টিলা কেটে উন্নয়নকাজ, হুমকির মুখে বসতি

প্রকাশিত: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬

টিলা কেটে উন্নয়নকাজ, হুমকির মুখে বসতি

সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকার গোপালটিলায় দুই সপ্তাহ আগে সিলেট সিটি করপোরেশনের সহায়তায় শ্রীশ্রী গোপাল জিউর আখড়ার উন্নয়নকাজ শুরু হয়। কাজ করতে গিয়ে টিলার চূড়ার মাটি কাটায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে আশপাশের কয়েকটি বসতি।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গতকাল সোমবার গোপালটিলা ভূমি আত্মসাৎ প্রতিরোধ আন্দোলন নামে স্থানীয় একটি সংগঠন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেয়।
গতকাল গোপালটিলায় গিয়ে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের অর্থ-সহায়তায় মন্দির কমিটির তত্ত্বাবধানে ওই উন্নয়নকাজ চলছে। মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে টিলার মাটি সমান্তরাল করার কাজ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে কাটা হয়েছে গাছও। টিলার চূড়া থেকে ১৬টি বড় গাছ কেটে মাটি খনন করা হয়েছে। এই মাটি আশপাশে ফেলায় সেগুলো বসতঘরগুলোর আঙিনায় গিয়ে পড়েছে। এভাবে মাটি কাটায় টিলার পূর্ব ও উত্তর দিকের সাতটি ঘর হুমকির মুখে পড়েছে।
আখড়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণুপদ দে বলেন, এ কাজ করায় আখড়ার ৩৩ শতক জায়গা বের হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন ৫৩ শতক জায়গায় আখড়ার বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির কাজ চলবে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে এ কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কিন্তু এতে আশপাশের এলাকার বসতিগুলো ঝুঁকির মুখে চলে যাওয়ার ব্যাপারে তাঁদের কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গোপালটিলা ভূমি আত্মসাৎ প্রতিরোধ আন্দোলনের স্মারকলিপিতে বলা হয়, নগরের পূর্ব দিকে সিলেটের এমসি কলেজের পার্শ্ববর্তী টিলাগড় এলাকায় টিলার ভূমি আত্মসাৎ ঠেকাতে আন্দোলন হয়। সংঘবদ্ধ একটি ভূমিখেকো চক্র আখড়া কমিটির ভেতরে থেকে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আখড়া কমিটির কথিত উন্নয়নকাজ শুরুর নামে আশপাশের এলাকার হিন্দু বসতিগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।
এদিকে মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে টিলা কাটার খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর টিলা কাটা বন্ধ করে দেয়। গতকাল বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে একটি পরিদর্শক দল জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে। এ সময় পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক নাজমুল ইসলাম জানান, প্রায় চার বছর আগে টিলার কিছু অংশের মাটি কাটার জন্য একটি আবেদন করেছিল আখড়া কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সেটি দেখিয়ে তারা টিলার চূড়ায় যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটছিল। যেকোনো টিলা কাটা আইনত নিষিদ্ধ। এ বিষয়টি তাদের জানিয়ে টিলার প্রকৃতি পরিবর্তনসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়। নির্দেশনা পাওয়ার পর আখড়া কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ রেখেছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ধারাবাহিকতায় ওই মন্দিরে অনুদান দেওয়া হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল