ছাত্রদলে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ…..! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ছাত্রদলে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ…..!

প্রকাশিত: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৬

jcd-centil600346146824885০২ নভেম্বর ২০১৬, বুধবার: সংসদের বাইরে থাকা বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্রদল অভ্যন্তরীণ ক্ষোভে ফুঁসছে। যেকোনো মুহুর্তে ছাত্রদলের বর্তমান মেয়াদোর্ত্তীণ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটতে পারে। এমনকি দলবল নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের মহড়াও দিচ্ছে আগামী কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা। এদিকে ছাত্রদলের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দুই নেতার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে কয়েকটি গ্রুপ।গত কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মানুনুর রশীদ ও এজমল হোসেন পাইলটের নেতৃত্বে তাদের অনুসারীদের আলাদা আলাদা অবস্থান করতে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বায়েজীদ আরেফিরেন নেতৃত্বে একটি গ্রুপকে অনেকটা মারমুখী অবস্থায় গত কয়েকদিন ধরে একটানা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে। সর্বশেষ আজকে দুপুর থেকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের অনুসারীদের ও কার্যালয়ের সামনে মহড়া দিতে দেখা গেছে ,যে কোন সময় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ৪র্থ তলায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের বিরুদ্ধে অনির্ধারিত এক বৈঠকে কেন্দ্রীয় অন্য নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা সমস্বরে বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কমিটি হওয়ার পরও দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে যেতে না পারা, নিজেদের ইচ্ছেমতো নতুন ১৯টি ইউনিট কমিটির ঘোষণা, সাংগঠনিক কাজে স্বেচ্ছাচারিতার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে ছাত্রদলের অন্য নেতাদের তোপের মুখেও পড়েন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ বৈঠকে সভার মতামতকে সমর্থন করেন এবং এই বিষয়গুলো হাইর কমান্ডের নজরে আনবেন বলে জানান, মিটিংয়ে উপস্থিত একটি সুত্র জানায় কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং রাজিব আকরাম নির্বাহী কমিটির পদ নিয়ে বিএনপি নেতা হয়ে যাওয়ার তাদের নেতৃত্বে আর কেউ কাজ করতে রাজী না , সবার অপেক্ষা নতুন কমিটির নেতৃত্বে আগামি ১ জানুয়ারীর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিন করা , বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আরেক সহ-সভাপতি আজমল হোসেন পাইলট রাজিব-আকরামের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংগঠন চালাতে হলে সাংগঠিনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউকে কিছু না বলেই নিজেদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছে। এর খেসারত অবশ্যই তাদের দিতে হবে। ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ আরেফিন বলেন ছাত্রদল এইভাবে চলতে পারেনা এই ধরনের একতরফা সিদ্বান্ত আর কোন ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে মতামত দেন, সহ সভাপতি নাজমুল হাসান ও বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার ও ক্ষুদ্র হয়ে বক্তব্য রাখেন, ইসহাক সরকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বর্তমান ছাত্রদলের এই কমিটি এটি সবচেয়ে ডাউট কমিটি,দেশের ইতিহাসের মধ্যে এতবড় কোনো কমিটি হয় নাই। কমিটি হয়েছে ভালো কথা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্বাজানানোর মতো যাদের সুযোগ হয় নাই তাহলে কিসের এই কমিটি। কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে এখন নতুন ভাবে আবার নতুন কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক (ক্যাশিয়ার) আকরাম । নতুন গঠিত ১৯ টি ইউনিট কমিটির অধিকাংশগুলোতেই দলীয় সংগঠনের নিয়ম নীতি মানা হয়নি। ২০০০ সালের এস এস সি’র ব্যাচ ধরে নেতা নির্বাচনের কথা থাকলেও তারা বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে ৯৭/৯৮ ব্যাচ থেকে নেতা নির্বাচন করেছেন , দলের মধ্যে কোনো ধরণের শৃঙ্খলাই নেই।