জাতীয় ছাত্রলীগ করেছি ভুল করিনি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জাতীয় ছাত্রলীগ করেছি ভুল করিনি

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

জাতীয় ছাত্রলীগ করেছি ভুল করিনি

 লতিফ নুতন  : স্কুল জীবন শেষ করে যখন অবসর সময় ছিল তখন ৮৭ সালের শেষের দিকে প্রথম ছাত্র রাজনীতি করার কোন ইচ্ছাই ছিল না। জন্মের পর যখন সাধারন জ্ঞান আসে আমার বাড়ির বাংলাঘরে কাল মাকর্স, লেলিন, স্টালিনের ছবি দেখতাম। আমার বড় চাচা মরহুম কমরেড আনোয়ার হোসেন সাম্যবাদী দল করতেন। তিনি এক সময়ে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। সাম্যবাদী দলের সাবেক সভাপতি কমরেড আসদ্দর আলী’র ধোপাদিঘীর বাসায় পারিবারিক সম্পর্কের কারণে আসতে হত। কমরেড আসদ্দর আলী চাচা আমাকে খুব স্নেহ করতেন। কমরেড তোহা আমার নাম রেখেছিলেন নুতন। ইচ্ছা ছিল আমার চাচার অনুসারী হব। আবার ছাত্র জীবনে পিতা ছাত্রলীগ করতেন। তিনি’র কাছ থেকে ডাঃ নুরুল হোসেন চঞ্চল আর সাবেক এমপি মরহুম আশরফ আলীর নাম শুনতাম। আব্বার বন্ধু সিলেট জেলা বাকশালের সাবেক সহ-সভাপতি, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক, সিলেট সিলেট জেলা বারের সাবেক জিপি, কাউন্সিলর নগর আওয়ামী লীগের নেতা আজাদুর রহমান আজাদের আপন চাচা এডভোকেট মরহুম শফিকুর রহমান যিনি প্রতিদিন স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় আত্নগোপন করে আমাদের বাসায় রাত্রী যাপন থাকতেন। আমি সারা রাত জেগে পাহারা দিতাম। শফিক মামা আমাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশালের দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচী বুঝাতেন। বলতেন নুতন তুমি যার জন্য বাংলাদেশ পেয়েছ। যে নেতার জন্ম না হলে স্বাধিন বাংলাদেশ হত না, তুমি মুজিব আর্দশের একজন সৈনিক হও। তাঁর অনুপ্রেরণায় আমি সিদ্ধান্ত নিলাম জাতীয় ছাত্রলীগে যোগ দেব। আজ জাতির জনকের কন্যা, আমাদের মমতাময়ী মা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীন বাংলাদেশকে বিশ্বের উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নয়নের মডেল হিসাবে রুপ দিয়েছেন। দেশ এখন উন্নয়নের ট্রেনে উঠেছে। ৭১ এর পরাজিত শক্র জামায়াতের খুনীদের বিচার হয়েছে। দেশ আজ রাজাকার মুক্ত,স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। দুর্নীতির খল নায়িকা খালেদার বিচার হয়েছে। আজ আমি ক্ষমতাসীন দলের একজন কর্মী। এটাই আমার বড় প্রাপ্তি। পরপ্রবাসী বাবার পুত্র ছোট ভাই বোনদেরকে নিয়ে নগরীর টিলাগড়ে বাসা ছিল। টিলাগড় ছিল রাজনীতি’র শত ঐতিহ্যের সূতিকাগার। সরকারী এমসি কলেজ আর সিলেট সরকারী কলেজ টিলাগড়ে থাকায় ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ গুলোর কারণে টিলাগড় রাজনীতি’র প্রাণ কেন্দ্র ছিল। বিকাল বেলা হলে দেখা যেত ছাত্র নেতারা কর্মী সংগ্রহের জন্য এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রদের বাসায় বাসায় যেতেন। টিলাগড় ছিল আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মূল কেন্দ্রস্থল। তাই রাজনীতি অঙ্গনে টিলাগড়ের প্রাধান্য ছিল। বিভিন্ন কলেজের ছাত্রনেতারা মেস করে থাকতেন। প্রায়ই রক্তাক্ত হত টিলাগড়। ৮০ দশকের ছাত্রনেতারা প্রতিদিন টিলাগড়ে ঘোর ঘোর করতেন। কলেজ গুলোতে দুপুর বেলা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মিছিল আর মিছিল। টিলাগড় পয়েন্টকে ঘুরে ক্যাম্পাস ফিরে যেতেন নেতা-কর্মীরা। তৎকালীন সময়ে জেলা বা কলেজ নেতৃবৃন্দের পদচারনায় মুখরিত হত টিলাগড়। টিলাগড়ের প্রবীণ মুরব্বি টুলটিকর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান,আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান মানিক, মানিক ভাই কখনও দলীয় পদ নিতেন না। ৭০ দশকের ছাত্রনেতা সাবেক সংসদ সদস্য, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী যাকে আমি নানা বলে সম্মোধন করি, মরহুম আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম চাচা, দুপুর বেলা টিলাগড় পয়েন্টে আড্ডা দিতেন কারণ কখন যেন ছাত্র সংঘাত লেগে যায়। মানিক ভাই, সালাম চাচা, শফিক ভাই জিপ নিয়ে কলেজ গুলোতে এক নজর ঘুরে আসতেন। তাদের সাথে থাকতেন মরহুম সোনা চাচা, মরহুম মুক্তা চাচা তখন বুজতাম না তারা কেন দুপুর হলে টিলাগড়ে অবস্থান নিতেন। এক দিকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন অপর দিকে খুনী, ৭১এর পরাজিত জামায়াত-শিবিরের হ্রিংস থাবা। উত্তাল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আর জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করা। কখন যেন কি হয় তাই আওয়ামী লীগের টিলাগড়ের মুরব্বীরা টিলাগড় পয়েন্টে অবস্থান নিতেন। পয়েন্টে বাসা থাকায় প্রতিদিনের মিছিল, কোন কোন সময়ে ছাত্র সংঘর্ষ দেখার সুযোগ হত। তখন মজা লাগতো। সংঘাত হলেই উত্তপ্ত ক্যাম্পাস আর ছাত্রনেতা অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, মকসুদ রহমান অথাৎ মকসুদ ভাই, আলী আদনান, ভিপি খসরু, ভিপি আসাদুজ্জামান পাপ্পু, মোহাম্মদ শাহাজাহান, সাখায়াত হোসেন (জিএস ) কাওসার ভাই, শেরদিল ভাই, ভিপি আব্দুল হানিফ কুটু চাচা,সালেহ আহমদ হিরা, সরকারী কলেজের জিএস সৈয়দ তওহীদ ফিতরাত হোসেন তৎকালীন সময়ে উত্তাল রাজনীতি অঙ্গনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তি গড়ে উঠা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিত। জামায়াত শিবিরকে প্রতিহত করতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কখনই পিছপা হত না। সংর্ঘষের খবর পেলে টিলাগড়ে ছুটে যেতেন ৮০ দশকের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ছাত্রনেতা এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আসাদ উদ্দিন আহমদ, এডভোকেট মোস্তাক আহমদ, ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, গোলাম রব্বানী চৌধুরী, বিজিত চৌধুরী, কাজী কয়েস আহমদ, এডভোকেট এটিএম ফয়েজ, এডভোকেট জাকির আহমদ, এডভোকেট তাপস ভট্রাচার্য, ডাঃ আলী আশরাফ সুইট, সাহাব উদ্দিন, আজমল শাহিন, জগদিশ দাস, আব্দুর রব সাজা, এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, সুব্রত পুরকায়স্থ সহ আরো অনেকেই। মিসবাহ ভাই, বিজিত দা, কাজী কয়েস ভাই, জাকির ভাইয়ের মটর সাইকেল দেখলে মনে হত সংঘাত অনিবার্য। টিলাগড় পয়েন্টে প্রস্তুুত শফিক চৌধুরী আর মরহুম সালাম চাচার লাইসেন্সধারী বন্দুক। মানিক ভাইয়ের স’মিলের সকল কাঠ, রোল নিয়ে মানিক ভাই, শফিক চৌধুরী, আর সালাম চাচার জিপ ভর্তি। মুহুর্তের মধ্যে দখল হত সিলেট এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ আর সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস। বিতাড়িত হত স্বৈরাচারের দোসর আর খুনী জামায়াত শিবির। পালিয়ে যেত স্বৈরাচার ও জামায়াত-শিবির চক্র। আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক। (চলবে) লেখক : সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, সিলেট শহর ছাত্রলীগ, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল