জৈন্তাপুর সদরে অতি বৃষ্টিপাতের ফলে চৌরিহাটি গৌরিসংকর-কমলাবাড়ি সহ বিভিন্ন রাস্তাঘাটের বে-হাল দশা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

জৈন্তাপুর সদরে অতি বৃষ্টিপাতের ফলে চৌরিহাটি গৌরিসংকর-কমলাবাড়ি সহ বিভিন্ন রাস্তাঘাটের বে-হাল দশা

প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২০

জৈন্তাপুর সদরে অতি বৃষ্টিপাতের ফলে চৌরিহাটি গৌরিসংকর-কমলাবাড়ি সহ বিভিন্ন রাস্তাঘাটের বে-হাল দশা
জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের গৌরিসংকর-কমলাবাড়ি,চৌরিহাটি,যশপুর সহ বিভিন্ন পড়া-মহল্লার রাস্থাঘাট ঘাটের বে-হাল দশা। দীর্ঘদিন থেকে এসব গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কার ও মেরামত কাজ না করায় স্থানীয় জনগন কে চলাচলে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। শুধু রাস্তাঘাট নয় উপজেলা সদরের খাল-নালা-ড্রেইন ও পানি নিষ্ক্রাসেন ব্যবস্থায়ও বে-হাল দশায় পরিনত হয়েছে। সম্প্রতি সময়ে কয়েক দফা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলা সদরের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের ব্যাপক খয়ক্ষতি ও ভাঙ্গন এবং বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সদরের যশপুর, গৌরিসংকর-কমলাবাড়ি, জাঙ্গালহাটি, চৌরিহাটি, উজানীনগর বন্দরহাটি, ফুলবাড়ি, গুয়াবাড়ি, রাজবাড়ি মাঠ সংলগ্ন পশ্চিম রাস্তা,লামাপাড়া রাস্তা ও দর্জিহাটির পশ্চিম অংশ রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে এসব রাস্তা সংস্কার করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয় নাই। তবে মাঝে-মধ্যে নামে মাত্র উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ১শ অথবা ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য রাস্তা সংস্কার ও মেরামত কাজ করতে দেখা যায়। এছাড়া খাল-নালা,ড্রেইন সংস্কার কাজ না করায় সামান্য বৃষ্টিপাত হলে বাস-ষ্টেশন এলাকা এবং উপজেলা পরিষদের সামনে হাটু সমান পানি লেগেই থাকে। উপজেলা সদরের পানি নিষ্ক্রাসন ব্যবস্থায় বেশিরভাগ ড্রেইন ভরাট ও স্থানীয় বাসিন্দাগণ দখল করে স্থায়ীভাবে অবকাঠামো এবং বসতবাড়ি নির্মাণ করে রেখেছেন। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন উজানী নগর থেকে শুরম্ন হয়ে খাসিয়াহাটি বাস-ষ্টোশন এবং পানিয়ারহাটি হয়ে নয়াগাং নদীতে চলমান মুল ড্রেইন অনেকট বে-দখল হয়ে গেছে। অবৈধ ভাবে দখলে থাকা এসব সরকারী খাল-নালা- ড্রেইন দখলদারদের হাত থেকে উদ্বার করতে স্থানীয় প্রশাসন কে এগিয়ে আসা উচিত বলে সচেতন জনগন মনে করেন।সামান্য বৃষ্টিপাত হলে কমলাবাড়ি-পূর্ব-গৌরিসংকর রাস্তা দিয়ে স্থানীয় জনগন কে চলাচল করতে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। কাদাযুক্ত এবং হাটু সমান পানি লেগেই থাকে। অনেক সময় তিন চাক্কার গাড়ি চলাচল করতে নানা অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ আহমদ সহ গ্রামের কমলাবাড়ি-পূর্ব গৌরিসংকর রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণ কাজের দাবী জানান। পূর্ব গৌরিসংকর -কমলাবাড়ি রাস্ত্মা দিয়ে প্রতিদিন গুয়াবাড়ি সহ বিভিন্ন এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে সহ নানা শ্রেনী পেশার লোকজন এই রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন চৌরিহাটি রাস্ত্মা বিগত অন্ত্মত ১০ বছর থেকে মেরামত ও সংস্কার কাজ করা হয় নাই। মাত্র ৫শ মিটার রাস্ত্মার বেশিরভাগ অংশ ভাঙ্গন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিজপাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান বাবুল বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় অথচ নিজের পাড়ার রাস্তাটি বিগত ১০ বছর থেকে এখন সংস্কার করা হয় নাই। উজানী নগর মহল্লার বাসিন্দা সাংবাদিক মীর মো: শোয়েব আহমদ জানান, জাঙ্গালহাটি হয়ে ইমরান আহমদ কলেজ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করা স্থানীয় জনগনের দীর্ঘদিনের একটি দাবী ছিল। প্রশাসনের সংশিস্নষ্ট কর্তপক্ষের কাছে বলার পরও জনগুরম্নত্বপূর্ন রাস্তাটি মেরামত করা হয় নাই। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত ছাত্র/ছাত্রী স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে থাকেন। উপজেলা প্রকৌশলী রমেন্দ্র হোম চৌধুরী জানান, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলা সদরের ভাঙ্গা রাস্তাঘাটের একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। সরকারী বরাদ্ধা পাওয়ার সাথে সাথে এসব রাস্তাঘাট মেরামত ও সংস্কার করা হবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির ফলে উপজেলা সদরের যেসব রাস্তাঘাট নষ্ট ও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে চলিত অর্থ বছরে উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে মেরামত ও সংস্কার কাজ করার চেষ্টা করা হবে। উপজেলা সদর-গুয়াবাড়ি রাস্ত্মা বন্যায় ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় আমরা জরম্নরী ভিত্তিতে সংস্কার কাজ করেছি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা সদরের ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাঘাট পরিদর্শন করে মেরামত ও সংস্কার করার জন্য একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল