চুনারুঘাটের নালুয়া চা বাগানের অভ্যান্তরে দুই কিশোরী শ্রমিককে ধর্ষনের চেষ্টা : ৪ যুবককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানায় দফা-রফা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

চুনারুঘাটের নালুয়া চা বাগানের অভ্যান্তরে দুই কিশোরী শ্রমিককে ধর্ষনের চেষ্টা : ৪ যুবককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানায় দফা-রফা

প্রকাশিত: ৮:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

চুনারুঘাটের নালুয়া চা বাগানের অভ্যান্তরে দুই কিশোরী শ্রমিককে ধর্ষনের চেষ্টা : ৪ যুবককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানায় দফা-রফা
তারেক হাবিব, হবিগঞ্জ
চুনারুঘাটের নালুয়া চা বাগানের অভ্যান্তরে ২ কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ৪ যুবককে ৩০ হাজার টাকা ও কান ধরে উঠবস করেই রফা-দফা করেছেন স্থানীয় মুরব্বীরা। তবে টাকার মাধ্যমে ঘটানাটির ইতি টানলেও কবে কবে সেই টাকা স্থানীয় মুরব্বীদের কাছ থেকে নির্যাতিতদের হাতে পৌছাবে তা জানেন না কেউই। ঘৃণ্যতম এ অন্যায়টি টাকার মাধ্যমে শালিস বিচারে নিষ্পত্তি করায় বেশ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সচেতন মহলে। কেউ-কেউ বলছেন, কিশোরীদের সাথে ঘটে যাওয়া চরম অন্যায়টির অল্প টাকায় নিষ্পত্তি করে অবিচার করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে স্থানীয় কিছু মাতব্বররা উৎকোচের মাধ্যমে পুলিশ-প্রশাসনকে না জানিয়ে তড়ি-গড়ি করেই নিষ্পত্তি করেছেন ঘটনাটির।
বখাটেদের আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি প্রদান করলে ভবিষ্যতে আর কেউ এ রকম দুঃ সাহস পেত না। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টায়। জানা যায়, গত ১৭ জুন দুপুরে নালুয়া চা বাগানের ফাঁড়ি ডুলনা বাগানের অভ্যন্তরে নিয়মিত কাজ শেষ চা-শ্রমিক দুই কিশোরীর বাড়ি ফেরার সময় গাজীপুর ইউনিয়নের হাপ্টারহাওর গ্রামের কাজল মিয়ার বখাটে পুত্র দেলোয়ার হোসেন (১৫), রাশেদুল ইসলামের পুত্র শাহীন (২০), ইকরতলী গ্রামের সালাম মিয়ার পুত্র হৃদয় মিয়া (১৬) ও পশ্চিম ডুলনা গ্রামের ইয়াকুত মিয়ার পুত্র পাবেল মিয়া (২২)রা ওই কিশোরীদ্বয়ের পথরোধ ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ধস্তা-ধস্তির এক পর্যায়ে তাদের শোর চিৎকারে আশ-পাশের শ্রমিকরা ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি ওই কিশোরীদ্বয়ের অভিভাবকরা স্থানীয় আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের সদস্য নটবর রুদ্র পালকে জানালে তিনি সেই ঘটনা গাজীপুর ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক চৌধুরীর সহযোগীতায় শালিস বিচারে নিষ্পত্তি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সত্যজিত রায় দাশ জানান, এটা চরম অন্যায় এবং ফৌজদারী অপরাধ। যা স্থানীয় শালিস বিচারের মাধ্যমে সমাধান করার কোন সুযোগ থাকে না। ঘটনাটি সত্য হলে স্থানীয় মুরব্বী ও বখাটেদের বিরুদ্ধে দ্রæত আইন-আনুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক জানান, ইতিপূর্বে কেউ বিষয়টি কেউ পুলিশকে অবগত করেনি। এ রকম একটি অন্যায়ের বিচার শালিসের মাধ্যমে হতে পারে না। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্রæনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল হাশেম মোল্লা মাসুম জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে এটা চরম শাস্তি যোগ্য অপরাধ। মাত্র ৩০ হাজার টাকায় ৪ যুবককে অন্যায় থেকে মুক্তি দিয়ে অপরাধের প্রবণতা আরও বাড়য়ে দিয়েছে গ্রাম্য মাতব্বরা। এদের আইনে আওতায় এনে শাস্তি দিলে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের অন্যায় করতে সাহস পাবে না।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল