জাবি ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলার আপিলের রায় পড়ছেন হাই কোর্ট – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জাবি ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলার আপিলের রায় পড়ছেন হাই কোর্ট

প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৮

জাবি ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলার আপিলের রায় পড়ছেন হাই কোর্ট

বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এই রায় ঘোষণা শুরু করে।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জনের সাজা হাই কোর্টে বহাল থাকবে কিনা- তা জানা যাবে এই রায়ে।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মল কুমার দাস এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী রানা কাউসার আদালতে উপস্থিত আছেন।

ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র জুবায়ের ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের কোন্দলে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন।

জুবায়ের নিহত হওয়ার পর ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে পদত্যাগে বাধ্য হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সময়কার উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির।

হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন নিবন্ধক হামিদুর রহমান আশুলিয়া থানায় যে মামলা করেন, তাতে ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৩ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ পারভেজ।

হত্যাকাণ্ডের দেড়বছর পর মামলাটি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে এলে তা হাকিম আদালত থেকে পাঠানো হয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।

ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুজন খালাস পান।

বিচারিক আদালতে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন- প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ ও জাহিদ হাসান, দর্শন বিভাগের রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম। তাদের মধ্যে রাশেদুল ইসলাম রাজু ছাড়া বাকি চারজন ওই রায়ের সময় পলাতক ছিলেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া আসামিদের মধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র শফিউল আলম সেতু ও অভিনন্দন কুণ্ডু অভি, দর্শন বিভাগের কামরুজ্জামান সোহাগ, ইতিহাস বিভাগের মাজহারুল ইসলাম এবং অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাজমুস সাকিব তপু কারাগারে থাকলেও দর্শন বিভাগের ইশতিয়াক মেহবুব অরূপ ছিলেন পলাতক।

বিচারক রায়ে বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিণতি হল জুবায়ের হত্যাকাণ্ড। অনুরূপ অহেতুক হত্যাকাণ্ড মানবতা ও নৈতিকতাকে বার বার প্রশ্নবিদ্ধ করে। এতে ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর নেমে আসে শোকের ছায়া। এমনকি পারিবারিক, সামাজিকও আর্থিক নানারকম সমস্যাও পরিবারগুলোকে গ্রাস করে।

“বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশি শক্তির জোরে কোনো ধরনের সহিংসতা, নৃশংসতা, অশান্তি সৃষ্টি, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, উগ্রতা, বর্বরতা শিক্ষার অনূকূল পরিবেশের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যা কারও কাম্য হতে পারে না।”

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত কোনো হত্যাকাণ্ড বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার সাম্প্রতিক অতীতে না হওয়ায় আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে পর্যবেক্ষণ দেয় আদালত।

নিম্ন আদালতে দণ্ডিতদের মধ্যে কারাগারে থাকা ফাঁসির আসামি রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং যাবজ্জীবনের পাঁচজন হাই কোর্টে আপিল করেন। সেই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথি আসে হাই কোর্টে।

চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে মোট আট দিন শুনানি করে হাই কোর্ট। এরপর ৯ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।