গোলাপগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের কমিটি গঠনের তোড়জোড়, অসন্তোষ তুঙ্গে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গোলাপগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের কমিটি গঠনের তোড়জোড়, অসন্তোষ তুঙ্গে

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২১

গোলাপগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের কমিটি গঠনের তোড়জোড়, অসন্তোষ তুঙ্গে

ফাহাদ হোসাইন
দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় অপেক্ষার পর অবশেষে পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি।
ইতিমধ্যে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী ১ লা মাচের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করছেন তৃণমূল আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা। ত্যাগী, আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ অনেক কর্মীর প্রস্তাবিত কমিটিতে নাম অন্তর্ভূক্ত না করায় অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্নভাবে নিজেদের হতাশা ব্যক্ত করছেন। অনেকেই প্রস্ত্রাবিত কমিটিতে স্থান পেলেও যথাযথ পদে মূল্যায়ন না পাওয়ায় হতাশ তারাও। আওয়ামীলীগের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ৭১সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ সভাপতি ৯জন, যুগ্ম সম্পাদক পদে ৩জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ৩জন, অন্যান্য সম্পাদকীয়, সহ সম্পাদকীয় পদে ১৯জন এবং সদস্য পদে ৩৫জনকে রাখা হয়েছে। জায়গা হয়নি সম্মেলনের সময় যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কারী, আগের কমিটির সম্পাদকীয় পদের গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা, উপজেলার আওয়ামীলীগের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী অভিযোগ করছেন ত্যাগী নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে নিজেদের বলয় আর আত্মীয়দের নাম প্রস্তাবিত কমিটিতে স্থান পেয়েছে। যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তারা বেশির ভাগই অপরিচিত, জনবিচ্ছিন্ন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ ওয়াদুদ এমরুল বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা, ত্যাগী নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি মেনে নেওয়া হবে না। জেলা নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ সাবেক ছাত্র নেতাদের মূল্যায়ন হয় এমন কমিটি অনুমোদন দিবেন।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনসুর আহমদ বলেন, মাঠের রাজনীতিতে জড়িত, ১/১১তে নির্যাতিত, আজীবন ত্যাগী, পোড় খাওয়া আওয়ামীলীগার, সাবেক ছাত্রনেতাদের বাদ দিয়ে হাইব্রীডদের দিয়ে কোন কমিটি চিন্তাই করা যায় না। আশা করি কমিটিতে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ হস্তক্ষেপ করে সুন্দর কমিটি উপহার দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগকে রক্ষা করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা, সাবেক ছাত্রনেতা রমেল সিরাজ বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগে নব্য আওয়ামীলীগারদের নগ্ন হস্তক্ষেপ আর উপজেলা আওয়ামীলীগের অদক্ষ নেতৃত্বের কারনে উপজেলা আওয়ামীলীগ আজ
প্রায় ধ্বংসের মূখে। উপজেলা আওয়ামীলীগকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান নেতৃত্ব গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। আশা করি জেলা আ’লীগ সুন্দর কমিটি অনুমোদন দেবেন।
আসন্ন কমিটি নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন বলে ফোন কেটে দেন।
উল্যেখ্য, দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৯সালের ১৩ নভেম্বর গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় অধিবেশন সম্পন্নের জন্য উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন নির্ধারণ করা হয়। এরই আলোকে উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পৌরসভার কাউন্সিলরগণ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের জন্য ভোটের প্রস্ততি নেন। সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন উদ্যোগ নেন সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠনের। এ লক্ষ্যে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। তবে সেখানে কোন সমঝোতা হয়নি।
পরে ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ৩ বছর মেয়াদি কমিটিতে সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে সভাপতি এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদকে আবারও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়।
এতদিন পূর্ণাঙ্গ ছাড়া ছিলো উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি। তবে গত (৬ ফ্রেবুয়ারি) জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় আগামী ১ মার্চের মধ্যে জেলার দপ্তরে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।