গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরছেন খালেদা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরছেন খালেদা

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৭

গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরছেন খালেদা

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেশে ফেরার দিন অভ্যর্থনা জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এজন্য আগামী বুধবার (১৮ অক্টোবর) বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত অবস্থান নেবে দল ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নিতে দফায় দফায় বৈঠক করছে বিএনপি, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো। দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তিন মাস লন্ডন সফর শেষে আগামী বুধবার দেশে ফিরছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এদিন বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

চলতি বছরের ১৬ জুলাই খালেদা জিয়া লন্ডন যান। সেখানে তার পা, হাঁটু ও চোখের চিকিৎসা করানো হয় বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ বলেন, ‘চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। তার দেশে ফেরা উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আমাদের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন,‘মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। আমার বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত জনস্রোত তৈরি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। এর বাইরে বিমানবন্দরে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী,শিক্ষক,শিল্পীরাও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশান-২-এ খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজা পর্যন্ত রাস্তার বাম পাশে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু  বলেন, ‘নেত্রীর অভ্যর্থনা প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা আজকে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করছি, সংগঠনের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সেদিন বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে।’

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ‘নেত্রীকে বরণ করতে আজ ও আগামীকালের মধ্যে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।’

খালেদা জিয়ার অভ্যর্থনা উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার তৈরি করছেন বিএনপি ও দলটির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের। জানা গেছে, দেশে ফেরা উপলক্ষে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ব্যানার, ফেস্টুনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে থাকা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হবে। এ অভ্যর্থনা থেকে খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের সৈনিক’ উপাধি দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানার, পোস্টারে নেত্রীর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার, নেত্রী ও তারেক রহমানের নামে সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি তুলে ধরা হবে। এর বাইরে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের সৈনিক’ উপাধিও দেওয়া হবে।’

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেশে আসার সংবাদে উজ্জীবিত হয়ে ওঠেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। গত শনিবার রাত থেকেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ফের সরগরম হয়ে ওঠেছে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। গতকালও দিনভর এই দুই কার্যালয়ে ছিল বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি।

বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানোর। ওইদিন বিমানবন্দর থেকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন পর্যন্ত জনস্রোত নামানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা। গত ১৫ জুলাই চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ তিন মাসের সফর শেষে আগামী ১৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় দেশে ফেরার কথা রয়েছে বিএনপি প্রধানের।

তার এই সফর চিকিৎসার জন্য হলেও সফরকে ঘিরে শুরু থেকেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ এবং রাজনৈতিক মহলে চলছে জল্পনা-কল্পনা। কারণ বিএনপি প্রধানের এই সফরের মাধ্যমে আসতে পারে আগামী নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা এবং আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এ জন্য বেগম খালেদা জিয়ার ফিরে আসার দিকেই তাকিয়ে আছে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। যদিও সফরের পর থেকেই সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রচার করতে থাকেন, খালেদা জিয়া আর দেশে ফিরবেন না। তবে বিএনপির দায়িত্বশীল সব নেতাই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলে আসছেন চিকিৎসা শেষ করে এক মুহূর্তও তিনি দেশের বাইরে থাকবেন না।

চিকিৎসা শেষ হলেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন এবং নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। একইসাথে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দেবেন। সফর করবেন দেশের বিভিন্ন এলাকা এবং দল পুনর্গঠনের কাজ করবেন। তবে গত সপ্তাহে কুমিল্লা ও ঢাকায় পৃথক তিনটি মামলায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

এই ঘটনার পর থেকে রাজপথে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেছে দলটির নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও প্রচার করতে থাকে, এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিতে বেগম খালেদা জিয়া সহসায় আর দেশে ফিরবেন না। এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশে ফেরার সংবাদ আসায় বিএনপি নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠেছেন। দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে কর্মীরাও এখন দলীয় কার্যালয়ে ভিড় করছেন।

এদিকে দলের নেতারা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে বিশাল শো-ডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাদলসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে এ শোডাউনের প্রস্তুতি চলছে। বেগম জিয়ার দেশে ফেরার চ‚ড়ান্ত তারিখ জানার পর গত শনিবার সন্ধ্যায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠক করেছেন। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারে নিয়েও বৈঠক করেন।

এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিগত দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশে গেলে এবং বিদেশ থেকে এলে যেভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এবারো তাকে দলের নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবে। তবে এবার দলের নেতাকর্মীসহ বিমানবন্দরে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামবে বলে তিনি জানান। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে আসবেন নেতাকর্মীরা।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের চেয়ারপারসনকে বিমানবন্দরে জনতার স্রোতের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হবে। আমাদের নেতাকর্মীরা দেশনেত্রীর ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

বিএনপির মতো একইভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে অঙ্গসংগঠনগুলো। ওইদিন বিমানবন্দর থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসভবন পর্যন্ত জনস্রোত নামানোর পরিকল্পনা করছে স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদলের নেতাকর্মীরা। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের ঐক্যের প্রতীক হলেন বেগম খালেদা জিয়া। সবাই তার দেশে আসার জন্য অপেক্ষা করছে।

আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে অতিষ্ট মানুষ তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তিনি চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী তাকে অভ্যর্থনা জানাবে। সেভাবে প্রস্তুতিও চলছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের দেশে ফেরার দিনে বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত মানুষের জনস্রোত নামবে বলেও মনে করেন শফিউল বারী বাবু।

উৎসঃ ইনকিলাব