গোলাপগঞ্জে ঝুঁকি নিয়ে হাজারও মানুষের পারাপার, সেতুর জন্য হাহাকার

প্রকাশিত: ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

গোলাপগঞ্জে ঝুঁকি নিয়ে হাজারও মানুষের পারাপার, সেতুর জন্য হাহাকার
ফাহিম আহমদ, গোলাপগঞ্জ 
বিয়ামারা নদী হাজারও মানুষের এক দূর্ভোগের নাম। গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের শিলঘাটের বুক চিরে ভয়ে গেছে বিয়ামারা নদী। নদীটি এড়াল বিল থেকে উৎপত্তি হয়ে কুশিয়ারা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
নদীটির উপর মাত্র ২০০মিটার সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে এই এলাকার হাজারো মানুষ৷
বর্ষাকালে এই এলাকার হাজারও মানুষের দূর্ভোগ বেড়ে যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট থেকে শুরু করে বৃদ্ধ মানুষ পর্যন্ত যাতায়াত করতে হয় বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে। সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় বিভিন্ন সময় নানা ধরণের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে এলাকার মানুষদের।
অনেক দাবির পরেও জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসন কেউই ওই নদীর উপরে সেতু নির্মাণ করেননি। স্থানীয় লোকজন নিরুপায় হয়ে নদী পারাপারের জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন সাঁকোর উপর দিয়ে রংপুর গ্রামের বিভিন্ন পেশার হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন।
এলাকাবাসী দীর্ঘ দিন ধরে এই নদীর উপর মাত্র ২০০ মিটার সেতুর জন্য বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ জানালেও কোন কাজ হচ্ছে না। অনেকটা অবহেলিত হয়ে জীবন পার করতে হচ্ছে তাদের। নদীটির ঠিক একপাশে শিলঘাট রংপুর জামে মসজিদ ও ওপর পাশে
শিলঘাট ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে যাতায়াত করে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রি কলেজ, ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজ, সরকারি এম সি একাডেমি মডেল স্কুল এন্ড কলেজেসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা করেন। অনেক দিন স্কুলে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা পা-পিছলে নদীতে পরে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। একজন গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগীকে নিয়ে নদী পার হতে অনেকটা কষ্ট হয়। এলাকার কৃষকরা তাদের আবাদকৃত ফসল বাজারে নিয়ে যেতে নদী পারাপার হতে ভোগান্তির মধ্যে পরতে হয়। তারপরও এই এলাকার মানুষ কর্মের তাগিদে, স্বপ্ন পূরণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও নদী পার হয়ে আসছেন।
জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর থেকে এলাকাবাসী তাদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রতি বছর হাজার-হাজার টাকা খরচ করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে আসছেন। সাঁকো তৈরি করার খরচটুকুও তারা সরকারি ভাবে পান না।
রবিবার (১৪জুন) সকালে শিলঘাটে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, নদীটির উপর ছোট করে বাঁশের সাঁকো দেওয়া। বয়োবৃদ্ধরা ধীরে ধীরে ভয়কে জয় করে নদীর পার হচ্ছেন।
বহুদিন থেকে এই এলাকার জনগণ মাত্র ২০০ মিটার সেতুর জন্য লড়াই করে আসছেন। দীর্ঘদিন থেকে তারা শুধু আশ্বাস ছাড়া আর কিছু পাচ্ছেন। এমনকি এই এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থাও বেহাল দশা। একেতো নদীর উপর সেতুর না থাকায় দূর্ভোগ এর উপর রাস্তা ঘাটের সমস্যা। সব মিলিয়ে এই এলাকার মানুষ অনেকটা অবহেলিত।
এলাকার বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা হয়। তারা বলেন তাদের দূর্ভোগের কথা। কয়েকদিন উপোষ থাকলেও তাদের এমন কষ্ট হতো না যতটা না সেতুর জন্য তাদের কষ্ট হচ্ছে। ছোট বাচ্চাদের, বয়স্ক লোকদের নিয়ে না কি তারা বেশি চিন্তিত। কোন সময় বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবেন তারা জানেন না। তারা সরকারের কাছে জুড় দাবি জানান, এই বিয়ামারা নদীর উপর মাত্র ২০০ মিটার সেতু করে দেওয়ার জন্য।
প্রাইমারি শিক্ষার্থী দিপু আহমদ বলে, আমরা নদীর ওপারেই স্কুলে যাই। সামান্য জায়গার জন্য বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে অনেক ভয় লাগে। এর জন্য যে আমাদের আর বিকল্প পথ নেই।
চল্লিশোর্ধ্ব হাসান মিয়া বলেন, ছোট কাল থেকে এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হয়ে আসছি। অনেক দিন সাঁকো থেকে নদীতে পরে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হয়েছি। এখানে একটি সেতু হলে আমাদের বড় উপকার হবে।
ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক বলেন, নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিদের ঢল নামে। তারা বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে থাকেন। নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে আর কারো দেখা নাই। আমাদের একটাই দাবি এখানে একটি সেতু করে দেওয়া হোক। এলাকার মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে যেন সরকার এগিয়ে আসেন।
ইউপি সদস্য আব্দুল গফফার কুটি মিয়া বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমি এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে এখানে একটি সেতু হওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে আসছি। বিভিন্ন সময় এলাকার মানুষ প্রতিবাদ সভা করেছে। কিন্তু কোন কিছু যেন কাজে আসছে না।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, এখানে সেতু করার কোন পরিকল্পনা আপাতত আমাদের নেই। আর ওখানে ২০০ মিটার সেতু করতে বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকার মত লাগে।
তিনি বলেন, এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই এলাকা দিয়ে প্রতিদিন ১৫জন মানুষ ও যাতায়াত করে না। তাই টাকা খরচ করার মত জায়গা হতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল