চিকিৎসক সংকটে গোলাপগঞ্জ, দূর্ভোগে রোগীরা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

চিকিৎসক সংকটে গোলাপগঞ্জ, দূর্ভোগে রোগীরা

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০

চিকিৎসক সংকটে গোলাপগঞ্জ, দূর্ভোগে রোগীরা
ফাহিম আহমদ, গোলাপগঞ্জ
করোনাকালে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দেশের সকল জেলা-উপজেলার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক রোগীদের। দেশে করোনার প্রার্দুরভাব সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে দেখা দিয়েছে চিকিৎসক সংকট। অনেকে চেম্বার না করে চেম্বার ছেড়ে পালিয়েছেন করোনা ভাইরাসের ভয়ে। এতে বিপাকে পড়েছেন রোগীরা।
গত (২৬মার্চ) দেশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রথম দফা লকডাউনের সময় গোলাপগঞ্জ উপজেলার বেশির ভাগ চিকিৎসক করোনার ভয়ে চেম্বার ছেড়ে পালিয়ে যান। চিকিৎসকদের এরকম পালিয়ে যাওয়ার কারণে উপজেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সিলেটের নামিদামি চিকিৎসকরা চেম্বার করতেন। তাদের কাছ থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করে রোগীরা উপকৃত হতেন।
চেম্বার ছেড়ে চিকিৎসকরা পালিয়ে যাওয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। যারা এই কঠিন সময়ে চেম্বার ছেড়ে পালিয়েছিলেন তাদেরকে আর গোলাপগঞ্জে চেম্বার করতে দেওয়া হবে না বলে মানুষ ফোঁসে উঠেন।
সে সময় উপজেলার বিভিন্ন বাজার বণিক সমিতির পক্ষ থেকেও চিকিৎসকদের চেম্বারে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়। বলা হয়, যদি চিকিৎসকরা না আসেন তাহলে আর তাদেরকে চেম্বার করতে দেওয়া হবে না গোলাপগঞ্জে। চিঠি পেয়ে কিছু চিকিৎসক আবারও চেম্বার শুরু করেন। কিন্তু বেশির ভাগ চিকিৎসক এখন পর্যন্ত চেম্বারে আসেন নি। যার কারণে উপজেলার শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক রোগীরা পর্যন্ত দূর্ভোগে পড়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী, ঢাকাদক্ষিণ বাজার, ভাদেশ্বর বাজার, হেতিমগঞ্জ বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন চিকিৎসকের চেম্বারে তালা ঝুলে আছে।
যে সব চিকিৎসকদের কাছ থেকে রোগীরা ভাল সেবা পেতেন তাদের চেম্বারে তালা ঝুলছে। এখন পর্যন্ত রোগীরা সেই সকল চিকিৎসকদের চেম্বার ঘুরে যান।
বেশ কয়েকজন রোগীর সাথে কথা হয়। তারা বলেন, করোনার কারণে ডাক্তাররা না থাকায় আমরা অসুস্থ হওয়ার পর সেবা গ্রহণ করতে পারতেছি না। এতে আমরা অনেকটা বিপাকে আছি। একসময় এই গোলাপগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ডাক্তাররা হাজার-হাজার টাকা ইনকাম করতেন৷ আর আজ তারা এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের সেবা না দিয়ে পালিয়েছেন। এটা আসলেই কষ্টের বিষয়।
গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীর এস এস ফার্মেসীর সামনে ফাতেমা বেগম নামে একজন রোগীর আত্মীয় বলেন, ডাক্তার কম থাকায় সকাল থেকে এখানে এসে রোগী নিয়ে বসে আছি। এখনও সিরিয়াল আসতে অনেক দেরি। এতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।
রাসেল মিয়া নামের একজন বয়স্ক রোগীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বিভিন্ন ধরণের সমস্যা। বয়স বেশি, তার উপর শরীরে বিভিন্ন ধরণের রোগ বাসা বেঁধেছে এর কারণে বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারি না। তারপরেও কী করব ডাক্তার যখন সংকট, এখানেই দেখিয়ে যেতে হবে।
উপজেলায় আজকের নতুন ১৩জন করোনা রোগীসহ মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৩জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৮ জন ও মৃত্যু বরণ করেছেন ১জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, সেবাই হচ্ছে আমাদের চিকিৎসকদের ধর্ম। করোনা এই সময়ে কোন চিকিৎসকের কাম্য নয় চেম্বার ছেড়ে চলে যাওয়া। যদি বয়স্ক কোন চিকিৎসক হয়ে থাকেন, ওনার শারীরিক সমস্যা থাকে তাহলে রোগীদের দিক বিবেচনা করে মুঠোফোনে রোগীদের পরামর্শ দেওয়া যায়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল