জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ৩ জঙ্গির মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ৩ জঙ্গির মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে

প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৭

জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ৩ জঙ্গির মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে

নিজস্ব প্রতিনিধি: সিলেটে বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় শীর্ষ জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন জঙ্গির মৃত্যু পরেয়ানা কারাগারে পৌঁছেছে। শনিবার রাতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে পৌঁছে বলে সোমবার রাত ১১টায় নিশ্চিত করেন সিলেট কেন্দ্রিয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. সগির মিয়া।

তিনি জানান, সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল থেকে শীর্ষ জঙ্গি মুফতি হান্নান ও বিপুল কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে থাকায় বিশেষ দূত মারফত তাদের মৃত্যু পরোয়ানা সেখানে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দেলোয়ার হোসেন রিপনের মৃত্যু পরোয়ানা বর্তমানে সিলেট কারাগারে রয়েছে।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল আলোচিত এ মামলার ১৬৭ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশিত হয়। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। এই মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন মুফতি আবদুল হান্নান, হুজির সিলেট অঞ্চলের সংগঠক শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপন। মামলার অপর দুই আসামি মুফতি হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান অভি এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

মুফতি হান্নান নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) শীর্ষস্থানীয় নেতা। ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাস্থলের কাছে বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় প্রথমবারের মতো তিনি আলোচনায় আসেন। ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বোমা হামলা, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা কিংবা ২০০৫ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার মতো উল্লেখযোগ্য নাশকতার ঘটনার অন্যতম সংগঠন ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন মুফতি হান্নান। তারই পরিকল্পনায় ২০০৪ সালের ২১ মে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর সিলেটের শাহজালাল (র.) মাজারে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।

তৎকালীন নবনিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী সিলেটে হজরত শাহজালালের (র.) মাজার জিয়ারত করতে যান। সেখানে দরগাহ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার সময় প্রধান ফটকের কাছে তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনজন নিহত হন। আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল হাই খানসহ প্রায় ৭০ জন আহত হন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল