চার পদের জন্য নীরব প্রতিযোগিতা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

চার পদের জন্য নীরব প্রতিযোগিতা

প্রকাশিত: ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৬

চার পদের জন্য নীরব প্রতিযোগিতা

asdaaaaiopপ্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০১৬, বুধবার: সিলেট আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতার মধ্যে লোভনীয় চারটি পদ-পদবি নিয়ে নীরব প্রতিযোগিতা চলছে। ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণে তাদের মধ্যে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। কাঙ্ক্ষিত পদবির মধ্যে রয়েছে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ (সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়ন, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পাওয়া। একটা না পেলে অন্যটা যেন হাতছাড়া না হয়, সে জন্য এসব নেতা তৎপরতা শুরু করেছেন। এ নিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শহরে নানামুখী আলোচনা চলছে।

এ লড়াইয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। আগামী ২২-২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পেতে চান তারা সবাই। তাদের মধ্যে অন্তত তিনজন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বর্তমানে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করলেও এবার কামরান এই পদ পেতে আগ্রহী। অন্যদিকে আসাদ উদ্দিনের নামও এই পদে বেশ জোরালোভাবে আছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় দায়িত্বে যাওয়ার আগে মিসবাহ দীর্ঘদিন মহানগর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। টানা দু’দফা মিসবাহ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিকের দায়িত্ব পালনের পর এবার এ পদে নেতা বদলের সম্ভাবনা দেখছেন সিলেটে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের পাশাপাশি শফিকুর রহমান দলের আগামী কমিটিতে ভালো পদ পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তবে তাদের কেউ এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না। তারা বলছেন, দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দায়িত্ব দেবেন তারা তা পালনের চেষ্টা করবেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে মেয়র হতে এই চারজনের মধ্যে অন্তত তিনজন এখন থেকেই তৎপরতা শুরু করেছেন। তারা হলেন_ সাবেক মেয়র কামরান, অ্যাডভোকেট মিসবাহ ও আসাদ উদ্দিন। গত নির্বাচনে কামরান দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করলেও মিসবাহ এ পদ পেতে আগ্রহী ছিলেন। অন্যদিকে এবারই প্রথম আলোচনায় এলেও আসাদ উদ্দিনের অনুসারীরা আশান্বিত।

এ ব্যাপারে আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের এখনও অনেক দেরি আছে। সময় হলেই বলা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০১৩ সালের ১৫ জুন সিসিকের সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন কামরান। সেই নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী, পরে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হন। এ অবস্থায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি আত্মসমর্পণের পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। কারাগারে যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আরিফকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল মেয়রদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হওয়ার কথা থাকলেও নিজেদের মধ্যে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে কেউ দায়িত্ব নিতে পারেননি। ফলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব সিসিকের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালের আগে সিসিক মেয়র নির্বাচনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সিলেটের প্রথম নির্বাচিত মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সমকাল বলেন, নির্বাচনের এখনও অন্তত আরও আড়াই বছর বাকি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, তাকে সে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা যাওয়ার পর থেকে এ পদটি খালি আছে। মেয়র নির্বাচনের দেরি থাকায় কামরানকে এ পদে দেখতে চান তার অনুসারী অনেকেই। তবে কামরান ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহের কথা অস্বীকার করেছেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির জেরে নিজের নির্বাচনী সিলেট-২ আসন বঞ্চিত শফিকুর রহমানও জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদ পেতে আগ্রহী। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমেদুল আল কবিরের নামও রয়েছে জেলা পরিষদের প্রশাসক হওয়ার আগ্রহীদের তালিকায়। মহাজোটের শরিক দলের পক্ষ থেকেও জেলা পরিষদের প্রশাসক পদ চাওয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানায়। সিটি করপোরেশনের মতো বর্তমানে জেলা পরিষদও চলছে নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়ে।

এদিকে সিলেট-১ আসনের বর্তমান সাংসদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামীতে আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অবশ্য এ আসনে আগামীতে অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি একে আবদুল মোমেন নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে মিসবাহ ও কামরান দু’জনেই এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য এখন থেকেই নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন। বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই দু’জন আলোচনায় ছিলেন। মিসবাহ এ ব্যাপারে তার আগ্রহের কথা সরাসরি স্বীকারও করেছেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, সেই দল সরকার গঠন করেছে। এ ছাড়াও এ আসনে বিজয়ী প্রার্থীরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল