জৈন্তপুরের পাথর রাজ্যের সম্রাট লিয়াকত: চোরও বলে ধর ধর সাউদও বলে ধর ধর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জৈন্তপুরের পাথর রাজ্যের সম্রাট লিয়াকত: চোরও বলে ধর ধর সাউদও বলে ধর ধর

প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭

জৈন্তপুরের পাথর রাজ্যের সম্রাট লিয়াকত: চোরও বলে ধর ধর সাউদও বলে ধর ধর

সিলেটের পূর্বাঞ্চলের পাথর রাজ্যের ত্রাস ও জৈন্তাপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী ও তার বাহিনীর কাছে জিম্মি জৈন্তার পাথর রাজ্য। জাফলংয়ের পর এখন শ্রীপুর পাথর কোয়ারিতে চলছে এ বাহিনীর প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। পাশাপাশি পাথর তোলার নামে জাফলংয়ের মতো বিরানভূমিতে পরিণত হচ্ছে শ্রীপুর। জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী পাথর রাজ্যের সম্রাট। তার নেতৃত্বে চলছে পাথর রাজ্যে। পুরো পাথর রাজ্যে জিম্মি লিয়াকত বাহিনীর কাছে।  তার নামে থাকা ‘লিয়াকত বাহিনী’র চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গত ২৯ জানুয়ারী বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেন স্থানীয় জনতা।তিনি চোরকে বলে চুরি করতে আর গিরস্থকে বলেন সজাগ থাকতে। আবার সবার সাথে তাল মিলিয়ে অবৈধ পাথর উত্তেলনের প্রতিবাদও জানান। সিলেটি বাসায় একটি প্রবাদ আছে চোরও বলে ধর ধর সাউদও বলে ধর ধর এর রকম। লোক দেখানো অভিযান তিনি কয়েকদিন পর শুরু করেন। আবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি ও প্রদান করেন।

এ বছরের ২৯ জানুয়ারী ছাত্রনেতা মিজান আহমদ রুবেল ও শাহিনুর রহমানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. এখলাছুর রহমান, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর এলাহী সম্রাট, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদির, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদ আহমদ, যুবলীগ নেতা শফিকুর রহমান, ব্যবসায়ী আবদুল আহাদ, নজির আহমদ, আলী আকবর, আফজল মিয়া, আবদুস শুক্কুর, কবির আহমদ, সুলেমান আহমদ কন্টু, বিলাল আহমদ, শাহীন আহমদ ও এবাদ উল্লাহ।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, শ্রীপুর পাথর কোয়ারিতে ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরের মতো নদীতে গর্ত খনন করে পাথর তুলে আসছেন। লিয়াকত বাহিনীর শীর্ষ ক্যাডার ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক রাজার নেতৃত্বে ২০-৩০ জনের একটি গ্রুপ সম্প্রতি অবৈধভাবে কোয়ারি দখলের চেষ্টা চালায়। এছাড়া তার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। তাছাড়া স্থানীয় এমপি ইমরান আহমদের নাম ভাঙিয়ে এ গ্র“প নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে নিরীহ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে লুটপাট চালাচ্ছে। সমাবেশ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয় প্রশাসন যদি সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি বন্ধ না করে তাহলে পাথর কোয়ারিতে যারা অবৈধ হস্তক্ষেপ করবে তাদের হাত ভেঙে দেয়া হবে।

গত ১ নভেম্বর জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষা ও বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে পর্যটন উন্নয়ন ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটি এবং জাফলং পর্যটন উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম‘র কাছে স্মরকলিপি প্রদান কনে। স্থানীয় এমপির আশির্বাদে চালক থেকে রাতারাতি আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী নেতৃত্বে জাফলং থেকে শত শত নারী-পুরুষ শ্রমিক‘ নিয়ে মানববন্ধন ও স্মরকলিপি প্রদান কের তিনি।

কিন্তুক এলাকার সূত্র জানান যায় যে,জাফলং এলাকায় বোমা মিশিন‘র নির্যন্তন করেন লিয়াকত আলী। তবে আজ নিজের অপরাধ ডাকতে নিজেই বোমা মিশিনের বিরুদ্ধে জাফলং বোমা মিশিন বন্ধ ও পরিবেশ রক্ষার দাবীতে সিলেট জেলা প্রশাসক‘র মাধ্যামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবারে স্মরকলিপি প্রদান করা করেন। যারা বোমা মিশিন পরিবেশ ধ্বংস করছে তারা আজ পরিবেশ রক্ষার দাবীতে মাববন্ধন পালন করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পর্যটন উন্নয়ন ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ফয়েজ আহমদ বাবর, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, সেভ দ্যা হেরিটেজ এন্ড এনভায়রণমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই আল হাদী, জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী প্রমুখ।
এদিকে সচেতন এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই পরিবেশ-প্রকৃতি ধ্বংসে জড়িত স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক। সবাই একাট্টা হয়ে সাবাড় করছে জাফলং। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্পর্ক সাপে-নেইলে হলেও পাথর কান্ডে গলায় গলায় ভাব তাদের।

অপরূপ জাফলং- কথাটি এখন অতীত। অনিয়মতান্ত্রিক ও অবৈধপন্থায় পাথর উত্তোলনের ফলে প্রকৃতির নিজস্বতা হারিয়েছে জাফলং। পাথরখেকোদের লালসায় পিয়াইন নদী হারিয়েছে গতিপথ। খোয়া গেছে নদীর তীর, রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ। বাড়িঘর বিলীন করেও থেমে নেই ধ্বংসযজ্ঞ।

এবার পাথর খেকোদের রাক্ষসী থাবায় হারাতে বসেছে কান্দুবস্তি, নয়াবস্তি, জুমপাড় তথা খাসিয়াদের সংগ্রামপুঞ্জির সবুজায়নটুকুও। এখন কেবল এটুকুই ধ্বংসের বাকি। সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমন ধ্বংসলীলা চালাতে এখন নামানো হয়েছে হাজার খানেক বোমা মেশিন। এসব মেশিন যেনো খাবলে খাচ্ছে জাফলংয়ের অবশিষ্ট বসতি এলাকা।

স্থানীয়রা বলেন, জোর যার, মুল্লুক তার। ওখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি একাট্টা। আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতারা মিলেমিশে শাসন করেন জাফলং। তারাই প্রশাসন সামলান। উপরের রাজনৈতিক নেতাদের দৈনিক ও সাপ্তাহিক হারে টাকা দিয়ে চালান বোমা মেশিন। এই টাকার ভাগ কোথায় না যায়? এমন উল্টো প্রশ্ন স্থানীয় এক বাসিন্দার।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বোমা মেশিন দিনে বন্ধ থাকে, সচল হয় রাতে। মেশিনের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এলাকা। ঘরবাড়ি থরথর করে কাঁপতে থাকলেও কাঁপে না প্রশাসন। দানবের অবিরত শব্দে বিঘ্নিত শিশু কিশোরদের পড়ালেখার পরিবেশ। স্বাস্থ্য ঝুঁকি তো আছেই।

খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেলো আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। বোমা মেশিন থেকে শুরু করে সব কিছুর শেল্টারদাতা স্থানীয় এমপির আশির্বাদে চালক থেকে রাতারাতি কোটিপতি জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী