জলাবদ্ধতায় সিলেট বিসিক, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান

প্রকাশিত: ২:১১ পূর্বাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০

জলাবদ্ধতায় সিলেট বিসিক, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান

পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সিলেটের বিসিক শিল্পনগরী গোটাটিকর এলাকায় প্রায় ১০/১২টি রাইসমিলের মালিক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির সম্মুখিন। রাইসমিলের ভেতর-বাহির চারদিকে হাটুসমান পানি জমে থাকার কারণে এই ব্যবসায়ীরা চোখে অন্ধকার দেখছেন।

চলতি মৌসুমে তারা কোনোভাবেই ব্যবসা করতে পারছেন না এই জলাবদ্ধতার কারনে। সিসিক মেয়র, জেলা প্রশাসক, জনপ্রতিনিধি এবং বিসিক ব্যবস্থাপকদের কাছে বার বার এ সমস্যার কথা জানালে তারা পাচ্ছেন না কোনো প্রতিকার।

দেখা গেছে, ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরা। কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনে নেই কোনো ব্যবস্থা। মূল সড়কের চেয়ে প্লটগুলো নিচু হওয়া ফলে ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। আর এতে চরম ক্ষতির সম্মুখি হয়েছেন প্রায় ১০/১২টি অটো রাইসমিলের মালিক ও ব্যবসায়ী।

এদের মধ্যে জেদ্দা অটো রাইস মিল, আরাফাত অটো রাইস মিল, সোনার বাংলা অটো রাইস মিল, রূপালী এলুমোনিয়াম, স্বাদ এন্ড কোম্পানী, মামনি ফুড প্রোডাক্স ছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ এবং তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

গত দু মাস থেকে মিলগুলোর উঠোনে এবং যেখানে ধান শুকানো হয় সেখানে হাটু সমান পানি জমে রয়েছে। মিলের ভেতরে এবং বাহিরে পানি থৈ থৈ অবস্থা। পানিতে ডুবে থাকা ধানে চারাও গজিয়ে গেছে।

জেদ্দা অটো রাইসমিলের মালিক কয়েস আহমদ জানান, এই জলাবদ্ধতার কারনে আমরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। গত দু মাস ধরে মিলগুলোর উঠোনে পানি জমা থাকায় লাখ লাখ টাকার ধান নষ্ট হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। যতই সময় গরাচ্ছে ধান নষ্ট হতেই আছে। এই মৌসুমে কৃষকদের সঙ্গে ভালো ব্যবসা হওয়ার কথা থাকলেও এবারে এসব কিছুই করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি শ্রমিকরা বেকার অবস্থায় শ্রমিকের মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। ব্যবসা না করলে পরিবার চালাবো কী করে? এমন অবস্থা চললে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

মিল মালিকরা আরও বলেন, এ বিষয়ে বার বার সিটি কর্পোরেশন ও বিসিক কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও, তারা কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না। এছাড়াও বর্জ্যের দুর্গন্ধে পুরো শিল্পনগরীই অনেকটা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্যের কারণে দূষিত হচ্ছে স্থানীয় পরিবেশ।

এখানকার উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের জন্য বিসিকের জমিতে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলেছেন তারা। কিন্তু বিসিক থেকে কোনো সেবাই প্রদান করা হয় না। শিল্প মালিকদের দাবি, এখানকার বড় সমস্যা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বিসিকের ভেতরে পানি জমে বিষাক্ত হয়ে ওঠে এলাকা। কিন্তু বিসিকের পক্ষ থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের কোনো উদ্যোগই নেই।

বিসিক শিল্পনগরী এলাকার সার্বিক দিক বিবেচনা করে রাইসমিল মালিক ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের ক্ষতির সম্মুখিন থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন ব্যবসায়ীরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল