চার বছরে নবম শ্রেণিতে! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

চার বছরে নবম শ্রেণিতে!

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৬

চার বছরে নবম শ্রেণিতে!

0bac5562a292fbe0271df2144088f6d9-Ananya-Verma‘আমি তখন নবম শ্রেণি, আমি তখন ষোলো/ ব্রিজের ধারে, বেণীমাধব, লুকিয়ে দেখা হলো’। নবম শ্রেণিতে পড়তে তাহলে বয়স ঠিক কত হতে হবে? যতটা না হলে শাড়ি পরা আর কারও সঙ্গে লুকিয়ে দেখা সম্ভব নয়; নাকি যতটা না হলে অষ্টম শ্রেণি পেরোতে নীতিগত বাধার গেরো খুলবে না! এসব কবিতা ও নিয়মনীতির কথা যে যা-ই বলুন, শাড়ি থাকলেও কিন্তু তা পরার বয়স এখনো হয়নি। হয়নি বয়স ষোলো। সবে চার পেরোচ্ছে অনন্যা ভার্মা। প্রাক্‌–স্কুল ছেড়ে প্রাইমারিতে পড়ার বয়স। কিন্তু তা না হয়ে এইটুকু বয়সেই তাকে সরাসরি নবম শ্রেণিতে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের  লখনৌ শহরে। অনন্যা ভার্মার অবিশ্বাস্য প্রতিভার কারণেই স্কুল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে তারা রাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের কাছে আবেদনও জানিয়েছে। এখন অনুমতি পেলেই সরাসরি নবম শ্রেণিতে পড়তে যাবে অনন্যা।
দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনন্যার জন্ম ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর। এই বয়সে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই সে রামায়ণসহ যেকোনো ধরনের বই গড়গড় করে পড়তে পারে। এগুলো তার কাছে কোনো ব্যাপারই নয়।

ঘটনাটি শুনে বিস্মিত হলেও অনন্যার পরিবারের কাছে বিষয়টি বিস্ময়ের কিছু নয়। কারণ, তার বড় দুই ভাই-বোনের গল্পটাও ঠিক একই ধরনের। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ২০০৭ সালে অনন্যার ভাই শৈলেন্দ্র দেশের কনিষ্ঠতম কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রিধারী হয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। আর তার বোন সুষমা মাত্র সাত বছর বয়সেই দশম শ্রেণি পাস করেছিল। এই প্রতিভার কারণে লিমকা বুক অব রেকর্ডসে নিজের নামও লিখিয়ে নিয়েছিল সুষমা। আর গত বছর মাত্র ১৫ বছর বয়সে সে পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হয়েছে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহকারী পদে চাকরি করেন অনন্যার বাবা তেজ বাহাদুর। তিনি বলেন, ‘আমার বড় মেয়ে সুষমা সেন্ট মিরাস স্কুলে পড়ত। এই স্কুল কর্তৃপক্ষ এবার অনন্যাকে সরাসরি নবম শ্রেণিতে ভর্তি করে নিতে চাইছে। তবে কিছু আনুষ্ঠানিকতা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এটা সম্ভব হবে না।’

অনন্যাকে পড়াশোনায়, বিশেষ করে অঙ্ক বিষয়ে সব সময় সহযোগিতা করে তার বোন সুষমা। সে জানায়, ‘আমরা তাকে (অনন্যা) পড়ার জন্য কোনো চাপ দিই না। আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরলেই সে আমার পিছু নেয়। বলে, তাকে পড়াশোনায় সহযোগিতা করার জন্য। নতুন যেকোনো বিষয় সে খুব সহজেই আয়ত্ত করে নিতে পারে।’

শিক্ষা বিভাগের অনুমতির অপেক্ষায় থাকলেও সেন্ট মিরাস স্কুল কর্তৃপক্ষ অনন্যাকে আপাতত স্কুলে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। ১০-১৫ দিন থেকে সে স্কুলেও যাচ্ছে। এই অল্প কদিনেই সবার মধ্যে অনন্যা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এই স্কুলের ব্যবস্থাপক বিনোদ রাত্রা বলেন, ‘আমরা দেখেছি, অনন্যা তার বোন সুষমার মতোই অবিশ্বাস্য মেধাবী। সুষমা মাত্র পাঁচ বছর বয়সে এই স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। তখন তার বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছিল। এবার আমরা অনন্যার জন্যও বিশেষ যত্ন নেব। বিশেষ করে তার অঙ্কের ওপর নজরটা বাড়াতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুষমার সময় জেলার স্কুল পরিদর্শক বিকাশ শ্রীবাস্তব তাকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির অনুমতি দিয়েছিলেন। এবার অনন্যার জন্য আমরা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের অনুমতির অপেক্ষায় আছি। যদিও সে অনানুষ্ঠানিকভাবে স্কুলে যাতায়াত করছে। তবে অনুমতি পেলেই আমরা তাকে ভর্তি করে নেব।’

অনন্যার বাবা তেজ বাহাদুর বলেন, তিনি অশিক্ষিত। এ কারণেই তিনি ছেলে-মেয়েদের ভালো করে পরামর্শ দিতে পারেননি। তারপরও তারা যে এত দূর পৌঁছেছে, এ সবই সরস্বতী দেবীর কৃপা।