জানেন না প্রধান নিবাহী ও চেয়ারম্যান! সিসিক ও সদর উপজেলার অনুমোদন বিহিন বালুচরের বাসা-বাড়িতে পানির সংযোগ! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জানেন না প্রধান নিবাহী ও চেয়ারম্যান! সিসিক ও সদর উপজেলার অনুমোদন বিহিন বালুচরের বাসা-বাড়িতে পানির সংযোগ!

প্রকাশিত: ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৬

জানেন না প্রধান নিবাহী ও চেয়ারম্যান! সিসিক ও সদর উপজেলার অনুমোদন বিহিন বালুচরের বাসা-বাড়িতে পানির সংযোগ!

D0012সিলেট সিটি কর্পোরেশরে অনুমোদন বিহিন সিলেট সদর উপজেলা বালুচর ৫নং টুলটিকর ইউনিয়নে দীর্ঘ ৩ বছর যাবত পানির সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। যা সিসিকের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের যোগসাজেশে হচ্ছে বলে যানা যায়। বিগত কয়েক দিন আগে নতুন করে ১টি বাসায় আবার অবৈধ ভাবে রাস্তা কেটে সিসিক ও সদর উপজেলার অনুমোদন ছাড়া পানির সংযোগ স্থাপন করা হয়।
পানির জন্য যেখানে নগরবাসী হাহাকার করছেন। ঠিক সেই সময়ে অবৈধ পন্থায় নগরবাসীর পানি দিয়ে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্ঠা করা হচ্ছে ৫নং টুলটিকর ইউনিয়নেরর অন্তর্ভূক্ত বালুচর এলাকায়। যা খোদ ইউনিয়ন পরিষদ’র চেয়ারম্যানও জানেন না। অথচ ইউনিয়ন পরিষদ’র বালুচর নয়াবাজার সংলগ্ন রাস্তা কেটে নেওয়া হচ্ছে সিসিক’র পানির সংযোগ।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তড়িগড়ি করে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো ধরণের অনুমতি ছাড়া পানির সংযোগের কাজ শেষ করা হয়েছে।
সরেজমিনে তদন্ত কালে আরো জানাযায়, অবৈধ পানির সংযোগ বালুচের অনেক বাসা-বাড়িতে রয়েছে যার জন্য স্থানী যুবলীগ নেতা জুয়েলকে টাকা প্রদান করেন সংযোগ প্রাপ্তিরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরতলীর বালুচর পয়েন্টস্থ নতুনবাজার এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম মনির মিয়ার বাসায় ও পার্শ্ববর্তী সীমান্তিক ভবনে এর আগেও অবৈধভাবে সিটি কর্পোরেশনের সাপ্লাইয়ের পানির লাইন নেওয়া হয়। এখন সিটি থেকে অর্ধকিলোমিটার দূরবর্তী বালুচর নতুনবাজারস্থ রাহেনা ভিলায় রাস্তা খুড়ে নেয়া হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের অবৈধ পানির লাইন। টাকার বিনিময়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই পানিচুরির এ লাইন বসানো হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অবৈধ পানির সংযোগ রয়েছে টুলটিকর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি তরমুজ আলী, বিগ্রেডিয়ার অবসর প্রাপ্ত জুবায়ের সিদ্দিকীর সীমান্তিকের ভবনে, লন্ডন প্রবাসী আবুল হোসেন ৩ তলা বিশিষ্ট ভবনসহ আরও অনেক বাসা-বাড়িতে। যা সিসিক ও সদর উপজেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানেন না। কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তা হচ্ছে বলে জানা যায়।
এই বিষয়ে আলোপকালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিক অবসর প্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জুবায়ের সিদ্দিকী জানান পানির সংযোগের জন্য শুধু আমার কাছ থেকে নয় আরো কয়েকটি বাসা-বাড়ি থেকে টাকা নিয়েছেন জুয়েলসহ স্থানীয় কয়েক জন। আমিও ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি জুয়েলকে। আগামী কয়েক দিনে মধ্যে পানির সংযোগ বাসায় দেওয়ার শর্তে। আর অনুমোদন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমি টাকা দিয়েছি অনুমোদনের ব্যাপাটা যে টাকা নিয়েছেন সেই জানেন।
লন্ডন প্রবাসী আবুল হোসেন কামালী জানান, জুয়েলসহ স্থানীয় কয়েক জনকে ১লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিয়েছি পানির সংযোগের জন্য। অনুমোদন ব্যাপারে আমি কিছূ জানিনা।
টুলটিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি তরমুজ আলী সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
টুলটিক ইউনিয়নের মেম্বার কাচা মিয়া জানান এই ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। ৫নং ওয়ার্ডের যারা পানির সংযোগ স্থাপনের জন্য জুয়েলকে টাকা দিয়েছেন তারা অবগত করেছেন। কোন ধরনের অনুমোদন ছ্ড়াা জুয়েল জোরপূর্বক ভাবে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে রাস্তা কেটে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে পানির সংযোগ বিভিন্ন বাসা বাড়িতে স্থাপন করছে।
তিনি আরো জানান, জুয়েল এ ব্যাপারে আমাকে বা চেয়ারম্যানকে কিছু জানান নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জুয়েল সংশ্লিষ্ট বাসাগুলোর মালিকদের কাছ থেকে কাজের ঠিকাদারী নিয়ে এ কাজ করাচ্ছেন।
কাজের ঠিকাদার রইছ আলী মোবাইলে বার বার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
টুলটিকর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মনির মিয়ার ছেলে জানান ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের কাছ থেকে তিনি অনুমোদন নিয়েছেন।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন জানান, সিসিক আর প্রশাসনের কিছু কর্তব্যক্তি এই অবৈধ কাজ দেখেও এড়িয়ে চলে যাচ্ছেন।
এব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে জানান সিটি কর্পোরেশন কখন সদর উপজেলা বা ইউনিয়নের পানির সংযোগ দিতে পারে না যদি তা দেওয়া হয়ে তাকে তা সম্পন্ন অবৈধ। এই বিষয়টি আমি কিছুই জানিনা, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাধ্যে তদন্ত মাধ্যেমে পরবর্তী ব্যবস্থ গ্রহণ করব।
এ ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলার ৫নং টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদ’র চেয়ারম্যান আলী হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, পানির লাইন ও রাস্তা কাটা সম্পর্কে তিনি মোটেই অবগত নন।