ছড়ালোক সম্মাননা পেলেন শ্যামল সিলেট’র সম্পাদক-প্রকাশক মনিসহ ১১ ছাড়াকার

প্রকাশিত: ২:১৮ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২২

ছড়ালোক সম্মাননা পেলেন শ্যামল সিলেট’র সম্পাদক-প্রকাশক মনিসহ ১১ ছাড়াকার

ছড়ালোক সম্মাননা পেলেন শ্যামল সিলেট’র সম্পাদক-প্রকাশক মনিসহ ১১ ছাড়াকার

একটি ছড়া সমাজকে নাড়িয়ে দিতে পারে-আনজীর লিটন

স্টাফ রিপোর্ট

 

ছড়াসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেলেন ১১ কবি, সাহিত্যেক, ছড়াকার। শুক্রবার (১৩ মে) বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছড়ার ছোটকাগজ ‘ছড়ালোক’।

অনুষ্ঠানে ছড়া সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ছড়ালোক সম্মাননা ২০২২, ঢালপত্র পদক ২০২১ এবং টুংটাং পদক ২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক আনজীর লিটন, মুখ্য আলোকের বক্তব্য রাখেন কবি ও ‘রেডটাইমস’ সম্পাদক সৌমিত্র দেব, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লেখক ও সংগঠক জামান মাহবুব।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছড়ালোকের ছড়াকার ও সম্পাদক শাহাদত বখত শাহেদ।

ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক মিনহাজ ফয়সলের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছড়ালোক সম্মাননা প্রদান করা হয় ছড়াকার আনজীর লিটনকে। ঢালপত্র পদক দেওয়া হয় ৫জনকে। তারা হলেন-নতুন শতাব্দীর দৈনিক শ্যামল সিলেট’র সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যাপক নুরুজ্জামান মনি, শাহীন ইবনে দিলওয়ার (মরণোত্তর), বদরুল আলম খান, রহমান তাওহীদ, আকরাম সাবিত।

টুংটাং পদক পেয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- মিলু কাশেম, এনায়েত হাসান মানিক, অজিত রায়ভজন, সিরাজ উদ্দিন শিরুল ও ছাদির হুসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন বলেন, সিলেট কেবল আমার নয়, সারা দেশের মানুষের প্রিয় শহর। সিলেটে কবিতা, গান তেমন দাঁড়ায়নি, যতটকু দাঁড়িয়েছে ছড়া। আগে বাংলাদেশে ছড়া পরিষদ হতো সিলেটে। সিলেটের ইতিহাসটা ছড়ার ক্ষেত্রে বর্ণাঢ্য ছিল, মাঝখানে কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। তবে ছড়ালোকের মাধ্যমে আবারো ঘুরে দাঁড়াবে আশাবাদি তিনি।

তিনি বলেন, ছড়ার জন্য আমার দীর্ঘ জীবন। ছড়াকে বলা হয় ছড়া সমাজ বদলের হাতিয়ার।একটি ছড়া সমাজকে নাড়িয়ে দিতে পারে। আগের ছড়ায় ছিল স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু আমাদের সেই ভিত তৈরী করে দিয়ে গেছেন। এখন আমার দেশ হয়েছে, ভাষা হয়েছে। ছড়াকাররা অতীতের তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন, বর্তমানের সঙ্গে যান না। সময় এসেছে ছড়ার মাধ্যমে সময়ের বিবর্তনে নতুন কিছু করার। সত্তোরের দশকের ছড়ার উপর ভর করে আমরা আজ দাঁড়িয়ে। আশির দশকে নানা অসঙ্গতিপূর্ণ বিষয় তুলা হয়েছে। যার ফল মিলেছে ৯০ দশকে এসে স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে। তাই ছড়া হোক সময়ের হাতিয়ার।

তিনি আরও বলেন, ছড়াকে হস্যরসের মধ্য দিয়ে আমরা নষ্ট করে দিয়েছি। যে কারণে একজন কবি যতটুকু সম্মানিত হন, ততটুকু ছড়াকাররা হচ্ছেন না। ছড়া নষ্টের আরেক কারণ ফেসবুক। লেখা প্রকাশ সহজ হয়ে গেছে, তাই ভাবনাগুলো সহজ হয়ে গেছে। ফেসবুকের ফলোয়ার সাহিত্যের মান নির্ণায়ক না। তাই লেখক হিসেবে সমাজের অসঙ্গতির কথা কবিতা, ছড়ায় উঠে আসতে পারে।ফেসবুক কোনো লেখালেখির মাধ্যম হতে পারে না। এখন যারা লিখছেন সমালোচনা সইবার শক্তি থাকতে হবে। আগে নামের কাঙালের জন্য লেখালেখি করতাম। নিজের নামকে ছাপা অক্ষরে ভালবাসো।

