জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক বাতিলের সিদ্ধান্তে গোটা জাতি উদ্যেগ ও বিস্মিত: বিএনপি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক বাতিলের সিদ্ধান্তে গোটা জাতি উদ্যেগ ও বিস্মিত: বিএনপি

প্রকাশিত: ১২:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০১৬

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক বাতিলের সিদ্ধান্তে গোটা জাতি উদ্যেগ ও বিস্মিত: বিএনপি

DSC_0032-696x364২৬ আগ্রস্ট ২০১৬, শুক্রবার : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক বাতিলের সিদ্ধান্তে গোটা জাতি উদ্যেগ ও বিস্মিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রীসভা কমিটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিচ্ছে। এই পদক প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে সরকার জাতিকে বিভক্ত করতে চায়।

বিএনপি নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আওয়ামী লীগের দলীয় মূল্যায়ন সকলের জানা। কিন্তু দলীয় মূল্যায়নে রাষ্ট্র চলে না। রাষ্ট্র সকলের। এই রাষ্ট্রকে যদি দলীয় বানাতে চান, তখন রাষ্ট্র থাকবে, দল থাকবে না বলে সরকারের উদ্দেশ্যে শঙ্কার কথা জানান ফখরুল।

ফখরুল বলেন, অত্যন্ত হতাশা ও দূর্ভাগ্যের সঙ্গে লক্ষ্য করছি এই সরকার ঐক্যেল রাজনীতিকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে গোটা জাতিকে বিভক্ত করছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জাতিকে বিভাজনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সামরিক ক্ষেত্রে ছাড়া বাকি সবক্ষেত্রে পদকের নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল। রাষ্ট্রীয় পদক গ্রহণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমতির প্রয়োজন ছিল। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় সম্মাননার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক প্রবর্তন করেন।

ফখরুল বলেন, যিনি পদক প্রবর্তন করলেন তিনি বাদ। কিন্তু পদক বাকি থাকল। তার কীর্তিও থাকবে। এটা যে কত বড় সংকীর্ণতা ও আত্মঘাতি কাজ। আওয়ামী লীগ যেদিন বুঝবে। সেদিন আর শোধরাবার সুযোগ থাকবে না।

তিনি জানান, এমনকী ২০০৩ সালে খালেদা জিয়ার সরকার মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবকে মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেন। দুজনকেই রাষ্ট্রীয় পদক দেওয়া হয়, আর এটা ছিল রাজনৈতিক ঔদার্য্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

জিয়াউর রহমান ইতিহাসে শুধু নয়, বহু মানুষের হৃদয়ে বসবাস করছেন। কাজেই তিনি স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে মর্যাদার আসনে থাকবেন অবশ্যই। যারা গায়ের জোরে নোংরাভাবে তাকে দেখছেন, তারাও একইভাবে মুছে যেতে পারেন।

২০০৩ সালে তৎকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য প্রয়াত শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব ও জিয়াউর রহমান সাহেবকে মরনোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়ার সুপারিশ করে। পরে মন্ত্রীসভায় সেটি অনুমোদিত হয়েছিল এবং তারা পদক লাভ করেছেন। সেই পদক ও নথি জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে বলে জানান ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম, আহমেদ আযম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিটু, মুনির হোসেন, সহ প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহীন প্রমুখ।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল