জামিন পেলেও সহসাই মুক্তি পাচ্ছেন না আরিফুল হক চৌধুরী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জামিন পেলেও সহসাই মুক্তি পাচ্ছেন না আরিফুল হক চৌধুরী

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৬

জামিন পেলেও সহসাই মুক্তি পাচ্ছেন না আরিফুল হক চৌধুরী

DSC_0489-300x199৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার: সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও একই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়েরকৃত মামলা থাকায় আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র (বরখাস্তকৃত) আরিফুল হক চৌধুরী।
এমন তথ্য জানিয়েছেন, আরিফুল হক চৌধুরীর আইনজীবী নিজাম উদ্দিন।

হত্যা মামলায় জামিনের পর এডভোকেট নিজাম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মেয়র আরিফুলকে আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন। তিনি অসুস্থ, দীর্ঘদিন কারাগারে রয়েছেন। এই মামলায় ১৭৬ জন সাক্ষীর মাত্র ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় তাকে জামিন দেওয়া হোক। আমাদের এই যুক্তি গ্রহণ করে আদালত তাকে জামিন দেন। একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায়ও গ্রেফতার আছেন আরিফুল। তাই আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার হাইকোর্ট বেঞ্চ আরিফুল হক চৌধুরীকে জামিন দেন।

আদালতে আরিফুলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আবদুল হালিম কাফি ও মো. নিজাম উদ্দিন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

ড. মো. বশির উল্লাহ জানান, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে তারা আপিল করবেন।

এর আগে আরিফুলকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ৯ আগস্ট ১০ দিনের রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই রুল নিষ্পত্তি করেই আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

গত চলতি বছর ২২ মার্চ মায়ের অসুস্থতার কারণে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে ১৫ দিনের জন্য জামিন দিয়েছিলেন। জামিনে মুক্তির পর ১০ এপ্রিল আবার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। সেই হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এই মামলার প্রথম দফায় দেওয়া অভিযোগপত্রে আরিফুলের নাম ছিল না। তবে সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্রে মেয়র আরিফুলের নাম আসে। সেই সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১৪ সালের গত ২১ ডিসেম্বর মেয়র আরিফুলসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

পরে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আরিফুল বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠায়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক সবশেষ ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র বদরুদ্দিন আহমেদ কামরানকে হারিয়ে সিলেটের মেয়র নির্বাচিত হন। তবে কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।