ছাত্রীর চোখে আঘাত করেও বেপরোয়া নির্যাতনকারী সহকারী শিক্ষিকা নার্গিস – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ছাত্রীর চোখে আঘাত করেও বেপরোয়া নির্যাতনকারী সহকারী শিক্ষিকা নার্গিস

প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০১৬

ছাত্রীর চোখে আঘাত করেও বেপরোয়া নির্যাতনকারী সহকারী শিক্ষিকা নার্গিস

14555924_595050110677041_1693374882_n৪ অক্টোবর ২০১৬. মঙ্গলবার: একটি সত্য ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে বিপাকে পড়েছেন একজন নিরিহ মানুষ। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লামাচন্দরপুর গ্রামের মৃত মখলিছ আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন (৬২) এঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফলিক খান কর্তৃক ওসি সহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ দাখিল করেন। এর মধ্যে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এর মধ্যে একটি অভিযোগের স্বাক্ষী ছিলেন উক্ত ইসলাম উদ্দিন। এ অবস্থায় আসামীদের পক্ষ নিয়ে ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তারা চরমভাবে ক্ষেপেছেন উক্ত স্বাক্ষীর বিরুদ্ধে। পুলিশি তৎপরতার কারণে এখন ইসলাম উদ্দিনের পরিবার জিম্মি অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। প্রবাসী ফলিক মিয়া, ইসলাম উদ্দিন সহ তাদের অনেক আত্মীয়স্বজনের সন্তানেরা স্কুলে যেতে পারছে না। ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষকদের যোগ সাজসের মাধ্যমে পুলিশের সহযোগতায় হয়রানি করে যাচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে ইসলাম উদ্দিনের ২য় শ্রেণী পড়–য়া ছাত্রীকে স্থানীয় লামা চন্দরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরহাকরী শিক্ষিকা নারগিস বেগম শিমু কন্যাকে তুচ্ছ কারণে অমানবিকভাবে শারিরীক নির্যাতন করে। তার আক্রমণে ছোট্ট শিশুটির চোখে মারাত্মক আঘাত লাগে। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব না হওয়ায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন মেয়েটির চোখের অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় শিক্ষিকা নারগিছ বেগমকে প্রধান আসামী করে ২২ মার্চ একটি মামলা করেন মেয়েটির পিতা। মামলা নং- সিআর-৫৫/১৬। মামলার অন্যান্য আসামীরা হচ্ছেন গোলাপগঞ্জ থানার ওসি শিবলী, এস আই জাফর, মশিউর ও আতিকের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় লামাচন্দর পুরের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফলিক উদ্দিন খানের সাথে একটি পক্ষের বিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ফলিক দেশে এসে বিভিন্ন জনহিতকর কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। নিজ উদ্যোগে রাস্তাঘাট নির্মাণ সহ মসজিদ, মাদরাসাও প্রতিষ্ঠা স্থাপন করেছেন। এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীগের সহযোগীতাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। এসব জনকল্যাণ মূলক কাজ দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠে একটি মহল। তারা ফলিক খানকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে বিভিন্ন ইস্যু বা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানি করছে। ২০০০ সালে ফলিকের বিরুদ্ধে আদালতে একটি সাজানো মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডি পুলিশ। তদন্তে উক্ত মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে মুক্তিপান প্রবাসী ফলিক উদ্দিন খান। অভিযোগ রয়েছে ফলিক খানের দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না। সূত্র জানায়, ফলিকের প্রতিপক্ষের লোকদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা নিয়ে প্রভাবিত হয়ে পড়েছেন গোলাপগঞ্জ থানার ওসি। তাছাড়া অভিযোগ রয়েছে ফলিক উদ্দিন ও তার বোনের কাছ থেকে নানা অজুহাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। গোলাপগঞ্জ থানার ওসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশী বংশদ্ভোত যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকের দায়ের করা একটি মামলার প্রধান স্বাক্ষী ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষেপেছেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ তাদের অন্যান্য সহযোগীরা। চন্দরপুর গ্রামের মৃত মখলিছ আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন মার্কিন নাগরিকের স্বাক্ষী হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। প্রশাসন দিয়েও প্রভাব খাটিয়ে তারা এখন ইসলাম উদ্দিনকে নানাভাবে হয়রানী করছেন। যে কারণে ইসলাম উদ্দিনের পরিবারবর্গ মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। এ ঘটনায় বাধ্য হয়ে ইসলাম উদ্দিন ২০ সেপ্টেম্বর সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালতে একটি দরখাস্ত মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং- ১৯৮/১৬) এতে তিনি অভিযোগ করেন গোলাপগঞ্জ থানার ওসি ফজলুল হক শিবলী, এসআই জাফর, এসআই আতিক এবং সেলিম উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, লিয়াকত আলী, জিলাল উদ্দিন, জুনেদ আহমদ, রেজা, আজাদ উদ্দিন ১০ সেপ্টেম্বর উপরোক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা ইসলাম উদ্দিনের রাত সাড়ে ১১টায় ইসলাম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা জানালা ভেঙ্গে ইসলাম উদ্দিনকে খোজেন। এসময় তিনি প্রাণের নিরাপত্তার জন্য আত্মগোপন করেন। এ সময় ইসলাম উদ্দিকে না পেয়ে তার বড় ছেলে আব্দুস সামাদকে মারধার করেন তারা। তাছাড়া রুমানা বেগমকে চুলে ধরে ঘুষি ও চর মারেন। কিল, ঘুষি ও লাথির আঘাতে রুমানা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় পরিবারের সদস্যদের অশালিন ভাষায় শাসিয়ে দিয়ে বলা হয় যে, ইসলাম উদ্দিনকে বলবে সে যেন ফলিক উদ্দিনের সাথে কোন সম্পর্ক না রাখে। আবার যদি তোদের বাসায় আসি তাহলে সবাইকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে শিক্ষা দেওয়া হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা দম্ভের সাথে বলেন ফলিককে যদি শহরের কোথায় পাই তবে তাড়গোড় গুড়া করে দিব। অস্ত্র বা মাদক দিয়ে কোর্টে চালান করে দিব। এসময় ওসি পুলিশের উপস্থিতিতে অন্যান্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। তিনি এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।