জাতীয় নেত্রীত্বের কারণেই উর্বর ভূমির জন্ম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জাতীয় নেত্রীত্বের কারণেই উর্বর ভূমির জন্ম

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

জাতীয় নেত্রীত্বের কারণেই উর্বর ভূমির জন্ম

মোঃ ওবায়দুর রহমান কুবাদ
আজকাল দেখছি আসল জাতির সত্তা বাদ দিয়ে উন্নয়নের ফিরিস্তি টেনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জাতীয় নেত্রীত্ব কে যাঁরা একাত্তর সালে যোদ্ধ ও নেত্রীত্ব দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র জন্ম দিয়েছে আজ তাদের নামে বদনাম করা হচ্ছে।
*যারা জাতীয় নেত্রীত্বের উন্নয়ন নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করছে হয়তো তখন তাদের জন্মই হয়নি না হয় একাত্তরের পাকি পন্থী রাজাকার বা তাদের উত্তরাধিকার ছিল।
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানেই হউক সুনামগঞ্জের নামেই হবে আমাদের আপত্তি নেই।
আপত্তি একটি জায়গায় জাতীয় নেত্রীত্ব কে টানছেন কেন?
আজ কিছু কিছু চাটুকার ব্যক্তির বাহ্ বা ও নিজ স্বার্থ পাওয়ার জন্য বলতেছেন বহু জাতীয় নেতার জন্ম হয়েছে সুনামগঞ্জে তাঁরা কিছুই করেননি সুনামগঞ্জের জন্য। বাহ কি সুন্দর উক্তি, একবার৷ কি ভেবেছেন এদেশের কিছু মানুষের যোগ্যতা থাকার পরও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধে যাননি।
আমি অন্যদের কথা বাদই দিলাম শুধু জাতীয় নেতা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেবের ও বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের কথা যদি আলোচনা করি উনারা ছিলেন আমাদের কর্মী বান্ধব জাতীয় নেতা একজন হাঁটি হাঁটি পা পা করে নৌকায় সাইকেলে জাতির পিতার নির্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ কে গ্রামে গন্জে সংগঠিত স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণে জন্য ১৯৭১ সালে নিজের জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় করতে বিভিন্ন দেশে ঘুরেছেন।
আরেকজন নিজে অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ ও একটি সাব-সেক্টরের বিশাল দায়িত্ব পালন করেছিলেন?
আমরা কি এতই অকৃতজ্ঞ হয়ে গেলাম যে মানুষ গুলো জাতির পিতার নির্দেশে জীবন বাজি রেখে এত অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মের ভুমিকা রেখেছে তারা আমাদের জন্য কিছুই করেনি।
দীর্ঘ নয় মাস যোদ্ধাদের পর দেশ যখন স্বাধীন হল যুদ্ধ বিবস্ত্র দেশ গঠনের লক্ষ্যে যখন জাতির পিতার নেত্রীত্বে তলা বিহীন ঝুরি নিয়ে যাত্রা শুরু করল ১৯৭৫ সালে এদেশের আমলাতান্ত্রিক মারপেঁচে কিছু বিপদগামী সেনা সদস্য জাতিরপিতা কে স্ব-পরিবারে আরও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে শাহ আজিজের মত রাজাকারের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়ে জাতির পিতার নির্দেশে জাতীয় নেতাদের নেত্রীত্বে ত্রিশ লক্ষ শহীদের দুলক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা কে বিক্রিত করে দিল।
তখন যুগের তালে তালে সবাই বিএনপি হয়ে গেল।এরপর যা হবার তাই হল শুধু সেনা বাহিনীদের ক্ষমতা বদলের পালা।
১৯৯১ সালে যখন দেশের মানুষ গনতন্ত্র ফিরিয়ে পাবার আশায় স্বপ্ন দেখছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে নেত্রীত্ব দানকারী স্বাধীনতার পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আসবে তখনও পরাজিত হয়েছিল পাকিস্তানি পরাশক্তির ষড়যন্ত্রের কাছে।
দীর্ঘ একুশটি বছর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে আন্দোলন সংগ্রাম করে ১৯৯৬ সালে ভূতেরে অর্থনীতির মধ্যে ক্ষমতায় এসে যতটুকু সম্ভব দেশের উন্নয়ন তথা সুনামগঞ্জের উন্নয়ন হয়েছে।এর পিরিস্তি না এইবা টানলাম যা একবার সরকারে যাওয়ার বদৌলতে হয়েছে। তখনকার বাজেট আর আজকের দেশে অর্থনৈতিক অবস্থা এক ছিল না।
যাই হউক ২০০১ সালে আবারও আওয়ামিলীগ ক্ষমতা হাড়িয়ে যখন নেতা কর্মীরা অসহায় চারদলীয়জোটের হামলা মামলার স্বীকার। আজকে যারা জাতীয় নেত্রীত্ব নিয়ে উন্নয়নের সমালোচনা করছেন তাদের মনে রাখা উচিৎ এই সুনামগঞ্জে জাতীয় নেত্রীত্ব বর্তমান সরকারি দল আওয়ামীলীগের এই ছিল।মনে রাখবেনই বা কিভাবে তখনতো আপনারা পারিবারিক ভাবে আওয়ামিলীগ ছিলেন না।আপনারা তখন কেউ ছাত্রদল শিবির পারিবারিক ভাবে বিএনপি রাজাকার এর বংশধর ছিলেন।
