জৈন্তাপুরে মৃতপ্রায় গরু জবাই করে বিক্রয়ের চেষ্টা, প্রশাসনের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জৈন্তাপুরে মৃতপ্রায় গরু জবাই করে বিক্রয়ের চেষ্টা, প্রশাসনের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

জৈন্তাপুরে মৃতপ্রায় গরু জবাই করে বিক্রয়ের চেষ্টা, প্রশাসনের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর বাজারে মৃত প্রায় গরু কোন প্রকার পরিক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই জবাই করে বিক্রয়ের চেষ্টা। সংবাদ পেয়ে গরু জব্দ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ইন্সপেক্টার ও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। পরিক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া বাজারে গরু জবাই ও বিক্রয়ের দায় এড়াতে পারেন না বাজার ইজারাদার।

জৈন্তাপুর বাজার সূত্রে জানাযায়, ২৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় জৈন্তাপুর বাজারের ভিতর গরুর বাজার সেডে সীমান্তে প্রশাসনের সহয়োগিতায় চোরাই পথে ভারত হতে নিয়ে আসা রোগাক্রান্ত একটি গরু হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে কোন প্রকার স্বাস্থ্য পরিক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই বাজারের ইজারাদারের সহযোগিতায় জবাই করে সিলেট শহরে বিক্রয়ের জন্য লেগুনা গাড়ী নং সিলেট-ছ-১১-১২৮৯ যোগে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। ডাক্তারী পরিক্ষা নিরিক্ষা এবং কোন প্রকার ছাড়পত্র না নিয়ে এবং হাট বাজার না থাকাবস্থায় মৃতপ্রায় গরু জবাই করে মাংস বিক্রয়ের চেষ্টা করেন চেরাকারবারী সিন্ডিকেটের লোকজনরা।

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, মসজিদের ইমাম সাহেব গরু জবাইর জন্য বলেলে তিনি গরু জবাই করতে যাননি। পরে নিজেরা গরুটি জবাই করে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এসময় জবাইকৃত পশুর পচা দূর্গন্ধ বাজার জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী উপজেলা স্বাস্থ্য ইন্সপেক্টারকে সংবাদ দেয়।

সংবাদ পেয়ে স্বাস্থ্য ইন্সপেক্টার শহিদুল ইসলাম মোল্লা ও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং জবাইকৃত পশুর মাংস জব্দ, মাংস বহনকারী লেগুনা আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে নিয়ে যান।

এলাকাবাসী আব্দুল কুদ্দুছ, রহিম আলী, মোবারক হোসেনে, বাবুল মিয়া, আব্দুল মন্নান সহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তিরা বলেন, প্রায়ই জৈন্তাপুর বাজারে এরক ঘটনা ঘটে আসছে। এলাকাবাসী বলেন বাজার এরকম ভাবে গরু জবাই করা কোন অবস্থায় ইজারাদার দায় এড়াতে পারেন না। বাজার ইজারার শর্ত অনুযায়ী বাজারে পশু জবাই করতে হলে অবশ্যই প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার মাধ্যমে ছাড়পত্র নিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে জবাই করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু ইজারাদার তা না করে প্রায়ই এরকম ঘটনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া অনেক সময় সীমান্ত এলাকায় গরু মারা গেলে চেরাকারবারী চক্রটি দ্রুত জবাই করে সিলেট শহরের বিভিন্ন মাংসের দোকানে ও হোটেলে সরবরাহ করছে বলে জানান তারা জানান।

এ বিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর বাজার ইজারাদার সিদ্দিকুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বাজারে গেলেও থাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ইন্সপেক্টার মোঃ শহিদুল ইসলাম মোল্লা ও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জহিরম্নল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং পঁচা দৃগন্ধপশুর মাংস ও বহনকারী লেগুনা গাড়ীটি আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে আসি। স্যার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পরভীন বলেন, মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করে আটককৃত গরুর মালিক লুৎফুর রহমানকে ৩০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, দূগন্ধযুক্ত পঁচা মাংস সমুহ জনম্মুখে পুড়ে ফেলা হয়েছে।

এদিকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা টিএচও আমিনুল হক সরদার কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন রোগ জীবাণু সংক্রান্ত এবং মৃত পশু জবাই করে বিক্রি এটি মহা অপরাধ, এই মাংস খেলে মানুষের শরীলে মারাত্মক ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •