চুনারুঘাটে চিরনিদ্রায় শায়িত বিচারপতি আবদুল হাই – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

চুনারুঘাটে চিরনিদ্রায় শায়িত বিচারপতি আবদুল হাই

প্রকাশিত: ৩:০৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

চুনারুঘাটে চিরনিদ্রায় শায়িত বিচারপতি আবদুল হাই

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
হাজারও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিচারপতি আবদুল হাই। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার আইনত গ্রামে চতুর্থ জানাজার শেষে রোববার তার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে শনিবার ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকায় নিজ বাসায় প্রথম, বিকালে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় ও রোববার বেলা ১১টায় চুনারুঘাট ঈদগাহ মাঠে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিচারপতি আবদুল হাই গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, আইন সচিব এবং প্রধান বিচারপতি শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

চুনারুঘাটে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান, বিচার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এ ছাড়া স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়র, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জানাজায় শরিক হন।

বিচারপতি আবদুল হাই ১৯৪৪ সালে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার ১০ নম্বর মিরাশী ইউনিয়নের আইতন জজবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

সিলেট এমসি কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে নিজ এলাকায় শিক্ষকতা শুরু করেন। তার পর আইনপেশায় যোগদান করেন।

তিনি ইপিসিএস ১৯৭০ ব্যাচে মুনসেফ (বিচারক) হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। পদোন্নতি পেয়ে ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দেশের তিনটি জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আইন সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।

সেখান থেকে অবসরে যান। সরকার তার সততা ও যোগ্যতার কথা বিবেচনা করে ২০১৯ সালে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন।

গত ২৩ জানুয়ারি তিনি ও তার স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার স্ত্রী এখনও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

বিচারপতির দুই ছেলে রয়েছেন। এক ছেলে ব্যারিস্টার ইমরানুল হাই সজীব সুপ্রিমকোর্টে আইন পেশায় যুক্ত রয়েছেন এবং তিনি আওয়ামী লীগের উপকমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সদস্য ও অন্য ছেলে আরিফুল হাই রাজিব আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক।

বিচারপতি নিজ এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। এ ছাড়া এলাকার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল