জুলহাজ-তনয় হত্যা : খুনিদের ফেলে যাওয়া ব্যাগে ? – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জুলহাজ-তনয় হত্যা : খুনিদের ফেলে যাওয়া ব্যাগে ?

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০১৬

জুলহাজ-তনয় হত্যা : খুনিদের ফেলে যাওয়া ব্যাগে ?

20783রাজধানীর কলাবাগানে সমকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অধিকারবিষয়ক পত্রিকা ‘রূপবান’-এর সম্পাদক জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু নাট্যকর্মী তনয় হত্যাকারীদের ফেলে যাওয়া ব্যাগে একটি তালিকা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এই তালিকা ধরে পরবর্তী হত্যাকান্ড চালানো হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

তবে তালিকায় নির্দিষ্ট কারো নাম নেই লেখক,  আইনজীবী,  পদার্থবিদ কয়েকটি পেশাজীবী শ্রেণীর কথা উল্লেখ আছে ‘যারা ইসলামের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে’ বলে লিখা রয়েছে ব্যাগে।

২৫ এপ্রিল বিকালে কলাবাগানের বাসায় ঢুকে ইউএস এইডের কর্মকর্তা ও সমকামী আন্দোলনের নেতা জুলহাজ মান্নান এবং তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। জুলহাজ সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল সহকারী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির খালাতো ভাই।

জোড়া খুনের পর হত্যাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় এক পুলিশ সদস্যের সাথে ধ্বস্তাধস্তি হয়। এসময় হত্যাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাদের একটি ব্যাগ ফেলে যায়।

এই ব্যাগে বিভিন্ন আলামতসহ ‘পরবর্তী টার্গেটের’ একটি তালিকাও রয়েছ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই হত্যা মামলার তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তালিকায় কোনো ব্লগার, মুক্তমনা বা সমকামী আন্দোলন কর্মীর নাম নির্দিষ্ট করে লেখা নেই। তবে এই ধরণের কর্মকান্ডের সাথে যারা মম্পৃক্ত তাদের টার্গেট করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

কলাবাগান থানার ওসি জানান, এক খুনীকে  আমরা প্রায় ধরবি ফেলেছিলাম কিন্তু এসব ছেলেদের কাছে এত অস্ত্র ধারণা করতে পারিনি তাই এরা ছিটিকে গেছে। তবে ওই সময় রাস্তায় শ’ খানেক মানুষ ছিলেন কিন্তু তারা কেউ সাহায্য করেন নি বলে আফসোস করেনন ওসি। তিনি বলেন, তারা যদি এগিয়ে আসত তবে অন্তত ২/৩ জনকে ধরা সম্ভহ হতো।

এদিকে, এই খুনের ঘটনায় শনাক্ত সাত ঘাতক আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ডিবি)।

ঘাতকদের গ্রেফতারে রাজধানীসহ সারা দেশে অভিযান চালানো হচ্ছে। যে কোনো সময় তাদের গ্রেফতারের আশা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া ঘাতকরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের সব ইমিগ্রেশন পয়েন্টে কিলিং মিশনের সম্ভাব্য নেতৃত্বে থাকা দু’জনের নাম-ঠিকানাসহ সাতজনের ছবি দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় পুলিশের এসআই মোহাম্মদ শামীম আহমেদ ও নিহতের ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলা দুটির তদন্ত করছে ডিবি। ইতিমধ্যে মামলার তদন্তে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।

সূত্র : ডেইলি স্টার

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল