ছাত্র আন্দোলন অতঃপর ছাত্ররাজনীতি-রাশেদুজ্জামান রাশেদ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ছাত্র আন্দোলন অতঃপর ছাত্ররাজনীতি-রাশেদুজ্জামান রাশেদ

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০১৮

ছাত্র আন্দোলন অতঃপর ছাত্ররাজনীতি-রাশেদুজ্জামান রাশেদ

ইতিহাস থেকে পাওয়া সেই ১৯৫২ সালের ভাষা অন্দোলন কিংবা তারও আগে থেকে ছাত্র আন্দোলনের শুরু। আন্দোলনের শুরুটা ছাত্রদের অধিকার আদায়ের দাবি-দাওয়া দিয়ে হলেও পরবর্তীতে তা রুপ নেয় দেশের রাজনৈতিক ইস্যুতে। আত্মত্যাগের মাধ্যমে সফলতার সহিত ১৯৫২, ১৯৭১ ও সর্বশেষ ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলন অতিক্রম করে তার স্বর্ণযুগ। পরবর্তী সময় এই ছাত্র আন্দোলনই রুপ নেয় দেশের ছাত্র রাজনীতিতে। সময়ের পরিক্রমায় বন্ধ হয়ে যায় ঐতিহ্যবাহী ডাকসু নির্বাচন। শিক্ষাঙ্গনে শুরু হতে থাকে দলীয় রাজনীতির প্রভাব। ছাত্ররা জড়িয়ে পড়ে সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে। সাম্প্রতিককালে যার ফল হিসেবে বন্ধ হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র আন্দোলন। বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে শুরু হয়ে যায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের এক মহাউৎসব। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বেতন, পরিক্ষা ফি বা ভর্তি বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলেও ছাত্রনেতারা আন্দোলন কিংবা সমঝোতা করে তা সুষ্ট সুরাহা করেনা অথচ তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের উপর মামলা হামলা কিংবা অভিভাবক সংগঠনের যৌক্তিক বা অযৌক্তিক কর্মসূচি তা পালন করা হয় শিক্ষাঙ্গনে উৎসব আমেজের মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায়। ছাত্রদের হাতে কলম থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ সময় অস্ত্রই দেখা যায়। যার ফলে প্রতিনিয়ত দেখতে হচ্ছে ছাত্রদের লাশের দীর্ঘ মিছিল। ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে ছাত্রদের থাকার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্কুল পড়ুয়া ছাত্রের অভিভাবকরা। যার ফলশ্র“তিতে ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব বাবাদের হাতে। কাজেই তৈরি হচ্ছেনা বাংলাদেশের আগামীর সম্ভাবনা আর দক্ষ রাজনীতিবিদ। এতো সব অনিয়ম আর ব্যর্থতার দায়ভার কোন অবস্থাতেই এড়িয়ে যেতে পারবেন না ছাত্র সংগঠনগুলোর অভিভাবক সংগঠন গুলোর নেতারা। আমার এ লেখার উদ্দেশ্য কোন ছাত্র সংগঠনকে কষ্ট দেওয়ার জন্য নয়। তারপরও যদি কোন নেতা কর্মী আমার লেখা পড়ে কষ্ট পেয়ে থাকেন আমি দুঃখ প্রকাশ করছি আপনাদের প্রতি। আমার এই লেখা পড়ে অনেকেই হয়তো আলোচনা-সমালোচনা করবেন তাদের উদ্দেশে বলছি বর্তমানে দেশের শিক্ষাঙ্গন তথা দেশের সর্বাবস্থায় সুষ্ট পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আর একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মান করতে ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। আর এসব লেখা লেখির মাধ্যমেই ছাত্র সমাজের অতীত ঐতিহ্য মনে করিয়ে দিয়ে ঘুমন্ত ছাত্রদের মনুষত্বকে জাগ্রত করতে হবে। তাই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। পরিশেষে ছাত্র সংগঠনগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে অভিভাবক নেতৃবৃন্দের কাছে আমার জোর দাবী বাবাদের হাত থেকে ছাত্র সমাজকে রক্ষা করে ছাত্রনেতাদের উপর নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়ে তাদেরকে স্বাধীনভাবে ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ করে দিন। ইনশাল্লাহ আমি বিশ্বাস করি এখনকার ছাত্রনেতারা অতীতের সময়ের চেয়ে মেধা সম্পন্ন। তারা সঠিক নেতৃত্ব পেলে প্রিয় বাংলাদেশকে দাড় করিয়ে দিবে অনন্য উচ্চতায়।