ছাত্রলীগ সভাপতি’র বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ছাত্রলীগ সভাপতি’র বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭

ছাত্রলীগ সভাপতি’র বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে নির্যাতন ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের ভিটিদাউদপুর গ্রামে মাহবুরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতি মাহবুবকে প্রধান আসামি করে বিজয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এখনো মামলাটি নথিভুক্ত করেনি। মামলায় মাহবুবের সহযোগী আবদুল বাতেন (২২) ও উসমান মিয়া (২০), তার ভাবী রেহেনা আক্তারসহ (২৫) অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ায় পুলিশ মামলাটি নথিবুক্ত করছে না বলেও অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

মামলার এজহার ও গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে একটি পারিবারিক বিষয় নিষ্পত্তির জন্য পাহাড়পুর ইউনিয়নের খাটিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ওই নারী তার বড় বোন মহিলা ইউপি সদস্য সেলিনা বেগম ও খালা সাজেদা বেগমের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ভিটিদাউদপুর গ্রামে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব হোসেনের বাড়িতে যান।

এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতির বড় ভাইয়ের স্ত্রী রেহেনা আক্তার তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা বাড়িতে ফিরে আসার জন্য সেখান থেকে বের হয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রলীগ সভাপতি মাহবুব তার দুই সহযোগী আবদুল বাতেন ও উসমান মিয়াসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জন ঘটনাস্থলে এসে ওই তিনজনকে চারদিক থেকে ঘিরে যৌন হয়রানিমূলক গালিগালাজ শুরু করেন।

একপর্যায়ে মাহবুব ও তার সহযোগীরা ওই নারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে তার বসতবাড়ির একটি ঘরে দরজা-জানালা বন্ধ করে আটকে রাখে। এসময় ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে মাহবুব। এছাড়া ছাত্রলীগ সভাপতির সহযোগীরা তার বোন ও খালাকেও লাঞ্ছিত করেন। পরে বোন মুঠোফোনে আরেক ইউপি সদস্য মো. নাসির মিয়াকে বিষয়টি অবগত করলে তারা ওই নারীকে উদ্ধার করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব হোসেন বলেন, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমি উল্টো নাস্তা খাইয়ে তাদেরকে গাড়িতে তুলে দিয়েছি। কেন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সেটি আমার বোধগম্য নয়।

এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী আর্শাদ বলেন, ওই গৃহবধূ ধর্ষণ চেষ্টার যে অভিযোগ দিয়েছেন সেটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের তদন্ত এখনও অব্যাহত আছে।