ছাত্রলীগের দুই নেতার অস্ত্রের অনুশীলন! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ছাত্রলীগের দুই নেতার অস্ত্রের অনুশীলন!

প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৭

ছাত্রলীগের দুই নেতার অস্ত্রের অনুশীলন!

‘বন্দুক দিয়ে টার্গেট প্র্যাকটিস করি, বন্দুকের নিশানা এবার তুই’। বন্দুকসহ ফটোসেশন করে এমন প্রকাশ্য হুমকি সংবলিত ছবি নিজেদের ফেসবুকে আপলোড করেছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা। এই ঘটনা নিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলায় তোলপাড় চলছে।

প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এটাকে অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে আসন্ন ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাটি এখন দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও প্রকাশ্য হুমকি হিসেবেই দেখছেন। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ার প্রচেষ্টার অভিযোগও এনেছেন তারা। এ ঘটনা নিয়ে উপজেলার সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় চলতি বছরের শেষ দিকে সম্মেলন করার জন্য নির্দেশনা দেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অর্ধডজনের বেশি প্রার্থী থাকলেও তাদের সঙ্গে পদ লাভের দৌড়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন সভাপতি প্রার্থী প্রসেনজিৎ দাস অপু এবং সম্পাদক প্রার্থী কাওসার মাহমুদ মুন্না। রবিবার রাতে সভাপতি প্রার্থী প্রসেনজিৎ দাস অপু এবং সম্পাদক প্রার্থী কাওসার মাহমুদ মুন্না বন্দুক হাতে নিশানায় তাক করে নিজেদের আলাদা আলাদা ছবি তোলেন।

বন্দুক হাতে ওই ফটোসেশন করা তিনটি ছবি তারা রবিবার রাত ১১টা ২১ মিনিটে নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে আপলোড করেন। সেই সঙ্গে ছবির সঙ্গে লেখেন ‘বন্দুক দিয়ে টার্গেট প্র্যাকটিস করি, বন্দুকের নিশানা এবার তুই’। প্রতিপক্ষকে এমন প্রকাশ্য হুমকি সংবলিত ওই লেখাসহ বন্দুক হাতে নিজেদের তিনটি ছবি কাওসার মাহমুদ মুন্না তার ওয়াল থেকে পোস্ট করে সেটা প্রসেনজিৎ দাস অপুকে ট্যাগ করেন। অপু ছাড়াও বন্দুক হাতে আলাদা আলাদা তিনজনের ছবিসহ ওই পোস্টটি যুবলীগ নেতা মিন্টু এবং সময়ের বার্তা কাওসার মাহমুদ নামে নিজের আরেকটি ফেসবুকে আইডিতেও ট্যাগ করেন মুন্না।

এদিকে রবিবার রাতে আপলোড করা ওই ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। সোমবার দিনভর ও মঙ্গলবার এ ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ফেসবুকসহ সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা ও ছাত্রমৈত্রীর একাধিক নেতা জানান, এই ধৃষ্টতা ক্ষমতার দাপটে অন্ধ হয়ে যাওয়া ছাত্রলীগ নেতাদের প্রকাশ্য আস্ফালন। এই ঘটনা সুস্থ রাজনীতি চর্চার জন্য এক অশুভ সংকেত। অন্যদিকে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অপু-মুন্না এক ঢিলে দুই পাখি মারা চেষ্টা করেছে।