসময় শেখ তাজুল ইসলামের স্ত্রী ও ছেলেরা চিকিৎসার্থে ছিলেন ভারতে। খবর পেয়ে রোববার রাতেই তাজুল ইসলামের বিধবা সাবেক কাউন্সিলর শাহান বেগম শানু তার অনাথ সন্তানদের নিয়ে দেশের বাসায় ফিরেছেন। সোমবার বিকেলে নিহত তাজুল ইসলামের দাফন সম্পন্নের পর মামলা হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার বাদী হচ্ছেন তাজুলের বিধবা সাবেক কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানু।এর আগে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট করে তাজুলের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মামলার আসামী হিসেবে যাদের নাম জানা গেছে, তারা হচ্ছে, প্রবাসী সৈয়দ হাফিজ, খুনী সন্ত্রাসী গুলজার, গুলজার বাহিনীর সদস্য সবুজ, পিচ্চি শাকিল, সুলেমান ,তোফায়েল,রিপন,কৃষ্ণ,আব্দুস সালাম টিপু, রুমন,কাইয়ুম, সৈয়দ আপ্তাব ও দুলালসহ কয়েকজন। এর আগে ঘটনার রাতে তাৎক্ষনিক পুলিশ কর্তৃক আটক গুলজার, গুলজারের ভাই দুলাল , গুলজারের পুত্র সুলেমান আহমদ ও ঘাতক সৈয়দ হাফিজের ভাই সৈয়দ আপ্তাব আলীকে রোববার বিকেলে ৫৪ ধারায় আদালতে চালান দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের আগেই এদেরকে জামিনে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য আলাউদ্দিনসহ একটি মহল তৎপর হয়ে উঠেছে এবং ঘটনার নেপথ্যের নায়ক প্রবাসী সৈয়দ হাফিজও দেশ ত্যাগের চেষ্টায় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত শনিবার(২০আগস্ট) রাতে নগরীর বন্দরবাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে শেখঘাটস্থ গরমদেওয়ান মাজারের সামনে গুলজার ও হাফিজ বাহিনীর হাতে খুন হন খুলিয়া পাড়ার শেখ তাজুল ইসলাম। তাজুলদের ৫তলা একটি ভবনসহ তিনটি বাসা ও এর অধীন ১৫শতক ভূমি জবরদখলে নেয়ার লক্ষ্যে পরপর একই পরিবারে এ চারটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।এলাকায় বসবাস শুরুর পরই ১৯৯০সালে গুলজার বাহিনীর হাতে খুন হন সদ্য নিহত তাজুল ইসলামের বড়ভাই শেখ নজরুল ইসলাম, এসময় তাজুল ইসলামকেও গুরুতর আহত করা হয়। পরে ২০০৭ সালে খুন হন তাদের আরেক ভাই শেখ ফখরুল ইসলাম, ২০১৪ সালের ২৬জানুয়ারী খুন হয় তাজুল ইসলামের ছেলে মদনমোহন কলেজছাত্র সোহান ইসলাম এবং গত ২০আগস্ট রাতে খুন হন তাজুল ইসলাম।
তাজুল হত্যাকান্ডের পর পুলিশ এঘটনার জের ধরে ফের যাতে কোন অঘটন না ঘটে, সেজন্য ওই এলাকা ঘেরাও করে রেখেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল