জুড়ীতে টিলায় ফাটল ঝুঁকিতে ২০০ পরিবার – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জুড়ীতে টিলায় ফাটল ঝুঁকিতে ২০০ পরিবার

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৬

জুড়ীতে টিলায় ফাটল ঝুঁকিতে ২০০ পরিবার

imagesকয়েক দিনের বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নে একটি টিলায় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই টিলার নিচে থাকা অন্তত ২০০ পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাস করছে। এ ছাড়া মাটি কেটে বিক্রি করায় একই টিলার কালীনগর এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই টিলার নাম ভজিটিলা। জায়ফরনগর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম, মনতৈল ও কালীনগরজুড়ে এই টিলার অবস্থান। সাত-আট দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় গুচ্ছগ্রাম এলাকায় টিলার মাঝামাঝি অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়।

গত শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, গুচ্ছগ্রামের এলাকায় পাঁচ ফুট বাই সাত ফুট অংশজুড়ে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এর আশপাশে আরও কিছু ফাটল রয়েছে। টিলার নিচে বেশ কিছু বাড়িঘর রয়েছে।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে টিলাটি একটু একটু করে ধসে পড়ে। বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন।

টিলার নিচে টিন-বাঁশের তৈরি ঘরে বসবাসকারী দিনমজুর পারভিন বেগম বলেন, ‘রাইতে ঘুম অয় না। ভয়ে থাকি কোন সময় যে টিলাটা ধসি পড়ে। বাড়ি ছাড়ি যাইমু কই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এলাকার কিছু দরিদ্র লোক প্রতিদিন টিলার বিভিন্ন স্থানে মাটি খুঁড়ে ছোট ছোট পাথর বের করে তা বিক্রি করেন। বৃষ্টিতে খোঁড়া অংশ দিয়ে মাটি ধসে পড়ে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।

কালীনগর গ্রামে টিলার ওপর ও নিচে ২০-২৫টি বাড়িঘর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া অভিযোগ করেন, এলাকার কিছু লোক টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে। প্রায়ই রাতে ট্রাকে করে মাটি বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। মাটি বহনকারী ট্রাকের চাপে গ্রামের পাকা সড়ক ও কালভার্ট ভেঙে যাচ্ছে।

জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজহর আলী বলেন, ভজিটিলার গুচ্ছগ্রাম, মনতৈল ও কালীনগর এলাকায় অন্তত ২০০ পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে। সম্প্রতি বৃষ্টিতে মাটি ধসে গুচ্ছগ্রামের ১৫-২০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

জায়ফরনগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিব আহমদ বলেন, মাটি কেটে ও পাথর খুঁড়ে বিক্রি বের করায় ভজিটিলার এই অবস্থা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান বলেন, ভজিটিলায় ফাটলের তথ্যটি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল