টার্গেট ২০ নভেম্বর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

টার্গেট ২০ নভেম্বর

প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭

টার্গেট ২০ নভেম্বর

ঢাকা-কক্সবাজার শোডাউনের পর বিএনপির পরবর্তী টার্গেট ২০ নভেম্বর। ওইদিন দেশব্যাপী একযোগে শোডাউন করতে চায় বিএনপি। ২০ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ৫০তম জন্মদিন। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইতিমধ্যে বিএনপি সব জেলায়, উপজেলায় শোডাউনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। বেগম জিয়াও ওইদিন ঢাকা থেকে বগুড়ায় সড়কপথে যাবার চিন্তাভাবনা করছেন। সেখানে তিনি তারেক জিয়ার ৫০তম জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।

বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন,’আমরা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ঘটা করে করতে চেয়েছিলাম। এজন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপিকে বলা হয়েছে, ৭ নভেম্বর কোনো সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। ওই সময়ে বাংলাদেশে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।‘ একারণে ৭ নভেম্বর বিএনপি ঘরোয়া আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে করবে। ২০ নভেম্বর বিএনপি বড় রকমের শোডাউন করতে চায়।

জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ১৯৬৭ সালের ২০নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। এ বছর তাঁর ৫০বছর পূর্ণ হবে। এই উপলক্ষে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে, দলের তারেকপন্থী হিসেবে পরিচিত তরুণরা আরেকটি সাংগঠনিক শক্তির মহড়া দিতে চায়। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, লণ্ডন থেকে ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেগম জিয়াও দিনটিতে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে।

বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, ঢাকা-কক্সবাজার রোড শো সফল হয়েছে। বিশেষ করে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে। এরকম আরও কিছু শোডাউন বিএনপি করবে। এর মাধ্যমে বিএনপি একটি জোয়ার সৃষ্টি করতে চায়।

তবে, সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে খবর আছে, বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নভেম্বরে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। ৭ নভেম্বর বিএনপি ‘বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস পালন করে। কিন্তু ওই দিন বড় কোনো কর্মসূচি নেই। বিএনপির সব পরিকল্পনা এখন ২০ নভেম্বরকে ঘিরে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আগে বিএনপি নিজেদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে, যেন আন্দোলন, নির্বাচন দুটি পথই কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তবে এর একটি অন্যদিকও আছে। তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা শেষ পর্যায়ে। যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে এই মামলার। তাই এই রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর জন্যই বিএনপি ২০নভেম্বর বেছে নিয়েছে। সেজন্য প্রস্তুতিও চলছে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, ‘দেলোয়ার হোসেন সাইদীর রায়ের পর যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল,প্রয়োজনে তারেক জিয়ার রায়ের পর তারচেয়েও ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে।’