জামালগঞ্জে সবজি চাষে সফল প্রান্তিক নারীরা

প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

জামালগঞ্জে সবজি চাষে সফল প্রান্তিক নারীরা

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা এনেছে সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার প্রান্তিক নারীরা। সংসার সামাল দিয়ে হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল লালন-পালনের পাশাপাশি বাড়ির আশেপাশে পরিত্যাক্ত অল্প জমিতে বিভিন্ন শাকসব্জি চাষাবাদ করেন তারা। এ বছর অনেক মহিলাই সব্জি চাষে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে কম-বেশি বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন।
জানা যায়, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের প্রান্তিক কৃষাণী তাহমিনা আক্তার ও রোকেয়া বেগম, দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের হালিমা বেগম, ভীমখালী ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামের কামরুন নাহার ও রীনা আক্তার, সাচনা বাজার ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের ফরিদা বেগম ও রিপা বেগম ঝিঙা, পাটশাক, ডাটা, করলা, ঢেঁরশ, পুঁইশাক, ধুন্দল, চালকুমড়া চাষ করে লাভবান হয়েছেন।
অন্যদিকে সদর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার স্ত্রী নারগিস আক্তার বাণিজ্যিকভাবে টমেটো, চালকুমড়া, পেঁপে চাষ করে বাজারে বিক্রি করছেন। উৎপাদন খরচ উঠিয়ে প্রায় লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
সব্জি চাষী নারগিস আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি জানিয়েছেন, উৎপাদন ভালো, বিক্রিও ভালো। অল্প জায়গায় সব্জি চাষ করে লাখ টাকারও বেশি লাভ সম্ভব হয়েছে। আগামীতে আরও বেশি করে সব্জি চাষ করব।
তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁর বাড়ির পাশে ১ বিঘা জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় দেড় লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। টমেটো চাষের পর একই জমিতে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে চালকুমড়া ও ৫ শতক জায়গায় ২শ’ পেঁপে ছারা রোপণ করা হয়েছে। চাষকৃত এই সব্জি থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার চালকুমড়া ও আড়াই হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন তিনি।
গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে উপজেলার অনেক নারী। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন শাকসব্জি চাষে পাল্টে গেছে গ্রামীণ নারীদের জীবন। তাদের উৎপাদিত সব্জি স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন শহরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন এসব নারী।
কৃষিতে বাংলাদেশের সফলতা ব্যাপক। জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় কৃষি জমি কমে আসলেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। ধান, গম ও ভুট্টা চাষে বিশ্বের গড় উৎপাদন পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। লাউ, শিম, ফুলকপি, বাধাকপি, মুলা কিংবা আলুর মতো নানা সব্জি উৎপাদন সাফল্যে পুরুষের সাথে নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। যারা বাড়ির পাশে বাণিজ্যিকভাবে বা স্বল্প পরিসরে বিভিন্ন সব্জির আবাদ করেছেন তারা এখন বেশ স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী। অনেকেই অভাবকে জয় করে স্বপ্ন দেখছেন সফলতার। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষায় সময়োপযোগী সব্জি চাষ করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন প্রান্তিক নারীরা। স্বল্প পরিসরে চাষে নারীদের উদ্যোগই বেশি। এছাড়াও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করলেও সেখানে গৃহকর্তার পাশাপাশি ভূমিকা থাকে কৃষাণীদেরও। আর কৃষাণ-কৃষাণীদের প্রচেষ্টায় সব্জি উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়তম। এছাড়া বিশ্বের প্রায় ৫০টির মতো দেশে সব্জি রপ্তানী করা হয়। সব্জি চাষে জমির পরিমাণ না বাড়লেও প্রতি বছর ফলন বাড়ছে। কয়েক বছর আগের চেয়ে দ্বিগুণ ও তিন গুণ হারে উৎপাদন বাড়ছে। সাথে সাথে কৃষিখাতের উৎপাদনও বাড়ছে। বর্তমানে অনেক শিক্ষিত নারীরাও কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই জমিতে দু’তিনবার বিভিন্ন ফসলের চাষ করছেন। কৃষক ও শিক্ষক যুবকদের সাথে তাল মিলিয়ে নারীরাও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। কোন সময়ে কোন সব্জি উৎপাদন করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় সে ব্যাপারে নারীরা খুবই সচেতন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজল হক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বাড়ির পতিত জায়গায় সব্জি উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ও কৃষি অফিসের নিজস্ব কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৭শ’জন কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে গ্রীষ্মকালীন সব্জি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এসব প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আরও ২৫০ জন কৃষক-কৃষাণীর বসতবাড়িতে পারিবারিকভাবে সব্জি ও পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে জামালগঞ্জ উপজেলায় অধিক সব্জি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি লাভবানসহ নিরাপদ সব্জি পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল