জেলার নামের বানান পরিবর্তনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জেলার নামের বানান পরিবর্তনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০১৮

জেলার নামের বানান পরিবর্তনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে মিল রেখে দেশের পাঁচ জেলার ইংরেজি বানান পরিবর্তন করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, আরও কয়েকটি জেলার উচ্চারণের সঙ্গে ইংরেজি বানানে পার্থক্য থাকলেও সেগুলো সংশোধন করা হয়নি।

তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রগুলো বলছে, প্রয়োজনে আরও কয়েকটি জেলার ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা হবে।

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় পাঁচটি জেলার ইংরেজি নামের বানান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, থানা গঠনসহ পুনর্বিন্যাস, নতুন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ গঠনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন ও পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত দেয় নিকার।

ইংরেজি বানান পরিবর্তন হওয়া পাঁচটি জেলা হলো চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, যশোর ও বগুড়া। এর মধ্যে নতুন নিয়মে চট্টগ্রামের বানান হবে Chattogram, কুমিল্লার Cumilla, বরিশাল Barishal, যশোর Jashore এবং বগুড়া হবে Bogura। ব্রিটিশ আমলে করা এসব জেলার নামের বানানের সঙ্গে বাংলায় উচ্চারণের মিল ছিল না।

এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই পরিবর্তন করার জন্য দাবি ছিল বলে শুনিনি। তবে এই পরিবর্তন হওয়ায় খারাপ কিছু হয়নি, বরং ভালোই হয়েছে।’

নিকারের এ সিদ্ধান্তের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকে বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে বাড়তি খরচ হবে। কাগজপত্র, সাইনবোর্ডে বানান পরিবর্তনের কাজে এ খরচ হবে।

এ ছাড়া সিলেট, ময়মনসিংহসহ কয়েকটি জেলার ইংরেজি বানান পরিবর্তন না হওয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব জেলারও বাংলা উচ্চারণের সঙ্গে ইংরেজি বানানে পার্থক্য রয়েছে।

নিকারের বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম বলেছিলেন, এই জেলাগুলোর বানান পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল বলে পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও জেলার ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা হবে।

মুন্না নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, ‘নাম পরিবর্তনের ফলে ওই পাঁচ জেলার মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য কাগজপত্রে জেলার নাম পরিবর্তন করা লাগবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পারস্পরিক যোগাযোগসহ বৈদেশিক কাজে বিভিন্ন ডেটাবেইসে নাম পরিবর্তন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ হবে আর কাগজপত্র পরিবর্তন করতে কী পরিমাণ হয়রানি, টাকা খরচ, সময় লাগবে, সর্বোপরি ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’