চট্টগ্রামে বিএনপির জনসভায় মানুষের ঢল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

চট্টগ্রামে বিএনপির জনসভায় মানুষের ঢল

প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৮

চট্টগ্রামে বিএনপির জনসভায় মানুষের ঢল

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) চট্টগ্রামে বিএনপির জনসভায় মানুষের ঢল নামে। জনতার গগনবিদারী স্লোগানের মধ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে নামলে সরকারের তখতে তাউস তছনছ হয়ে যাবে বলেই তাকে অন্যায়ভাবে নির্জন কারা প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রাখা হয়েছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার লুট হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে লুট হওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি সরকারকে দাম্ভিকতা পরিহার করে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলমান সঙ্কট নিরসনে এটিই একমাত্র পথ। দয়া করে বিদায় নিন, জনগণ আপনাদের আর চায় না।

বন্দরনগরীর নুর আহমদ সড়কে অনুষ্ঠিত জনসভাকে ঘিরে প্রায় এক বর্গ কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। এক সপ্তাহ আগে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে লালদীঘি ময়দানে জনসভার ঘোষণা দিলেও পুলিশের অনুমতি পায়নি বিএনপি। বুধবার রাত ১১টার পর পুলিশের পক্ষ থেকে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে জনসভা করার অনুমতি দেয়। অনুমতি দেয়ার পরপরই রাত থেকে শুরু হয় ব্যাপক ধরপাকড়। এরপরও জনসভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভায় যোগ দেয় নেতাকর্মীরা। নির্ধারিত সময় বিকেল ৩টায় জনসভায় শুরু হলেও তার আগে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিকেল নাগাদ নগরীর লাভলেইন মোড় থেকে শুরু করে নেভাল এভিনিউ, আউটার স্টেডিয়াম হয়ে কাজির দেউড়ি মোড় ও আলমাস সিনেমা পর্যন্ত বিস্তৃত হয় মানুষের ঢল। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে জনসভায় যোগ দেয়। তাদের হাতে শোভা পায় বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ও ব্যানার ফেস্টুন। আর এতে করে মিছিলের নগরীতে পরিণত হয় পুরো নগরী। জনসভার আশপাশে মোতায়েন ছিল ২ হাজারের বেশি পুলিশ। তবে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় জনসভা।

ধরপাকড়, বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে জনসভা সফল করায় চট্টগ্রামের জনগণের প্রতি মোবারকবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিপ্লবী চট্টগ্রামের মানুষ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রেখেছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনেও চট্টগ্রামবাসী প্রমাণ করেছে তারা গণতন্ত্রের পক্ষে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। দেশে চরম দুঃশাসন চলছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে গণতন্ত্র নেই, বাকস্বাধীনতা নেই, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই। মানবাধিকার চরমভাবে লুণ্ঠিত। অবৈধ সরকার ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে। ১৫৪ আসনে ভোট ছাড়াই যে সংসদ সে সংসদে জনগণের কোন প্রতিনিধি নেই। এ সংসদে বসে জননিপীড়নমূলক আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এক দেশে দুই আইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। খুন, গুম, অপহরণ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা হয়েছে। ১১ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। রাস্তায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেও সরকার বাঁধা দিচ্ছে। যখন যাকে খুশি তাকে ধরে নিয়ে গুম করা হচ্ছে। রাজধানীর ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, তাকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি তার বাসায় গিয়েছি। তার বড় মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে কথা বলতে পারে না। পিতার জন্য এ বোবা মেয়েটির কান্না পাষাণ হৃদয়কেও গলিয়ে দিচ্ছে। মির্জা ফখরুল বলেন, খনার বচনে আছে- রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়। সরকারের দুঃশাসনের কারণে জনগণ দুঃসময় পার করছে। অর্থনীতি ধ্বংসের পথে দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। ১০ টাকায় চাল খাওয়ানোর ওয়াদা দিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছিল এখন চালের দাম ৭০ টাকা। উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে। দেশে মানুষের নিরাপত্তা নেই। চারিদিকে আতঙ্ক আর হাহাকার।