জনতার কামরানের বিদায় ! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জনতার কামরানের বিদায় !

প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০

জনতার কামরানের বিদায় !

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আর নেই। রবিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। ‘জনতার মেয়র’ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া কামরানকে আজ সোমবার সিলেটে দাফন করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, বন ও পরিবেশমন্ত্রী, সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিসিক মেয়র, আওয়ামী লীগসহ রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সিসিকের ইতিহাসে প্রথম দুই মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে পরের দুই দফায় তিনি হেরে যান। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পদ পান। আগের দফায়ও একই পদে ছিলেন কামরান।

জানা গেছে, সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় গত ৫ জুন করোনাক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন কামরান। পরদিন তাকে স্থানীয় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কামরানকে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গত ৭ জুন সন্ধ্যায় বিমানবাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়। এতে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু রবিবার দিবাগত রাতে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনকে শোকে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কামরান।

কামরানের ভাই আহমদ ইসমত জানান, সোমবার সিএমএইচ থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে কামরানের মরদেহ সিলেটে নিয়ে আসা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর ছড়ারপাড়ে নিজ বাসায় কিছু সময় রাখা হয় তাঁর মরদেহ। জোহরের পর ছড়ারপাড় জামে মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর তাঁর মরদেহ নগরীর মানিকপীর টিলা কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁর মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়। শেষ ইচ্ছা অনুসারে মা-বাবার কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।

এদিকে, কামরানের মরদেহ সিলেটে পৌঁছার পর নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজেদের প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে ঢল নামে সবার। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধির কারণে সবাই সে সুযোগ পাননি।

কামরানের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে গতকাল সকালে তাঁর বাসায় ছুটে যান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি কিছু সময়ের জন্য কামরানের মরদেহ নগর ভবনে নেওয়ার দাবি জানান। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয়নি। তবে কামরানের মৃত্যুতে সিসিকের পক্ষ থেকে তিন দিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল