গোয়াইনঘাটে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরী ধর্ষণ, সালুটিকর পুলিশের অভিযানে আটক দুই জন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গোয়াইনঘাটে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরী ধর্ষণ, সালুটিকর পুলিশের অভিযানে আটক দুই জন

প্রকাশিত: ১০:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২০

গোয়াইনঘাটে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরী ধর্ষণ, সালুটিকর পুলিশের অভিযানে আটক দুই জন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধিঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের অভিযানে দুই ধর্ষক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অপহরণকৃত ওই কিশোরী মেয়েকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ২০ তারিখ দিবাগত-রাতে গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের পূর্ব-পেকেরখাল গ্রামের জনৈক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জাকির আহমেদ মুহসিন (২৪) নামের এক যুবক ওই কিশোরীকে সাথে নিয়ে পালিয়ে যায়। ওইদিন রাত ১০ টার দিকে ওই কিশোরীর বাবা-মা তাদের মেয়েকে ঘরের মধ্যে খোঁজ করে না পেয়ে আশপাশে খোজাখুজি করে কোথাও তাদের মেয়েকে পাওয়া যায়নি। পরে তারা জানতে পারেন জাকির তাদের মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। অবশেষে ওই কিশোরীর পিতা জাকিরকে আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ শফিক ইসলাম খান, ওই কিশোরীকে উদ্ধার এবং জাকিরকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়াইনঘাট থানা,সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেন। অবশেষে আজ সোমবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে শাহপরান থানাধীন শাহপরান থানাধীন কল্লোগ্রাম এলাকা থেকে ওই কিশোরী এবং ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শাহপরান থানাধীন পীরের চক গ্রামের
হাজী ফারুক আহমদের ছেলে মোঃ জাকির হোসেন ও চেরাগ আলীর ছেলে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন। এব্যপারে ভিকটিম জনৈক কিশোরী এই প্রতিবেদককে জানায়,জাকিরের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০ নভেম্বর রাতে আমার বাড়িতে হঠাৎ জাকির উপস্থিত হয়ে বলে আমি যদি তাকে ভাল বাসি তাহলে ওই মূহুর্তে তার সাথে বাড়ী থেকে বের হওয়ার জন্য। এতে আমি রাজি না হলে সে আত্মাহত্যার হুমকি দেয়। আমি ভয় পেয়ে কাউকে না বলে বাড়ী থেকে বেরিয়ে যাই। চেঙ্গেরখাল নদী পার হওয়ার পর দেখি জাকিরের সাথে আরো ৪/৫ জন যুবক। আমি তাকে ওরা কারা জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তার বন্ধু। ওইরাতে আমার চোখ বেধে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ওরা সবাই পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং পুলিশের কাছে আটক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। ওরা পানির সাথে গর্ভ নষ্ট করার ঔষধ সেবন করাইয়াছে। এ ব্যপারে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান। গোয়াইনঘাটের পূর্ব-পেকেরখাল গ্রামের জনৈক কিশোরীর পিতা গোয়াইনঘাট থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ করেন। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ উক্ত অপহরণের বিষয়টি তদন্তের জন্য আমাকে দায়িত্ব দেন।এরই আলোকে উক্ত অভিযোগের ভিকটিম ও কিশোরী ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ বলেন, তোয়াকুল ইউনিয়নের পূর্ব- পেকেরখাল গ্রামের জনৈক কিশোরীর পিতা তার মেয়ে অপহরণ হয়েছে দাবি করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য জন্য সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ শফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরই আলোকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। অবশেষে সিলেট শাহপরান থানাধীন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল