গোয়াইনঘাটে সূর্যমুখী ফুল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে, এগিয়ে এসেছেন তরুণ চাষী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গোয়াইনঘাটে সূর্যমুখী ফুল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে, এগিয়ে এসেছেন তরুণ চাষী

প্রকাশিত: ৪:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

গোয়াইনঘাটে সূর্যমুখী ফুল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে, এগিয়ে এসেছেন তরুণ চাষী

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধিঃ সিলেটে গোয়াইনঘাট উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী ফুল চাষে চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। বাড়ছে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা, তাই সম্প্রসারিত হচ্ছে সূর্যমুখীর খেত। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের বীরকুলি এলাকার একজন সহকারী শিক্ষক ফখরুল ইসলাম এক বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। প্রথমবার বীজ রোপণে সূর্যমুখী ফুলের ফলনও ভালো হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এবার প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান ও সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এক জন তরুণ ফুলচাষী শিক্ষক ফখরুল ইসলাম । জানা গেছে, এ বছর উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের বীরকুলী দক্ষিণ পাড়া পূর্ব মাঠে ৩৩শতক জমিতে চাষী ফখরুল ইসলাম পরীক্ষা মূলক ভাবে হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে গাছে ফুল ধরেছে। সরজমিনে ফখরুলের সূর্যমুখী ফুল বাগান ঘুরে দেখা যায়, অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে এ সূর্যমুখী বাগান । এ যেন এক ফুলের রাজ্য,এখানে এসে ভ্রমণ পিপাসুদেরও মন আনন্দে ভরে ওঠে। সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে মনোরম পরিবেশে শোভা পাচ্ছে হলুদ রঙের সূর্যমুখী। দূর থেকে যে কারো মন কেড়ে নেবে অপরূপ দৃশ্যটি। সূর্যমুখীর বাগানে দর্শনার্থীদের পদচারণা বেড়েছে বলে জানান তিনি । মাঠে সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। সূর্যমুখী ফুল চাষি ফখরুল ইসলাম প্রতিবেদক কে জানান, আগে তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতেন। এবছর উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি প্রথমবারের মতো হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। কৃষকদের সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহী করতে তার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। ইতোমধ্যেই প্রতিটি গাছে ফুল ধরেছে। সূর্যমুখী চাষে এবার সফলতা ও লাভের আশা করছেন তিনি। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছে। বাগানে ফুল আসার পর প্রতিদিনই লোকজন আসছে বাগান দেখতে। তিনিও আশা করছেন আগামীতে সরকারি ট্রেনিং ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাওয়া গেলে আরো বড় পরিসরে সূর্যমুখী চাষ করে বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হওয়ার। উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কৃষি কর্মকর্তা জীবনকৃষ্ণ রায় জানান, পূর্নবাসনের আওতায় উপজেলার ৪২০ জন উপকারভোগী কৃষকের মধ্যে এক কেজি করে ৪২০ কেজি সূর্যমুখী ফুলের বীজ দেওয়া হয়েছে এবং উপজেলার ৬০ জন কৃষক পরিবারের মধ্যে সূর্যমুখী চাষের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। উপরোক্ত প্রদর্শনীর মধ্যে ৭০% প্রদর্শনীর সূর্যমুখী ফুলের ভালো ফলন হয়েছে। ৩০% প্রদর্শনী সময় মত পানি না দেওয়া এবং পানি না পাওয়ার কারণে নষ্ট হয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার সুলতান আলী বলেন, আগে গোয়াইনঘাট উপজেলার কোনও কৃষক সূর্যমুখী ফুলের চাষ করতেন না। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবারই প্রথম সরকারের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে এবার গোয়াইনঘাটে বেশ কিছু কৃষক সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছেন। সূর্যমুখী বীজ রোপণের ৯০-১০৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা ফুল থেকে বীজ ঘরে তুলতে পারবেন। তিনি আরও জানান, যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোন প্রকার ক্ষতি না হয় তাহলে প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মণ সূর্যমূখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। ১ মণ বীজ থেকে ১৮ কেজি তেল পাওয়া যাবে। বিঘা প্রতি থেকে কৃষক ১০-১১ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করতে পারবেন। সূর্যমুখীর তৈল ছাড়াও খৈল দিয়ে মাছের খাবার এবং সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। এর কোন অংশই ফেলা হয়না।