২০০৯ সালে আওয়ামীলীগের সুসময়ে আপনাদের জন্ম হয়েছে।যদি একাত্তরে আপাদের পূর্বপুরুষেরা স্বাধীনতার পক্ষে
থাকত মুক্তিযোদ্ধে যেতে ঘরবাড়ি পুরিয়ে যেত নির্যাতনের স্বীকার হতেন তাহলে জাতীয় নেতাদের সম্মান বুঝতেন। এখানে স্বার্থের ব্যাপার নিয়ে টানাটানি। আমি ও চাই দক্ষিণ সুনামগঞ্জ (সুবিপ্রবি)হউক কারণ আমার বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ যদি আমাদের এলাকায় হয় এটা আমাদের গর্ব। তাই বলে জাতীয় নেত্রীত্ব কে ছোট করে নয় কারন উনাদের দেখিয়ে যাওয়া পথেই হাঁটছে যেমন সুনামগঞ্জ তেমন বাংলাদেশ।
হ্যাঁ সুনামগঞ্জের উন্নয়নের অংশীদার একক কেউ নয়।এটা শেখ হাসিনার অঙ্গিকার আওয়ামীলীগের ইশতেহার সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ বাসী অংশিদার।যেমন আওয়ামীলীগের ইশতেহারে ছিল ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক জেলায় মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় হবে তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মফস্বল এলাকায় আগে হবে।এখন যদি কেউ মনে করেন কাউকে বড় বানাতে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের নির্বাচনের ইশতেহার এর উর্দে উনার একক প্রচেষ্টায় হয়েছে তাহলে এটা ভুল।
আমি এখানে মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয় কে ছোট করব না।হ্যাঁ উনি একজন বড় মাপের আমলা ছিলেন কাজ কিভাবে দ্রুত করতে হয় তা উনি জানেন। একমাত্র উনি পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার কারণে হয়তো উন্নয়নের কাজ গুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে হতে যাচ্ছে এরজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার।আমার মনে হয়না মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় উন্নয়ন করলেও জাতীয় নেত্রীত্ব কে নিয়ে উন্নয়নের সমালোচনা করবেন।
হ্যাঁ আরেকটি ব্যাপার লক্ষ্য করছি আমরা কেউ বুঝে না বুঝে এফবিতে একে অন্যর বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে বাজে মন্তব্য করছি। একজন মানুষ তার এলাকার স্বার্থের৷ জন্য একটা দাবী করতেই পারে যোক্তিক হউক আর অযোক্তিক হউক তার একজন কে গালি দেওয়া কত টুকু যোক্তী সংঙ্গত তার আমার বোধগম্য নয়।হয়তো পীর হাবিব সাহেব একজন উঁচু মাপের সাংবাদিক পীর মিসবাহ সাহেব একজন সাংসদ তাদের রাজনৈতিক কেরিয়ারের জন্য হউক আর এলাকার স্বার্থেই হউক একটা দাবী করেছেন জেলা শহরের পক্ষে আমরাও জানি আমরা সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা হ্যা জেলা সদরের জন্য দাবী করেছেন এটাতো আমাদেরই জেলা তবে দাবির ভাষা সাথে সাথে হুমকি না দিয়ে আমরাতো ভাই ভাই ছিলাম আলোচনার মাধ্যমে হতে পারতো। যেমন আজ সুনামগঞ্জ বনাম দক্ষিণ সুনামগঞ্জ একে অন্যের প্রতি যেভাবে লেখালেখি হচ্ছে তা কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।
আমি হয়তো এই ব্যাপারে কিছু লেখতে চাই নি লেখার ইচ্ছে ও ছিলনা আজকের এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নেতাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠায় লিখতে বাধ্য হলাম আরও একজনের একটি পোস্টে কমেন্ট করেছেন হয়তো উনি বিদেশ থাকেন উনার আইডি দেখেছি জানিনা কোন এলাকার লিখেছেন সামাদ নাম শুনলে এলাকার সবাই ঘৃণা করে। হয়তো উনার বাপ মা জন্মের পর সুশিক্ষা দিতে পারেন নাই এরজন্য উনি দায়ী নয়,,,আপনি ঘৃণা করতে পারেন কোন এলাকার কথা বলে মিথ্যা প্রচার দিয়েন না।এখনও সারা দেশে অগণিত প্রয়াত নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেবের ভক্ত আছে যারা উনার জন্ম মৃত্যে বার্ষিকীতে অন্তত উনাকে স্বরণ করে।আর যারা স্বরণ করে তাঁরাই জাতির পিতার প্রকৃত আদর্শ লালন করে।
হয়ত আমার লেখায় অনেকের মনে আগাত লাগাতে পারে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
পরিশেষে সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর প্রতি নিবেদন বিবেকের তারণায় বলছি যদি অবহেলিত মধ্যে নগরে ও ( সুবিপ্রবি) হয় সুনামগঞ্জের ভিতরেই হবে আপত্তি নেই তবে কাঁদা চুরাচুরি করে আমাদের কে উন্নয়ন বন্ছিত করবেন না।
ধন্যবাদ সবাই কে।