গোয়াইনঘাটে ট্রিপল মার্ডার : দুটি ক্লু নিয়ে তদন্তে পুলিশ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গোয়াইনঘাটে ট্রিপল মার্ডার : দুটি ক্লু নিয়ে তদন্তে পুলিশ

প্রকাশিত: ৩:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২১

গোয়াইনঘাটে ট্রিপল মার্ডার : দুটি ক্লু নিয়ে তদন্তে পুলিশ

ডেস্ক রির্পোট::
সিলেটের গোয়াইনঘাটে মা ও দুই শিশু সন্তানসহ তিনজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সিলেটের ডিআইজিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেই সাথে পুলিশের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে যাচ্ছে। দুটি বিষয়কে সামনে রেখে প্রাথমিক তদন্তে নেমেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি গ্রামে নিজ বসত ঘরে এক গৃহবধূ ও তার দুই শিশু সন্তানকে গলাকেটে ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।

এ ছাড়া গৃহবধূর স্বামী হিফজুর রহমানকেও (৪০) গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন বিন্নাকান্দি গ্রামের হিফজুর রহমানের স্ত্রী হালিমা বেগম (৩০), তার ছেলে মিজান (১০) ও তিন বছরের মেয়ে তানিশা।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি দেখে প্রতিবেশিরা হিফজুরের ঘরের সামনে গিয়ে তাদের ডাকাডাকি করেন। কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে খানিকটা কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান ঘরের দরজা খোলা রয়েছে এবং ঘরের ভেতর থেকে ঘুঙানির আওয়াজ আসছে। ঘুঙানির শব্দ পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে খাটের মধ্যে হিফজুরের স্ত্রী হালিমা বেগম, তার ছেলে মিজান ও মেয়ে তানশিার জবাই করা ও কোপানো মরদেহ এবং হিফজুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে বুধবার সকালে পুলিশ গিয়ে ওই তিনজনের লাশ উদ্ধার এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠান। হিফজুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দায়ের কোপ ছিল।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রতিবেশীরা সকালে হালিমা বেগমের ঘরে গিয়ে তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

তিনজনের মধ্যে গৃহবধূকে ও তার ছেলেকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে এবং ছোট্ট মেয়েটার মাথায় আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া ওই বাড়ির গৃহকর্তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওসি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত একটি হত্যাকান্ড। তবে কে বা কারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এবং গোয়াইনঘাটের ইউএনও তাহমিলুর রহমানসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আমরা স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি যে, শশুরবাড়ি ঘনঘন আসা যাওয়া নিয়ে শ্যালিকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহে স্ত্রীর সাথে প্রায় সময় স্বামী হিফজুরের পারিবারিক কলহ হতো। কাজেই আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পারিবারিক অন্তর্দন্দ্বের কারণে হত্যাকান্ডটি ঘটতে পারে।

এছাড়াও হিফজুরের সাথে তার মামার জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল বলেও আমরা জানতে পেরেছি। সে কারণেও হত্যাকান্ড ঘটেছে কিনা সে বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি। আপাতত এদুটি বিষয়কে সামনে রেখে প্রাথমিক ভাবে তদন্তের স্বার্থে হিফজুরের মামা-মামী এবং তার শ্যালিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে, গৃহকর্তা হিফজুরও আমাদের সন্দেহের তালিকার বাইরে নয়। তিনি কথা বলতে পারলে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন অনেকটা সহজ হবে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।