জাতীয় প্রেসক্লাবের দখলদার বাহিনী আজকের এ ঘটনার জন্য দায়ী !!!! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জাতীয় প্রেসক্লাবের দখলদার বাহিনী আজকের এ ঘটনার জন্য দায়ী !!!!

প্রকাশিত: ২:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০১৮

জাতীয় প্রেসক্লাবের দখলদার বাহিনী আজকের এ ঘটনার জন্য দায়ী !!!!

ঐতিহ্য-সম্মান ধ্বংস করে ক্লাবের ভেতর প্রবেশ করে

অস্ত্র উঁচিয়ে ওরা যে ঘটনা ঘটালো তা ইতিহাস হয়ে থাকবে

বাবুল তালুকদার: র্দীঘ ২৪ বছর ফটো সাংবাদিকতা করার পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মানিত সদস্য হয়েছিলাম গত ৩ বছর আগে, কিন্তু ২ বছর আগে বিনা নির্বাচনে নির্বাচিতরা ! জাতীয় প্রেসক্লাব দখল করে, আর সেই দখলদার বাহিনী সেদিন দখল বজায় রাখতে পোশাকধারী পুলিশ ক্লাবের ভেতরে এনে মহড়া দিয়েছিলো।পরে সেই দখলদাররা কোনো কারণ না দেখিয়েই আমিসহ ৪৩ জন সাংবাদিকের সদস্য পদ খারিজ করে দিয়েছিলো। তাই আমি মনে করি আজকের এ ঘটনার জন্য দায়ী সেই দখলদার বাহিনী। কারণ তারাই এ পথ দেখিয়ে দিয়েছিলো।

এ প্রসঙ্গে কিছু পুরোনো কথা আজ নতুন করে বলার প্রয়োজন, আমি ফটো সাংবাদিকতায় যখন আসি তখন ছিল সাদা কালোর যুগ, ছিল না মোবাইল ফোন, সারা দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের টিএনটি ফোন থেকে আসা খবর শুনে সংবাদ সগ্রহ করতাম।

আজ থেকে প্রায় ২২ বছর আগে, দৈনিক লাল সবুজ পত্রিকায় ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার সুবাদে পত্রিকার তিনজন সাংবাদিকের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম জন বার্তা সম্পাদক নয়িম নয়রোজ ভাই, তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজ শেষে অফিসে যেতে যেতে রাত ১০ টা থেকে ১১ টা বাজতো, তারপর সাদা কালো ফ্লিম ডেভলপ করে, ছবি প্রিন্ট করতে করতে রাত ১২ টা থেকে প্রায় রাত ২ টা বেজে যেত, তাই মাঝে মাঝেই নয়িম নয়রোজ ভাই ছবি জমা দিতে দেরি হওয়া নিয়ে আমার ওপর অনেক রাগ রাগী করতেন, আর তখনকার এক জনপ্রিয় সাংবাদিক জুটি ছিল সাবান ও সানি, যিনি বর্তমানে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে একাংশ) বর্তমানে সভাপতি শাবান মাহমুদ ভাই আর সাংবাদিক সোহেল সানি ভাই, তখন দুজন আমাকে সাহস যোগাতেন।আমি তাদের কাছে আজও ঋণী।

যদিও আজও নিয়মিত নয়রোজ ভাই ও শাবান মাহমুদ ভাইয়ের সাথে দেখা হলেও সোহেল সানি ভাইয়ের সাথে খুব একটা দেখা হয়না, সানি ভাই নিজে খুব অভিমানী, কেন যেন নিজেকে গুটিয়ে রাখতে ভালোবাসে, তিনজনই আজও আমাকে অনেক স্নেহ করে।

আমি সেই যুগ থেকেই দেখতাম জাতীয় প্রেস ক্লাবে পোশাক ধারী পুলিশ, আর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ক্লাবের বাহিরে থেকে ক্লাবের ভেতরের খবর সগ্রহ করতো, ভেতরে ঢোকার সাহস পেত না।আর ভুক্তভুগীদের সংবাদ সম্মেলনের লিখিত কাগজটির জন্য সকল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আমাদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতো, সম্পর্কের খাতিরে একদিন এক সংস্থার সদস্যকে একটি সংবাদ সম্মেলনের লিখিত কাগজ দেয়ার সময় সাংবাদিক সোহেল সানি ভাই দেখে ফেললে আমার সাথে অনেক রাগা রাগী করে।

তখন আমি সানি ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম পুলিশ আর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কেন তারা প্রেসক্লাব চত্বরে প্রবেশ করতে পারে না ? তিনি উত্তরে বলেছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাব হচ্ছে, দল মত নির্বিশেষে ভুক্তভুগি, অসহায় নির্যাতিত মানুষের আশ্রয়স্থল, এখানে এসে তারা সাংবাদিকদের কাছে নির্দিদ্বায় সকল অভাব অভিযোগ করবে এবং প্রতিকার চাইতে পারবে, তাদের কেউ বাধা দিবেনা। তারা যদি (পুলিশ) ভেতরে প্রবেশ করে তাহলে শুধু ভুক্তভুগিরাই ভয় পাবে না, পাশাপাশি সাংবাদিকদের মাঝেও ভয়ের সঞ্চার হবে।

আর আজ ভাবতেই অবাক লাগে!!! পোশাক ধারী পুলিশ সদস্যরা নিদ্বিধায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভেতরে প্রবেশ করে খবরদারি করে। আর জাতীয় প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য-সম্মান ধ্বংস করে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা ক্লাবের ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্র উঁচিয়ে আজ যে ঘটনা ঘটালো তা ইতিহাস হয়ে থাকবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল