গোলাপগঞ্জে ভয়ংকর হচ্ছে করোনা, মোট আক্রান্ত ৮৪ জন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গোলাপগঞ্জে ভয়ংকর হচ্ছে করোনা, মোট আক্রান্ত ৮৪ জন

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

গোলাপগঞ্জে ভয়ংকর হচ্ছে করোনা, মোট আক্রান্ত ৮৪ জন
ফাহিম ফাহিম, গোলাপগঞ্জ 
গোলাপগঞ্জে বেড়েই চলেছে করোনার ভয়ংকর ছোবল। দেড় মাসে উপজেলার একটি ইউনিয়ন ব্যতীত বাকি ১০টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা আঘাত হেনেছে। উপজেলা শহর থেকে এখন প্রত্যন্ত গ্রামেও করোনা রোগী শনাক্ত হওয়া শুরু হয়েছে।
সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে, ডাক্তার-স্বাস্থ্য কর্মী, জনপ্রতিনিধি ও ব্যাংকারসহ কেউ বাদ পড়ছেন না করোনার ভয়ংকর থাবা থেকে। বৈষম্য না বুঝা করোনা সমাজের উঁচু তলা থেকে নিচু তলার সকলের নাম যোগ করেছে এক তালিকায়।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী উপজেলায় মোট ৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ জন এবং মৃত্যু বরণ করেছেন ডাক্তারসহ ২ জন। আর আইশোলেসনে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৪ জন।
তবে করোনার কালো থাবা থেকে এখনো উপজেলার একটি ইউনিয়ন মুক্ত রয়েছে। উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে এখন করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। তবে করোনামুক্ত এ ইউনিয়নের জনগণ এখনই আরও বেশি সচেতন না হলেও এখানেও করোনার ভয়ংকর থাবার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউনিয়ন ভিত্তিক হিসেবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় হলো বাঘা ইউনিয়নের ৪ জন, যার একজন মারা গেছেন। গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আক্রান্ত ৩ জন, ফুলবাড়ী ইউনিয়নে আক্রান্ত ১ জন, লক্ষীপাশা ইউনিয়নে ১ জন। তিনি ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বুধবারী বাজার ইউনিয়নে ৩ জন আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ জন, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নে ৫ জন আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩ জন, লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নে ৭ জন আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১জন, ভাদেশ্বর ইউনিয়নে ৮ জন আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪ জন, পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নে ২ জন আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ জন, উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়নে ৬ জন আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫ জন এবং মৃত্যু বরণ করেছেন ১ জন, পৌরসভায় ৩৬ জন আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২০ জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ৮ জন আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত উপজেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১০২৯টি। আইশোলেসনে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৪ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮ জন, ও মৃত্যু বরণ করেছেন ২ জন।
তিনি বলেন, উপজেলার বাহিরের ২ জন থাকায় তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এজন্য উপজেলায় এখন মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ৮৪ জন।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিসর চৌধুরীর মতে বর্তমান এ মহামারির সময়ে এখনই যদি উপজেলার জনগণ সচেতন না হন তবে বিপদের মুখে পরতে হতে পারে। তাই সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হতে অনুরোধ করেছেন তিনি।