আনজীর লিটন বলেন, আসুন আমরা নতুন কিছু ভাবি, নতুন কিছু করি। নতুন করে ভাবি। ছড়াতে বার্তা থাকতে হবে। দশজনকে ভাল লিখতে হবে। দেশের কথা, মানুষের কথা থাকতে হবে ছড়ায়। দেশকে না চিনলে লিখতে পারবেন না। দেশ ও দেশের মানুষকে না চিনলে কি লিখবেন? যতদুরে যান, যেখানেই যান, বুকের ভেতর বাংলাদেশ থাকতে হবে। ছড়াকে শিশুদের মধ্যে ডুকিয়ে সাইড লাইনে নেওয়া হচ্ছে। ছড়াতে নতুন রং, মাত্রা দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। পরম্পরাবোধ থাকতে হবে, জানতে হবে। চিনতে হবে, যারা বিগত দিনে লিখেছেন, তাদের জানতে হবে। আর ভালবাসার মানে হলো দুজনের পাগামি। তাই সাহিত্যের জন্য পাগলাটে মানুষ দরকার, যিনি সাহিত্যের, ছড়ার জন্য পাগল হবেন। জাতির জনকের দেখানো পথে লিখবো। “যার আছে ভাল দৃষ্ট, সেই করে ভাল সৃষ্টি “। সমাজের অসঙ্গতির কথা কবিতা, ছড়ায় উঠে আসতে পারে।

মুখ্য আলোচক হিসেবে কবি রেড টাইমসের সস্পাদক সৌমিত্র দেব বলেন, ছড়া নিয়ে সিলেটে ছড়া লোকের মতো সংগঠন আছে। সিলেট এক সময় ছড়ার রাজধানী ছিল। এখানের লেখকরা ঢাকার ছড়ার পত্রিকাগুলো দখল করে ছিল। কবি দিলওয়ারের পরে ছড়ার চর্চা খুব বেশি হয়েছে। এখানে ছড়ার প্রাচুর্য।

তিনি বলেন, সিলেট জাতীয়মানের কাগজ করেছেন শাহেদ। পিবিসি প্রকাশনা ঢালপত্র ৪র্থ শিল্প বিপ্লব হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। সিলেটে ছড়ার চর্চা আছে, থাকবে।

বিশেষ অতিথি জামান মাহবুব বলেন, ছড়া খুব শক্তিশালী মাধ্যম। আমাদের সময় ছিল আন্দোলনের হাতিয়ার। স্বৈরশাসককে হঠাতে ছড়াকে আমরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছি। ছড়া আসলে সহজ বিষয় নয়, ছড়া ছান্দিক, মাত্রা থাকতে হয়। তাই ছড়া লিখতে হলে পড়ালেখার প্রয়োজন রয়েছে। আগে ছড়া নিয়ে সমালোচনামূলক লেখা হতো। এখন তা অনুভব করি৷

ঢালপত্র পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ছড়াকার শ্যামল সিলেট’র সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যাপক নুরুজ্জামান মনি অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী আন্দোলন স্মরণ করি, তখন ছড়া লেখায় আমাদের প্রতিযোগীতা হতো। কোন পত্রিকায় কার লেখা ছাপা হয়েছে, এ নিয়ে আমাদের প্রতিযোগীতা থাকতো। এ নিয়ে প্রাণোচ্ছল ছিল, এখন তা নেই। তবে গণমাধ্যমে অনেকের লেখার সঙ্গে পরিচিত হতে পারি। অনুজপ্রতীমরা এখন ছড়া-সাহিত্যে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, আগে কলেজে অধ্যাপনাকালে সাহিত্যে নেশা বস হয়ে উঠতে দেয়নি। সহকর্মীদেরও স্যার বলে সম্মোধন করতে দেইনি, ভাই ডাকটিতে মাধুর্য খুঁজেছি, দেশ ছাড়লেও এখনো সেভাবে আছি। আর দেশের বাইরে থাকলেও মনে-মননে দেশে বাস করি। প্রবাসেও দরজা বন্ধ বন্ধ করে দেশের জন্য, মানুষের জন্য লিখি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল