ঘাটে বাঁধা নৌকা, যাত্রী কম, বিপাকে মাঝিরা

প্রকাশিত: ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

ঘাটে বাঁধা নৌকা, যাত্রী কম, বিপাকে মাঝিরা
ফাহিম আহমদ, গোলাপগঞ্জ 
‘প্রতিদিন যা আয় হয়, তা দিয়ে আমার ১০ জনের পরিবার চলে। করোনা আসার আগে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা আয় করতাম। তবে গত দুইমাস থেকে যাত্রী কম থাকায় প্রতিদিন ১০০-২০০ টাকা আয় হয়। তাও ঘাটে নৌকা কম আসে বলে। যেদিন নৌকা বেশি আসে, সেদিন ১০০-২০০ টাকাও আয় হয় না। এতে পরিবার নিয়ে অনেক সমস্যায় আছি। সরকারিভাবে আমরা নৌকার মাঝিরা আলাদা কোনো সহযোগিতা এখন পর্যন্ত পাইনি। আজ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০০ টাকা আয় করেছি। বাকি সময়ে আর কত টাকাই বা আয় করব? একটু পরে বিকেল ৫টা বেজে যাবে। তখন মানুষ আসা বন্ধ হয়ে যাবে। এই টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য কী কিনে নিয়ে যাব?’
আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেলে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কথাগুলো বলছিলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের সুরমা নদীর থানা খেয়া ঘাটের মাঝি সোহেল আহমদ। তার বাড়ি উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের লালনগর গ্রামে।
শুধু সোহেল আহমদ নন, এই খেয়া ঘাটের প্রায় অর্ধশতাধিক নৌকার মাঝির এমনটাই দাবি। ছোট-বড় প্রায় অর্ধশতাধিক নৌকা চলে প্রতিদিন এই ঘাটে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আসার পর থেকে সবকিছু বন্ধ থাকায় মানুষের যাতায়াত কমে গেছে। মানুষের যাতায়াত কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নৌকার মাঝিরা। খেয়ে না খেয়ে অনেকটা অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন তারা। বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে সামান্য সহযোগিতা পেলেও সরকারিভাবে আলাদা কোনো সহযোগিতা পাননি তারা।
শনিবার বিকেলে সুরমা নদীর থানা খেয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে মাত্র কয়েকটি নৌকা বাঁধা আছে। করোনা আসার আগে প্রতিদিন এই ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা থাকতো। করোনা আসার আগে প্রতিদিন এই খেয়া ঘাট দিয়ে সকাল থেকে রাতঅবধি হাজারও মানুষ যাতায়াত করতেন। বাঘা ইউনিয়নবাসীর গোলাপগঞ্জ বাজারের সাথে যোগাযোগের সহজ রাস্তা এই থানা খেয়া ঘাট। সবকিছু বন্ধ থাকায় এখন দিনে ২০০ মানুষও গোলাপগঞ্জ বাজারে যাতায়াত করেন না।
রাসেল মিয়া নামের এক ডিঙি নৌকার মাঝি বলেন, ‘আমাদের দিন খুব খারাপ যাচ্ছে। আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার নিয়ে অনেকটা বিপাকে আছি। কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। এ রকম আরও কয়েকদিন চলতে থাকলে আমাদের পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’
জীবন আহমদ নামের এক যাত্রী বলেন, ‘যে সময় করোনা ছিল না, ঘাটে এসে মানুষের কারণে এতগুলো নৌকা থাকতেও সময়মতো গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারতাম না। আর এখন যাত্রী কম থাকায় এসেই নৌকা পেয়ে যাই।’
মাঝিদের ত্রাণ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে সরকারি যে সহযোগিতা এসেছিল তা প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বরাবর দিয়ে দিয়েছি। মাঝিদের জন্য আলাদা কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল