“গোয়াইনঘাটে প্রবাসী মন্ত্রীর উন্নয়নের মাইলফলক, ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র” – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

“গোয়াইনঘাটে প্রবাসী মন্ত্রীর উন্নয়নের মাইলফলক, ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র”

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

“গোয়াইনঘাটে প্রবাসী মন্ত্রীর উন্নয়নের মাইলফলক, ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র”

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :
বন্যাপ্রবণ ও নদীভাঙ্গন এলাকায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাওঁ ইউনিয়নের আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ উচ্চবিদ্যালয়ের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটির কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদ এন্ড কোং, ১৫২/২, কে-২ গ্রীন রোড, ঢাকা-১২০৫ -। নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নের দশগাঁও নয়াগাঁও উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটির কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিভাইন এন্টারপ্রাইজ,
৫১, পশ্চিম রাজারবাজার, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা-১২১৫। এবং রুস্তুমপুর ইউনিয়নের
কুপার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ – টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি রুস্তুমপুর ইউনিয়নের রুস্তুমপুর কলেজ, তোয়াকুল ইউনিয়নের তোয়াকুল কলেজ, আলীরগাওঁ ইউনিয়নের আলীরগাওঁ কলেজসহ আরো ৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণর প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। উল্লেখিত প্রতিষ্টান সমূহে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ হলে বন্যাপ্রবণ ও নদীভাঙ্গন এলাকায় দুর্যোগকালীন সময়ে আক্রান্ত মানুষের জীবন, প্রাণী সম্পদ ও অন্যান্য সম্পদের আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া প্রকল্পভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী করা এবং প্রকল্প এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নত পরিবেশে শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ জরুরি সাড়াদান ও সুরক্ষার মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বন্যাপ্রবণ ও নদী ভাঙ্গন এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে ৮টি আশ্রয় কেন্দ্র। এগুলো নির্মিত হলে দুর্যোগকালীন সময়ে বিপদাপন্ন মানুষ ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং প্রাণী সম্পদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া অন্য সময় আশ্রয় কেন্দ্রগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উন্নত পরিবেশ দেওয়া যাবে। বন্যা ‘প্রবণ ও নদীভাঙ্গন এলাকায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটির আওতায় গোয়াইনঘাটে ৮টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়। গোয়াইনঘাটের ৮ টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র বাস্তবায়নে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছর থেকে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র গুলির কাজ শুরু হলেও সবকটির কাজ শেষ করতে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময় লাগবে।

এব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুস সাকিব জানান,বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। অধিক জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান, গ্রীস্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় বেসিনে অবস্থান এবং সক্রিয় বর্ষাকালে অতি বৃষ্টি দুর্যোগপ্রবণতার মূল কারণ। বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে গ্রীস্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প ও বড় মাত্রার ঘূর্ণিঝড় নিয়মিতভাবে দেখা দেয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রায় ২৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড বন্যা কবলিত হয়। ব্যাপকভাবে বন্যা হলে দেশের ৫৫ শতাংশের অধিক ভূখণ্ড বন্যার প্রকোপে পড়ে। প্রতি বছর গড়ে বাংলাদেশে তিনটি প্রধান নদীপথে মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আদ্র মৌসুমে ৮৪৪ মিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি প্রবাহিত হয়। বৃষ্টির কারণে দেশের অভ্যন্তরে ১৮৭ মিলিয়ন কিউবিক মিটার নদী প্রবাহ সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে নদী, খাল, বিল, হাওর ও নিচু এলাকা ছাড়িয়ে সমস্ত জনপদ পানিতে ভেসে যায় এবং ফসল, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সহায়-সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে।

 

এ ছাড়া প্রতি বছর এ দেশের লাখ লাখ মানুষ নদীভাঙ্গনের শিকার হয়। মাঠের শস্য, ক্ষেত ও বসতভিটার ভূমি নদীভাঙ্গনের মাধ্যমে বিলীন হয়ে যায়। বাংলাদেশের সর্বমোট প্লাবণভূমির প্রায় ৫ শতাংশ ভূমি প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙ্গনের কবলে পড়ছে। তাই প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্যার সময়ে মানুষ জনকে সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করছে।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল