জট খুলছে যুবদল কমিটির: সভাপতি হচ্ছেন নিরব, সাধারণ সম্পাদক টুকু – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জট খুলছে যুবদল কমিটির: সভাপতি হচ্ছেন নিরব, সাধারণ সম্পাদক টুকু

প্রকাশিত: ১:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৬

জট খুলছে যুবদল কমিটির: সভাপতি হচ্ছেন নিরব, সাধারণ সম্পাদক টুকু

bnp-logo-dol১৮ অক্টোবর ২০১৬: মঙ্গলবার: অবশেষে যুবদলের নতুন কমিটি দেয়ার জট খুলেছে। খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে এ কমিটি। তবে প্রথমে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ সভাপতি, প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সুপার ফাইভ কমিটি দেয়া হবে। কমিটিতে সাইফুল আলম নিরব সভাপতি এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সাধারণ সম্পাদক করা হচ্ছে। সিনিয়র সহ সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, এস এম জাহাঙ্গীর ১ম যুগ্ম সম্পাদক এবং রফিকুল আলম মজনুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হচ্ছে। বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার পর যুবদল কমিটি নিয়ে একাধিক বার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর নিরব-টুকু অর্থাৎ বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিবরকে সভাপতি এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি চূড়ান্ত করা হয়। পরবর্তীতে  নিরবের বিপক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই প্রভাবশালী নেতা শক্ত অবস্থান নেয়ায় চূড়ান্ত কমিটি ঘোষণা আটকে যায়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়েন হাই কমান্ডও। ঝুলে যায় কমিটি ঘোষণা।

সুত্র জানায়, নিরবকে নিয়ে দুই সিনিয়র নেতার আপত্তি থাকলেও সেটিকে কাটিয়ে ওঠেন নিরব। কারণ নিরবের লন্ডন লবিং খুবই শক্তিশালী। তারেক রহমানও চান যুবদল সভাপতির পদে নিরবকে।

গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল রোববার রাতে যুবদল কমিটির বিষয়ে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও নিরবকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। নিরবের সাথে একান্তে দীর্ঘক্ষন কমিটি ও সংগঠন নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় সুপার ফাইভ কমিটি দেয়ার বিষয়টি চুড়ান্ত হয়। এসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কমিটি চূড়ান্ত করতে গত শনিবারও আলালকে ডেকে নিয়ে কমিটির বিষয়ে তার মতামত নিয়েছেন খালেদা জিয়া। কমিটির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

তবে বিএনপির আরেকটি সূত্র বলছে, সাইফুল আলম নিরব কোনো কারণে বাদ পড়লে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি করে এসএম জাহাঙ্গীর কিংবা রফিকুল আলম মজনুকে সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে। যুবদলের কমিটি ঘোষণার পর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, যুবদলের কমিটি ঘোষণাকে সামনে রেখে প্রায় প্রতিদিনই চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে হাজিরা দিচ্ছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। সালাম দিয়ে দোয়া চাইছেন। খালেদা জিয়া যখন কার্যালয়ে আসেন তখন কেউ কেউ নিজ নিজ সমর্থক নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউন করেন।

যুবদল সহ সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরুও নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদ প্রত্যাশি। রোববার রাতে তিনিও গুলশান কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে নিউজবাংলাদেশকে জানান।

তিনি বলেন, “যুবদলের অনেকেই এখানে আসেন। অনেক দিন ধরেই শুনছি নতুন কমিটি দেয়া হবে। আমাকে যেখানে রাখা হবে সেখানেই কাজ করব।”

যুবদলের কমিটি ঘোষণার বিষয়ে জানতে আলালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চেয়ারপারসন যুবদলের কমিটিতে জায়গা পেতে ইচ্ছুক নেতাদের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তিনি যতটুকু পেরেছেন তথ্য দিয়েছেন।

যুবদলের নতুন কমিটি কবে নাগাদ ঘোষণা হতে পারে জানতে চাইলে আলাল জানান, চেয়ারপারসন সুস্পষ্টভাবে কিছু বলেননি। তবে খুব তাড়াতাড়ি কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে তার মনে হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের মার্চে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সভাপতি এবং সাইফুল আলম নিরবকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে দুই সদস্য বিশিষ্ট ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের কমিটিও ঘোষিত হয়। কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও তা পালন হয়নি। ছয় বছরেরও অধিক সময় ধরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটি বহাল রয়েছে। এরই মধ্যে যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আলাল যুবদল সভাপতির পদে থাকতে চান না সেটা অনেক আগেই বিএনপি চেয়ারপারসনকে জানিয়ে দিয়েছেন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল