জামালগঞ্জে সূর্যমূখী তৈলবীজে অপার সম্ভাবনার হাতছানি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জামালগঞ্জে সূর্যমূখী তৈলবীজে অপার সম্ভাবনার হাতছানি

প্রকাশিত: ৫:২৭ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

জামালগঞ্জে সূর্যমূখী তৈলবীজে অপার সম্ভাবনার হাতছানি

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
মানুষ সুন্দরের পূজারী। যে কোন সুন্দর জিনিষে মানুষ বেকুল হয়ে যায়। ফুল হচ্ছে নারী পুরুষ সবার কাছে ভালবাসা ও আকাংখার বস্তু। মন ভাল করার জন্য ফুলের বাগানে ভ্রমণ সুখকর একটি বিষয়। ফুল এমনি একটি বস্তু যার চোখের পলকেই বিষন্ন মনকে প্রফুল্ল করে তুলে। মানুষ মনের দিক থেকে যতই কঠোর হোক না কেন ফুল তার ভাল লাগবেই। ফুল ভালবাসেনা এমন মানুষ পৃথিবীতে বিরল। আমি যে ফুল নিয়ে আজ লিখছি, তা হলো সূর্যমূখী ফুল। এই ফুল দেখতে সুর্য্যরে মত এবং সুর্য্যরে দিকে মুখ করে থাকে বলে এর নাম সূর্য্যমূখী। এর বৈজ্ঞানিক নাম হেরিয়ান থাস। এর পাপড়ী গুলো চারিদিকে ছড়ানো। ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার, একবছরী ফুল গাছ। ১৯৭৫ সাল থেকে এই ফুলের চাষ হয়ে আসছে বাংলাদেশে, জামালগঞ্জে এই প্রথম সূর্য্যমূখী চাষ।

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনায় ৪জন আগ্রহী কৃষক উঁচু জমিতে সূর্য্যমূখী চাষ করেন। নীল আকাশের মায়াবী রূপের সাথে এই ফুল প্রতিটি মানুষের মনকে নাড়া দিয়েই ক্ষ্রান্ত হয়নি, কৃষকদের লাভের অংকটাও অন্যান্য ফসলের চেয়ে অনেক বেশী। এই প্রথম ফুল চাষ হাওরের প্রত্যন্ত অঞ্চল যেখানে একফসলী বোরো চাষে কৃষকরা ব্যস্ত থাকতেন তারা এখন এই ফুল চাষ করে অনেকটাই সাবলম্বী।

এই উপজেলার পাশ্ববর্তী উপজেলা তাহিরপুর এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম টাঙ্গুয়ার হাওর, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিরাজ লেক শিমুল বাগানের পাশাপাশি জামালগঞ্জের সুর্য্যমূখী বাগানও পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে। জেলার সর্ববৃহৎ কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, সময় টিভি, চ্যানেল-২৪ টিভি এই বাগানের দৃশ্য বিটিভি সংসদ টিভিতে প্রচার করে জামালগঞ্জকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত করেছে। প্রতিদিন ট্রলারে, গাড়ি কিংবা মোটর বাইকে শত শত ভ্রমণ পিপাসুদের পদ চারনায় হাওর অধ্যুসিত জামালগঞ্জের এই নয়নাভিরাম বাগান ছিল পর্যটক মুখরিত। ফেসবুক লাইভে অনেকে তাদের অনুভূতির কথা জানিয়েছে। যা না দেখলে বুঝানো সম্ভব না। বাগান রক্ষায় হিমসিম খেতে হয়েছে বাগান মালিকদের। একদিকে ভ্রমণ পিপাসুদের আনাগোনা অন্যদিকে ফুল চাষে ব্যাপক লাভে আনন্দের সীমা নেই কৃষকদের। সূর্য্যমূখী চাষী উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের ফজলুল হক, তাজ উদ্দিন জানান এবারই প্রথম কৃষি অফিসের কর্মকর্তা আজিজুল হক স্যারের পরামর্শে ১১বিঘা জমিতে সূর্য্যমূখী চাষ করি। প্রতি বিঘায় ৫মন তৈল বীজ পেয়েছি। যার বাজার মূল্য প্রতি মন ২,০০০(দুই হাজার) টাকা করে ১০,০০০(দশ হাজার)টাকা। খরচ হয়েছে প্রতি বিঘায় আনুমানিক ৫,০০০(পাঁচ হাজার)টাকা। লাভ হয়েছে প্রতি বিঘায় ৫,০০০(পাঁচ হাজার)টাকা। যা ধানের চেয়ে অনেক বেশী।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় এই সূর্য্যমূখী বীজে প্রতি মনে ১৮কেজি তৈল পাওয়া যায়। প্রতি কেজি ২৮০টাকা করে বিক্রি করা যাবে। এছাড়াও ফুল বীজের খৈল মাছের উৎকৃষ্ট খাবার, গাছ দিয়ে জ্বালানি হয়। সবুজ পাতা গরুর প্রধান খাবার, এক কথায় এর সব কিছুই মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আজিজুল হক জানান, হাইসাল-৩০ জাতের সূর্য্যমূখী চাষে এই উপজেলায় ৪জন কৃষককে রাজস্ব বাজেটের আওতায় উৎসাহিত করা হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ সার প্রশিক্ষণ দিয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসারগণের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণে কৃষকরা যেমন ভ্রমণ পিপাসুদের আনাগোনায় আনন্দিত পাশাপাশি লাভবানও হয়েছে অন্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশী। আগামী বৎসর এই উপজেলার কৃষকরা উঁচু বা পতিত জমিতে এই ফুল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল